কবরী : অভিনেত্রী থেকে পরিচালক

কবরী : অভিনেত্রী থেকে পরিচালক

কবরী—এ নামটি শুনলে আজও অনেকে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। গত শতাব্দীর ষাট ও সত্তর দশকে নায়িকা হিসেবে এদেশের চলচ্চিত্র জগতে এই প্রয়াত অভিনয়শিল্পী বিচরণ করেছেন দাপটের সঙ্গে। এমনকি আশির দশকেও নায়িকা হিসেবে তাঁকে দেখা গেছে। কবরী অভিনীত চিরসবুজ কয়েকটি ছবি হলো—সুতরাং, ময়নামতি, তিতাস একটি নদীর নাম, রংবাজ, সুজন সখী, সারেং বউ, বধূ বিদায়, দেবদাস। ২০০৬ সালের ১৯ মে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ‘আয়না’। তখন নতুন পরিচয়ের দ্যুতিতে উদ্ভাসিত কবরীর মুখোমুখি হয় ‘অন্যদিন’। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মোমিন রহমান। এই আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ পুনর্মুদ্রিত হলো, গত ১৯ জুলাই তাঁর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে।

মোমিন রহমান : আপনার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র হচ্ছে, ‘একাত্তরের মিছিল’ নামের একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র। এ ছবিটির কথা বলুন।

কবরী : ‘একাত্তরের মিছিল’ হলো শিশু একাডেমী প্রযোজিত মুক্তিযুদ্ধের একটি চলচ্চিত্র। আমিরুল ইসলামের গল্পের ছায়া অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেছিলাম। বলাই বাহুল্য, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা, নানা অভিজ্ঞতার প্রতিফলন রয়েছে এ ছবিতে। আমি হুবহু আমিরুলের গল্প থেকে ছবিটি নির্মাণ করি নি।

মোমিন রহমান : ‘একাত্তরের মিছিল’-এর আগে বোধহয় শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস ‘জননী’র চলচ্চিত্ররূপ দিতে চেয়েছিলেন ?

কবরী : হ্যাঁ। আমি, উদয়ন চৌধুরী এবং আখতারুজ্জামান মিলে ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলাম। কিন্তু যে-কোনো কারণেই হোক, ছবিটি আর নির্মাণ করতে পারি নি।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’ নির্মাণের চিন্তা মাথায় কীভাবে এল ?

কবরী : শিশু আর নারীদের নিয়ে আমি তো অনেকদিন ধরেই কাজ করি। এই সূত্রে এশিয় সারভাইবাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও আমি কাজ করেছি। কাছ থেকে দেখেছি এসিডদগ্ধ নারীদের অবস্থা। ফলে আমি ভাবি, এই মেয়েদের নিয়ে ছবি করলে কেমন হয় ? আমার এই ভাবনাটি আমি প্রকাশ করি ‘প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমানের কাছে। তিনি আমাকে মূল্যবান পরামর্শ দিলেন। আমার এক ভালো বন্ধু—খুশি কবির—তিনি উৎসাহিত করলেন এবং বললেন, স্কয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। আমি যোগাযোগ করি এবং স্কয়ারের এমডি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু’র সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তার কাছে আমি ছবি বানাবার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করি এবং ‘আয়না’র গল্পটি বলি। ‘আয়না’র গল্পটি কিন্তু আমার গল্প। যা আমি জীবনে দেখেছি এবং আশেপাশেও লক্ষ করেছি। গল্পটি বলার পর অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু রাজি হন, ছবিটি প্রযোজনা করার জন্যে। কেননা তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠান এসিডদগ্ধ মেয়েদের সাহায্য করে থাকেন। এই হলো ‘আয়না’ নির্মিত হওয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’তে কী ম্যাসেজ রয়েছে ?

কবরী : আমি দেশ-বিদেশের বহু ভালো ছবি দেখেছি। এই দেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বিশ্বাস করি যে, ছবিতে কোনো ম্যাসেজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো চলচ্চিত্রকার ছবি নির্মাণ করেন না। আমিও করি নি। তবে হ্যাঁ, একটি চিন্তা-ভাবনা থেকে ‘আয়না’ নির্মাণ করেছি। আশা করি, ছবিটি দেখে দর্শকরা তা বুঝতে পারবে। অন্য কথায়, তারা নিজেরাই ম্যাসেজ খুঁজে নেবে।

মোমিন রহমান : আপনি বলেছেন যে, ‘আয়না’র গল্পটি আপনার। আপনি জীবনে যা দেখেছেন এবং আশেপাশে লক্ষ করেছেন, সেটাই ছবিতে তুলে ধরেছেন। তো এটা কি বলা যায় যে, ‘আয়না’তে আপনার আত্মজৈবনিক উপাদান রয়েছে।

কবরী : হ্যাঁ, এটা বলা যায়। এই অভিজ্ঞতা আমি লিখতেও পারতাম। পারতাম কোনো পত্রিকায় তা ছাপাতে। কিন্তু কোনো লেখা বা সাহিত্য পড়ে পাঠককে তা কল্পনা করে নিতে হয়। অন্যদিকে একটি চলচ্চিত্রে একজন দর্শক একই সঙ্গে দেখতে এবং শুনতে পায়। অর্থাৎ ইমেজ ও সাউন্ড নিয়ে খেলা করেন একজন চলচ্চিত্রকার। এই বিষয়টি আমার ভালো লাগে। ভীষণভাবে উপভোগ করি। তাই ‘আয়না’ নির্মাণ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’ নির্মাণ করতে গিয়ে কি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন ?

কবরী : তা তো হয়েছিই। অনেক সমস্যারই মুখোমুখি হয়েছি। সেই সমস্যার প্রকৃতি ও ধরন ভিন্ন। যেমন, চিত্রনাট্য লিখতে গিয়ে এক ধরনের সমস্যায় পড়য়ে হয়েছে আমাকে। আবার, কাস্টিং-এর ক্ষেত্রে অন্য ধরনের সমস্যা। ছবিটির একটি প্রধান চরিত্র—কুসুম—এই চরিত্রে যে ধরনের মেয়ে চাইছিলাম, তা পাচ্ছিলাম না। আবার টেকনিক্যাল সমস্যা—যাদের সঙ্গে কাজ করব আমি—তাদেরও সময়মতো পাচ্ছিলাম না। সবচেয়ে সমস্যা হয়েছে এফসিডিতে। সেখানে সাউন্ড, ডাবিং, এডিটিং, ল্যাব-এর কাজ—এইগুলো করতে গিয়ে বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোথাও কোনো কিছুই ঠিকমতো পাই নি। সুষ্ঠুভাবে, ঠান্ডা মাথায় এবং স্বস্তিতে কাজ করতে পারি নি। তারপরেও এফডিসি যেহেতু আমার ভালোবাসার জায়গা, আমাকে অনেকেই ভালোবাসে, তাই সমস্যার মুখোমুখি হলেও তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। তবে যদি আরও সহযোগিতা পেতাম, তাহলে আরও ভালো কাজ হতে পারত।

মোমিন রহমান : চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি তো কঠিন। একটি জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে তুলনা করা হয় চলচ্চিত্রের পরিচালককে। তো ছবি পরিচালনার ব্যাপারটি আয়ত্ত করলেন কীভাবে ? ছবি প্রযোজনা করতে গিয়ে নাকি ছবিতে অভিনয় করতে করতে ?

কবরী : না, বিষয়টি তেমন নয়। অভিনয় করার সময় পরিচালনার ব্যাপারটি তেমন ফিল করা যায় না। অভিনয়ের দিকেই সমস্ত মনোযোগ থাকে। এমনকি ছবি প্রযোজনার সময়েও বোঝা যায় না ছবি পরিচালনার দায়িত্বটি। অন্তত আমি বুঝতে পারি নি। আর আমি অভিনয় করতে করতে কিন্তু ছবি পরিচালনায় আসি নি। মাঝখানে একটি গ্যাপ ছিল। বিরাট গ্যাপ। সেই সময় আমি ভাবছিলাম, কী করা যায় ? ছবি পরিচালনার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু এ বিষয়টি আমার কাছে ভীষণ কঠিন মনে হতো। তাই একটি ভয় কাজ করছিল। পরে ভাবলাম যে, কত লোক তো ছবি পরিচালনা করছে। আমিও দেখি না চেষ্টা করে। সবাই যদি সহযোগিতা করে, আমিও নিশ্চয় ছবি পরিচালনা করতে পারব। এই ভেবেই আমি ছবি পরিচালনার ব্যাপারটা শিখেছি।

মোমিন রহমান : কেউ কেউ বলেন যে, শুটিং করার সময়ই সম্পাদনার ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হয়। নইলে অপ্রয়োজনীয় অনেককিছুই ক্যামেরাবন্দি হয়ে যাবে। ছবির নির্মাণ খরচ বাড়বে। এ প্রসঙ্গে কী বলেন ?

কবরী : যারা এ ধরনের কথা বলেন, তারা মিথ্যা বলেন। সম্পাদনার টেবিলে না যাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি মাথায়ই থাকে না। সম্পাদনার সময়ই মনে হয় যে, বোধহয় এই শটটি আরও একটু লম্বা হওয়া উচিত ছিল। এই দৃশ্যে একটি প্রয়োজনীয় শট নেওয়া উচিত ছিল। এটা সত্যি যে, শুটিং করার সময় একটি রাফ ধারণা থাকে কোনো দৃশ্য বা শটের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে। ক্যামেরাম্যান এই সময় পরিচালককে সাহায্য করে থাকেন। কিন্তু তা পুরোপুরি ঠিক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সম্পাদনার সময়েই বিষয়টি ধরা পড়ে। আমার মনে হয় যে, দশ-বারোটি ছবি নির্মাণ করার পরে কেউ বুঝতে পারেন শট অথবা দৃশ্যের দৈর্ঘ্য কেমন হবে। তারপরও কখনো কখনো তারা ভুল করে ফেলেন। এটাই স্বাভাবিক। কেননা সম্পাদনার সময়ে শুট করা ফিল্মের অনেক ফেলতে হয়, অনেক জোড়া দিতে হয়। এ প্রসঙ্গে ‘আয়না’র একটি গানের কথা বলি। সাবা ও ফেরদৌস দেখা করে ওদের বস্তির পেছনে রেললাইনের ধারে। রেললাইন ধরে ওরা হাঁটতে থাকে আর কথা বলতে থাকে। এ পর্যায়ে সাবা একটি কলম উপহার দেয় ফেরদৌসকে। তারপর ঢাকা শহর ঘুরে দেখার প্রসঙ্গ আসে। ফেরদৌস সাবাকে কথা দিয়েছিল যে, ঢাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখাবে, তখন মিক্সড দৃশ্য দেখাই আমি। বিভিন্ন পার্ক ও জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ওরা। এখানে আমার অভিনীত প্রথম ছবি ‘সুতরাং’-এর একটি গান ‘তুমি আসবে বলে’ ব্যবহার করেছি আমি।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’ নাকি তথাকথিত নায়ক-নায়িকার ছবি নয়। সত্যি ?

কবরী : হ্যাঁ। আমি হিরো-হিরোইন বলি না। আমার ছবিতে প্রতিটি চরিত্রেরই গুরুত্ব রয়েছে। কেননা একটি চরিত্র ছাড়া যেমন কোনো ছবি শেষ হয় না, তেমনি সাপোর্টিং অ্যাক্টর-অ্যাকট্রেস ছাড়াও ছবি নির্মিত হবে না। তাই চিত্রনাট্যের ডিমান্ড অনুযায়ী যে চরিত্রের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করেছি আমি। সবকিছুই ঠিক করে দিয়েছি আমি। যেমন, ‘আয়না’তে সাবা একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। আমি লক্ষ করেছি, গার্মেন্টসে যাওয়ার সময় মেয়েরা সাজগোজ করে এবং সালোয়ার-কামিজ পরে যায়। বাড়িতে ওরা সাধারণভাবে থাকে এবং শাড়ি পরে। ছবিতে আমি এমনটিই রেখেছি।

মোমিন রহমান : কুসুম চরিত্রে সাবা কেমন করেছে ?

কবরী : এক কথায় বলব, সাবা চেষ্টা করেছে কুসুম চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে।

মোমিন রহমান : ফেরদৌসের পারফরমেন্স সম্পর্কে বলুন।

কবরী : ফেরদৌস তো সব সময়ই ভালো করে। এ ছবিতেও ভালো করেছে। তবে আমি আমার মতো করে এ ছবিতে ওকে দিয়ে অভিনয় করিয়েছি। একজন পরিচালকের নিজস্ব স্টাইল থাকে, ভিন্নতা থাকে। আমার ছবিতেও ভিন্নতা রয়েছে। তাই আমি ফেরদৌসের মতো শিল্পীকেও একটু অন্যভাবে দেখিয়েছি ছবিতে। যেমন, ওকে পুরোনো দিনের প্যান্ট-শার্ট পরিয়েছি, লুঙ্গি পরিয়েছি। রান্না পর্যন্ত করেছে সে।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’য় গান রয়েছে কয়টি ? এগুলো কি বিনোদন হিসেবে ছবিতে এসেছে ?

কবরী : ছবিতে চারটি গান রয়েছে। দুটি বিয়ের গান আছে। একটি গ্রামের অন্যটি শহরের। আর একটি গান রয়েছে একটি সিচুয়েশনে যখন কুসুমের বিয়ে ঠিক হয়, তখন সে মনোভাব ব্যক্ত করে গানে—‘আমি এমন একটি মানুষ চাই’। এছাড়া ‘তুমি আসবে বলে’ গানটির কথা তো আগেই বলেছি। এখানে শুরুতে এবং শেষে কুসুম ও ফেরদৌসের ড্রেস ঠিক থাকে। মাঝখানে নানা পোশাকে দেখা যায় ফেরদৌস ও কুসুমকে। অর্থাৎ আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, শহরে এসে শহরের চাকচিক্যের ছোঁয়া লেগেছে। পাশাপাশি মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কুসুম গার্মেন্টসে চাকরি পাওয়ায় ওর মাঝে পরিবর্তন এসেছে। নিজের ইচ্ছেমতো পোশাক কেনার সামর্থ্য সে অর্জন করেছে।...বিনোদনের কথা বলছেন ?  কেউ যদি মনে করে, আমি বিনোদন হিসেবে গানকে ব্যবহার করেছি ছবিতে, তো করুক। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলেই সে ভিন্ন কিছু আবিষ্কার করবে।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’র আবহসংগীতের ক্ষেত্রে আপনার কোনো সাজেশন ছিল কি ?

কবরী : অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সাজেশন অনুযায়ী আবহসংগীত করেছে ইমন সাহা।

মোমিন রহমান : অন্য প্রসঙ্গে যাই। সুভাষ দত্তের নির্দেশনায় কয়েকটি ছবিতে আপনি অভিনয় করেছেন। আর আপনার পরিচালিত ‘আয়না’তে সুভাষ দত্ত অভিনয় করেছেন। কেমন লাগছে তাঁকে নিয়ে কাজ করতে ?

কবরী : দত্তদা এ ছবিতে কাজ করেছে কুসুমের বাবার চরিত্রে। গ্রামের এক সাদাসিধা মানুষ—যিনি একতারা হাতে গান করে সংসার চালায়। একটি কথা বলি, দত্তদাকে এই চরিত্রে নেওয়ার ব্যাপারে শুরুতে আমি ভাবি নি। আমার মাথায় এই বিষয়টি ঢুকিয়ে দেন স্কয়ারের এমডি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।...আমি যখন দত্তদা’র ‘সুতরাং’ ছবিতে অভিনয় করি, তখন বুঝতেই পারি নি যে, কী পরম প্রাপ্তি ঘটেছে জীবনে। আসলে বোঝার মতো বোধশক্তিই তখন আমার ছিল না। কিন্তু ‘আয়না’য় অভিনয় করার অফার নিয়ে আমি যখন দত্তদা’র বাসায় গেলাম আর তিনি রাজি হলেন কাজ করতে, তখন আমার মনে হয়েছিল যে, এ আমার জীবনে বড় পাওয়া। আমি কোনোদিনই ভুলব না তাঁর অবদানের কথা। এখন আমার মনে হচ্ছে, একটি স্রোত ঘুরেফিরে যেন আবার উৎসে ফিরে গেছে।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’তে আপনি অভিনয় করেছেন একজন নারী অধিকার কর্মীর ভূমিকায়। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ের ব্যাপারটি কেমন উপভোগ করেছেন ?

কবরী : না, উপভোগ করতে পারি নি এবং তা পরিচালনার দায়িত্বের কারণেই। ডাবিংয়ের সময় আমি খেয়াল করেছি, অন্যদের দিকে নজর দিতে গিয়ে আমি নিজেরটা মিস করছি। আবার এটাও ঠিক যে, নিজের পরিচালিত ছবিতে অভিনয়ের লোভও ছাড়তে পারি নি।

মোমিন রহমান : ‘আয়না’ নির্মাণের সময় কোনো মজার ঘটনা ঘটেছে ?

কবরী : মজার নয়, বরং বিড়ম্বনার ঘটনাই ঘটেছে। যেমন, গাজীপুরের পুবাইলের ভাদুনে আউটডোরের কাজ করার সময় শুটিংয়ের এক পর্যায়ে চারদিক অন্ধকার করে বৃষ্টি নামল। আমরা সবাই পলিথিনের আবেষ্টনীর ভেতরে ক্যামেরা-রিফ্লেক্টরসহ ঢুকলাম। তবে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হয়েছিল এফডিসিতে, রেললাইন ধরে যখন সাবা ও ফেরদৌস হাঁটছে, তখন শুটিং দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছিল। কাজ করতে কষ্ট হয়েছিল ঠিকই কিন্তু এটাও অনুভব করেছি যে, এত বছর ধরে চলচ্চিত্র থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন আমি। তারপরও মানুষ আমাকে খুবই ভালোবাসে!

মোমিন রহমান : আপনার আগামী ছবির কথা বলুন।

কবরী : আগামীতে আমি ইমদাদুল হক মিলনের ‘প্রিয়’ উপন্যাস অবলম্বনে ছবি নির্মাণ করছি। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। ডিসেম্বরেই ছবিটির শুটিং করব।

[উল্লেখ্য, ‘প্রিয়’ উপন্যাস অবলম্বনে কবরী চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর সম্ভব হয় নি।]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your identity will not be published.