গ্রাম-বাংলার লোক সাহিত্যের সার্থক সংকলক : দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার

গ্রাম-বাংলার লোক সাহিত্যের সার্থক সংকলক : দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার

শিশু সাহিত্যিক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। একুশ বছর বয়সে পিতার সঙ্গে মুর্শিদাবাদ যান। সেখানে থাকাকালে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রবন্ধ। অতঃপর ‘সুধা’ নামের পত্রিকা প্রকাশ করেন। এরপর টাঙ্গাইলে থাকার সময় দীর্ঘ দশ বছর ধরে গ্রাম-বাংলার লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ ও সেইসবের ওপর গবেষণা করেন। দীনেশচন্দ্র সেনের পরামর্শে এইসব সংগৃহীত উপাদানকে প্রকাশ করেন—রূপকথা, রসকথা, ব্রতকথা ও গীতিকথা—এই চারটি ভাগে ভাগ করে।

১৫ এপ্রিল দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী। তাই এই সংখ্যায় তুলে ধরা হলো তাঁর জীবন ও জন্মভ‚মিকে।

“এক যে, রাজা। রাজার সাত রাণী। বড়রাণী, মেজরাণী, সেজরাণী, ন-রাণী, কনেরাণী, দুয়োরাণী, আর ছোট রাণী।

রাজার মস্ত বড় রাজ্য; প্রকাÐ রাজবাড়ী। হাতীশালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া, ভাÐারে মাণিক, কুঠরীভরা মোহর, রাজার সব ছিল। এ ছাড়া—মন্ত্রী, অমাত্য, সিপাই, লস্করে,—রাজপুরী গম্গম্ করিত।

কিন্তু, রাজার মনে সুখ ছিল না। সাত রাণী, এক রাণীরও সন্তান হইল না। রাজা, রাজ্যের সকলে, মনের দুঃখে দিন কাটান।

একদিন রাণীরা নদীর ঘাটে স্নান করিতে গিয়াছেন,—এমন সময়, এক সন্ন্যাসী যে, বড় রানীর হাতে একটি গাছের শিকড় দিয়া বলিলেন,—এইটি বাটিয়া সাত রাণীতে খাইও, সোনার চাঁদ ছেলে হইবে...।”

এ হলো ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-র ‘কলাবতী রাজকন্যার’ গল্প। এই রূপকথা গ্রন্থটির সংকলক-লেখক হলেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।

একদিন সকালে রওনা হলাম সাভারের উদ্দেশে। আমার সঙ্গী হলো ‘অন্যদিন’-এর আলোকচিত্রী আরমান আদনান। এর আগে মোবাইলে কথা বললাম গল্পকার-ঔপন্যাসিক নুরুল আমিনের সঙ্গে। তিনি একসময় ‘অন্যদিন পাঠক ফোরামে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

‘হ্যালো, নুরুল আমিন ?’

‘হ্যাঁ। কেমন আছেন ?’

‘ভালো।... আচ্ছা আপনাকে তো কিছু দিন আগে জানিয়েছিলাম যে, সাভারে যাব ঠাকুরমার ঝুলি খ্যাত লেখক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের পৈতৃক বাসস্থানের সন্ধানে। তো কীভাবে যাব ?’

‘আপনি সাভারের থানা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামবেন। তারপর রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে যাবেন এনাম হাসপাতাল এন্ড কলেজে। সেখান থেকে সামান্য দূরেই দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বাড়ি।’

‘কোন গ্রাম ?’

‘কর্ণপাড়া। কাতলাপুর মসজিদ পার হলেই একটি বাজার। সেটি পেরোলেই কর্ণপাড়া।’

‘ঠিক আছে। ধন্যবাদ।’

নুরুল আমিনের নির্দেশমতো সাভারের থানা বাসস্ট্যান্ডে নামলাম। হেঁটে হেঁটে পৌঁছলাম এনাম হাসপাতাল এন্ড কলেজের সামনে। অতঃপর রিকশাযোগে রওনা দিলাম কর্ণপাড়ার উদ্দেশে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।

ভাড়া চুকিয়ে দেওয়ার পর রিকশাওয়ালা চলে গেল। আমি ও আরমান এগিয়ে গেলাম সামনের এক চায়ের দোকানে। সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল মধ্যবয়সী কয়েকজন মানুষ। তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র লেখক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মেছিলেন এই গ্রামেই। তাঁর বাড়িটি কোথায় বলতে পারেন ?’ আমার কথা শুনে ভদ্রলোকের মুখে হাসি খেলে গেল। বললেন, ‘আপনাদের ভাগ্য ভালো, ঠিক জায়গাতেই এসেছেন।’ তারপরই পাশে বসা আরেক ভদ্রলোকের গায়ে মৃদু চাপ দিয়ে বললেন, ‘কমল, তোর তো আত্মীয় হয়...। তুই নিয়ে যা না ভদ্রলোকদের তোর মামা বাড়িতে।’

কমল কোনো রকম ওজর-আপত্তি ছাড়াই রাজি হয়ে গেল। দেখা গেল, আমাদের সঙ্গে চলেছেন সেই ভদ্রলোকও। ইতিমধ্যে আমরা তাঁর নামও জেনে গিয়েছি—মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি কমলের বন্ধু।

কিছু দূরেই একটি বাড়ি। বিরাট বাড়ি। চারপাশে ফাঁকা জায়গা। মাঝে মাঝে আধাপাকা দালান। চার-পাঁচ তলার একটি বিল্ডিংও দেখা গেল। দরজার ফলকে লেখা—মিত্র কুটির। জানা গেল, এটি হলো দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের জ্যাঠাতো ভাই দেবী প্রসাদ মিত্রমজুমদারের উত্তরাধিকারীদের বসতবাড়ি। দেবী প্রসাদ মিত্রমজুমদারের ছয় ছেলে ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন এখন বেঁচে আছেন। তাঁরা হলেন—অমলেন্দু প্রসাদ মিত্রমজুমদার, অরবিন্দ প্রসাদ মিত্রমজুমদার, অরুণ প্রসাদ মিত্রমজুমদার।

আমরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে কথা বলছিলাম। এই সময় আবির্ভাব ঘটল ষাটোর্ধ্ব এক ভদ্রলোকের। পরনে লুঙ্গি-শার্ট, হাতে শপিং ব্যাগ। তাকে দেখেই কমল এগিয়ে গেল তাঁর কাছে, শপিং ব্যাগটি টেনে নিল নিজের হাতে। আমাদের পরিচয় এবং উদ্দেশ্যও খুলে বলল। ভদ্রলোকের পরিচয়ও আমরা জানলাম। তিনি অরুণ প্রসাদ মিত্রমজুমদার। তাঁর আহŸানে আধা পাকা একটি ঘরে ঢুকলাম আমরা। সোফায় বসে কথা বলতে লাগলাম। এক পর্যায়ে তাঁর উদ্দেশে আমি বললাম, ‘আপনি বলছেন এটি দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুদারের পৈতৃক বাড়ি নয় ?’

মাথা ঝুঁকিয়ে সায় জানালেন অরুণ প্রসাদ মিত্রমজুমদার।

‘তাহলে সেই বাড়ি কোনটি ? কোথায় ?’

‘সে আমি বলতে পারব না’ অরুণ প্রসাদ মিত্রমজুমদার অপারগতা প্রকাশ করলেন।

‘কিন্তু আমরা তো জানি, এই গ্রামেই জন্মেছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। তাঁর পৈতৃক বাড়ির অস্তিত্ব এখন না থাকলেও যে ভিটাতে তিনি জন্মেছিলেন সেটি নিশ্চয় রয়েছে।’

এবার মুখ খুললেন মোঃ মনিরুল ইসলাম।

বললেন, ‘হ্যাঁ, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের পৈতৃক ভিটাতে এখন আখতার হোসেনের বাড়ি।’

তাহলে আমরা এখানে বসে আছি কেন ? আখতার হোসেনের বাড়ির উদ্দেশেই যাত্রা শুরু করা যাক।

আমরা বেরিয়ে আসি মিত্র বাড়ি থেকে। মনিরুল ও কমল একটি রিকশা ঠিক করে পথনির্দেশ দিয়ে দেয়।

রিকশা এগোতে থাকে আর আমি ভাবতে থাকি দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের কথা।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার বাঙালি পাঠকদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র জন্যে। তিনি ছিলেন লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক, ছড়াকার, চিত্রশিল্পী, দারুশিল্পী এবং কিশোর-কথাকার। জন্মেছিলেন ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ), এই উলাইল গ্রামে তথা কর্ণপাড়ায়। তাঁর পিতা রমদা রঞ্জন মিত্রমজুমদার এবং মা কুসুমময়ী। তাঁদের আদিবাড়ি ছিল বরিশাল জেলার বাকলা মহকুমার অন্তর্গত চন্দ্রদ্বীপ গ্রামে। দক্ষিণারঞ্জনের ধমনীতে প্রবাহিত ছিল একদিকে প্রাচীন বাংলার বারো ভ‚ঁইয়ার অন্যতম যশোররাজ প্রতাপাদিত্যের জামাতা উদয় নারায়ণের রক্ত অন্যদিকে চন্দ্রদ্বীপের রাজা রামচন্দ্রেরও তিনি ছিলেন দৌহিত্য বংশীয়।

হ্যাঁ, জমিদার বংশের সন্তান ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। রাজা যেমন ছিল সেকালের নবাবদের দেওয়া সম্মানসূচক খেতাব, ‘মজুমদার’ও ছিল তেমনি একটি উপাধি। দক্ষিণারঞ্জনদের প্রকৃত পদবি ‘মিত্র’। ‘মজুমদার’ উপাধি পেয়েছিলেন তাঁর চার পুরুষ পূর্বে জমিদার ক্ষণদারঞ্জন। তারপর থেকেই এই বংশের মানুষেরা মিত্রমজুমদার উপাধিতে পরিচিত হয়ে উঠেন।

পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ছিলেন বলে দক্ষিণারঞ্জন খুবই আদর-যতেœ বেড়ে উঠেছিলেন। তাই দুষ্টুর শিরোমণি ছিলেন। পড়াশোনায় তাঁর মন ছিল না। একটু বেশি বয়সে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। গৃহপাঠের পালা শেষ হলে ১৮৮৭ সালে দশ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন ঢাকার কিশোরী মোহন হাইস্কুলে। পরে ১৮৯৩ সালে ভর্তি হন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে, সপ্তম শ্রেণিতে। এখানে তিনি তিন বছর পড়েন ঠিকই কিন্তু প্রতি পরীক্ষাতেই অকৃতকার্য হন। তাঁর পড়ালেখার উন্নতি ঘটে টাঙ্গাইলে গিয়ে, পিসিমা রাজল²ী চৌধুরানীর কাছে থাকা অবস্থায়। বিশেষত স্কুলের (টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী হাইস্কুল) বোর্ডিংয়ে থাকা অবস্থায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে পাঠ্যবইতে মনোযোগী হন। ফলশ্রæতিতে নবম ও দশম শ্রেণির পরীক্ষায় প্রথম হন। তবে তিনি প্রথম শ্রেণিতে এনট্রাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন—মুর্শিদাবাদের বহরমপুর হাই স্কুল থেকে। এরপর তিনি বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে এফ এ ক্লাসে যদিও ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আর অগ্রসর হতে পারেন নি।

দক্ষিণারঞ্জনের সাহিত্যে হাতেখড়ি হয় তাঁর বাবার কাছে। মায়ের বলা রূপকথাও তাঁর মানসগঠনে প্রভাব ফেলেছিল। বহরমপুরে পিতার সমৃদ্ধ পাঠাগারও তাঁকে সাহিত্য পাঠ আর কবিতাচর্চায় আগ্রহী করে তোলে। এছাড়া পিতার উৎসাহ-অনুপ্রেরণা তো ছিলই। পিতার আর্থিক সাহায্যেই তিনি ১৯০১ সালে ‘সুধা’ নামের মাসিক সাময়িকপত্র প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার আয়ুকাল ছিল চার বছর। এছাড়া বহরমপুর থাকা কালেই দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ প্রকাশিত হয় (১৯০২)। এই গ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছিল রাজনৈতিক কবিতাসমূহ।

১৯০২ সালে পিতার মৃত্যুর পর দক্ষিণারঞ্জন বহরমপুর ছেড়ে টাঙ্গাইলে চলে আসেন। এখানে তিনি পিসিমার জমিদারি দেখাশোনা করতে থাকেন। এই সূত্রে প্রাচীন বাংলাকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ ঘটে তাঁর। গ্রামীণ ব্রতকথা-গীতিকা, রূপকথা সংগ্রহ করেন। পরে এইসবই তিনি বাংলা সাহিত্যের পাঠকের হাতে তুলে দেন গ্রন্থাকারে। আর এ ক্ষেত্রে রূপকথা-লোক গীতিকথা সংগ্রহের আরেক কিংবদন্তি দীনেশচন্দ্র সেনের সহযোগিতা পান তিনি। তাই তো ১৯০৭ সালে সেকালের বিখ্যাত প্রকাশক ভট্টাচার্য অ্যান্ড সন্স থেকে আত্মপ্রকাশ করে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’।

‘ঠাকুরমার ঝুলি’ একটি অনন্য গ্রন্থ। এর ভ‚মিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনিও সেই কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য হলো:

বাঙ্গালির ছেলে যখন রূপকথা শোনে তখন কেবল যে গল্প শুনিয়া সুখী হয়, তাহা নহে—সমস্ত বাংলাদেশের চিরন্তন সুরটি তাহার তরুণ চিত্তের মধ্যে প্রবেশ করিয়া, তাহাকে যেন বাঙলার রসে রসাইয়া লয়।

দক্ষিণারঞ্জন বাবুর ঠাকুরমার ঝুলি বইখানি পাইয়া, তাহা খুলিতে ভয় হইতেছিল। আমার সন্দেহ ছিল, আধুনিক বাংলার কড়া ইস্পাতের মুখে ঐ সুরটা পাছে বাদ পড়ে। এখনকার কেতাবী ভাষায় ঐ সুরটি বজায় রাখা বড় শক্ত। আমি হইলে তো এ কাজে সাহসই করিতাম না। ইতঃপূর্বে কোনো কোনো গল্পকুশলা অথচ শিক্ষিতা মেয়েকে দিয়া আমি রূপকথা লিখাইয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছি—কিন্তু হউক মেয়েলি হাত, তবুও বিলাতী কলমের যাদুতে রূপকথায় কথাটুকু থাকিলেও সেই রূপটি ঠিক থাকে না; সেই চিরকালের সামগ্রী এখনকার কালের হইয়া ওঠে।

কিন্তু দক্ষিণাবাবুকে ধন্য। তিনি ঠাকুরমা’র মুখের কথাকে ছাপার অক্ষরে তুলিয়া পুঁতিয়াছেন তবু তাহার পাতাগুলি প্রায় তেমনি সবুজ, তেমনি তাজাই রহিয়াছে; রূপকথার সেই বিশেষ ভাষা, বিশেষ রীতি, তাহার সেই প্রাচীন সরলতাটুকু তিনি যে এতটা দূর রক্ষা করিতে পারিয়াছেন, ইহাতে তাহার সূ² রসবোধ ও স্বাভাবিক কলানৈপুণ্য প্রকাশ পাইয়াছে।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের উল্লেখযোগ্য অন্য বইগুলো হলো: মা বা আহুতি (১৯০৮), ঠাকুরদাদার ঝুলি (১৯০৯), আর্যনারী (প্রথম ভাগ ১৯০৮, দ্বিতীয় ভাগ ১৯১০), চারু ও হারু (১৯১২), দাদামশায়ের থলে (১৯১৩), খোকাখুকুর খেলা (১৯০৯), আমাল বই (১৯১২), সরল চÐী (১৯১৭), পূজার কথা (১৯১৮), ফার্স্ট বয় (১৯২৭), উৎপল ও রবি (১৯২৮), কিশোরদের মন (১৯৩৩), কর্মের মূর্তি (১৯৩৩), বাংলার সোনার ছেলে (১৯৩৫), সবুজ লেখা (১৯৩৮), চিরদিনের রূপকথা (১৯৪৭), আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী (১৯৪৮)...।

১৯০৮ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার বিয়ে করেন শশিভূষণ বসু ও সুহাসিনী বসুর কন্যা গিরিবালা দেবীকে। তাঁদের ১১ জন সন্তান জন্ম লাভ করে।... দক্ষিণারঞ্জন মারা যান ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের ১৬ চৈত্র (১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মার্চ)

 

‘মোমিন ভাই, আমরা এসে গেছি’ আরমানের কথায় আমার সংবিত ফিরে। টের পাই রিকশা থেমে গেছে। রিকশা থেকে নেমে সামনে এগোই। কয়েক গজ হাঁটতেই বামে বেড়া ও টিনের তৈরি একটি মসজিদ চোখে পড়ে। সামনে উন্মুক্ত জায়গা। তারপরেই একটি বাড়ি। লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা একজন বৃদ্ধ নজর কাড়েন আমাদের। আমরা তার দিকে ধাবিত হই। তিনিও এগিয়ে আসেন আমাদের দিকে। বৃদ্ধটি কাছে এলে আমি বলি, 'আখতার হোসেনকে খুঁজছি আমরা।’

‘আমিই আখতার হোসেন’, বৃদ্ধ জানান।

‘আমরা সাংবাদিক। ঢাকা থেকে এসেছি। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র লেখক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। এটি কি তাঁর পৈতৃক ভিটা ছিল এক সময় ?’

‘হ্যাঁ, ছিল। দেশবিভাগের পরে আমরা কিনে নিয়েছি।’

‘ঠিক আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।’

তারপর আরমান ছবি তোলায় মগ্ন হয়। নানা অ্যাঙ্গেল ও কম্পোজিশনে বন্দি হয় আখতার হোসেনের বাড়ি, একদা যা ছিল দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের পৈতৃক ভিটা।

এক সময় আমরা আবার পথে নামি। ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করি।

(এপ্রিল, ২০১২)

 

Leave a Reply

Your identity will not be published.