[‘অলাতচক্র’ একটা নারী গোয়েন্দা এজেন্সি। অলাতচক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পেশায় কাজ করে কিন্তু পাশাপাশি তারা অলাতচক্রের সদস্য। অলাতচক্র গ্রুপের নাম সদস্যদের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে বানান, মানে : অ = অনীলা। লা = লাবণি। ত = তন্বী। চ = চন্দ্রিমা। ক্র = ক্রমেলা।
এই থ্রিলার উপন্যাসটিতে দেখা যায়, পুরোনো ঢাকার মহররমের মিছিলে ‘তাতবির’ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় তরুণ অপু। পুলিশ প্রাথমিক সুরতহালে একে অতিরিক্ত রক্তরক্ষণজনিত সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিলেও, সিআইডি এএসপি লাবণির তীক্ষè নজর এড়ায় নি এর পেছনের অসঙ্গতি। অপুর শরীরে অগণিত ধর্মীয় ক্ষতের ভিড়ে কি লুকিয়ে ছিল কোনো সুনিপুণ ঘাতকের ছদ্মবেশী আঘাত ? মৃত্যু-পূর্ববর্তী সেই রহস্যময় ফোন কল আর পাওনাদারের সাথে বিরোধ কি স্রেফ কাকতালীয়, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নিপুণ ষড়যন্ত্র ? মহররমের ভিড় আর মাতমের আবহে ঢাকা পড়া এক সন্দেহজনক মৃত্যুর জট খুলতে নামে ধীসম্পন্ন গোয়েন্দা লাবণি।]
৬
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র দুই শ’ গজ দূরে গোধূলি রিসোর্ট। এটা সাধারণ হোটেলের মতো খুব ঘনবদ্ধ না, আবার গতানুগতিক রিসোর্টের মতো খুব বেশি ছড়ানো-মেলানোও না; বরং দুটোর এক চমৎকার মিশ্রণ। রিসোর্টের অর্ধেক কামরা পূর্বমুখী এবং বাকি অর্ধেক পশ্চিমমুখী। লাবণি একটা পশ্চিমমুখী কামরা পেয়েছে। পশ্চিমমুখী প্রতিটা কামরার সাথে রয়েছে সুন্দর কাঠের ঝুলবারান্দা। বিকেলে ওখানে বসে সমুদ্রের নীল তরঙ্গের সাথে শেষ বিকেলের সোনালি রোদের রং-খেলা উপভোগ করা যায়।
গতকাল রাতে চন্দ্রিমা গোধূলি রিসোর্টে এসেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। আজ আবার সকাল সকাল ও রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে গেছে। চন্দ্রিমা যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর লাবণি গোধূলি রিসোর্টের রুফটপে এক কাপ কফি নিয়ে বসল। বড় বড় ব্যস্ত ঢেউয়ের ইঞ্জিনের মতো আওয়াজ শুনতে শুনতে ও চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে দেখল কালকের ঝুঁটি চুলের লোকটা এখানেও চলে এসেছে কি না। আপাতত লোকটাকে আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। লোকটা যে কাল ওকেই অনুসরণ করছিল, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যাপারটা ফালতু লোকের এলেবেলে ইভটিজিং বলে উড়িয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু কাল লাবণির সাথে চোখাচোখি হতেই লোকটার তাড়াহুড়ো করে মাইক্রোবাসে উঠে চলে যাওয়াটাই লাবণিকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় লাবণির তৃতীয় ইন্দ্রিয় বলছে, লোকটা হয় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র অথবা এজেন্সির হয়ে কাজ করছে।
লাবণি কফিতে একটা চুমুক দিয়ে কাল সন্ধ্যায় সেলফি নেওয়ার ভান করে তোলা ছবিটা দেখল। ঝুঁটিওয়ালার মুখের দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে লাবণি নিজের মনেই বলল, দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে। সেদিন পুরানো ঢাকায় অপুর বোনের বাসা থেকে ফেরার সময় একটা গাড়ি লাবণির বিএমডব্লিউকে অনুসরণ করছিল। লাবণি ইউল্যাব স্কুলের দিকে বাঁক নিতেই গাড়িটা বাধ্য হয়ে সাঁ করে ফুলার রোড ধরে চলে গিয়েছিল। রিয়ারভিউ মিররে ও এক ঝলকের জন্য ড্রাইভারের পাশে বসা লোকটার মুখ দেখেছিল। সেই মুখ আর এই মুখ মনে হচ্ছে যেন একই। কিন্তু কেউ ঢাকা থেকে ওর পিছু লেগে কক্সবাজার পর্যন্ত চলে আসবে কেন ? ওরা কি ভাবছে লাবণিকে বেশি দূর এগোতে দিলে অপুর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটিত হবে ? তার মানে কি অপু আসলেই খুন হয়েছে ?

এআই স্পেশালিস্ট তন্বী পোস্টডক করতে ইউটি অস্টিনে পড়ে আছে। তন্বী সেদিন ইমেইলে জানিয়েছে ক্লড এআই-এর একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ভার্সন আছে যেটা আমেরিকা সরকার জনগণের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ইউটি অস্টিনের গবেষক হিসেবে তন্বী ওটা একাডেমিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। লাবণি ছবিটা পাঠিয়ে বলল, তন্বী, জানি তুমি পড়ালেখা আর গবেষণা নিয়ে মহাব্যস্ত। তবু একটা ছবি পাঠালাম। দেখো খোদেজা আর ক্লড মিলে এই লোকের পরিচয় উন্মোচন করতে পারে কি না। ব্যাপারটা জরুরি।
বেলা এগারোটার দিকে লাবণি যখন বাইরে বেরোবার প্রস্তুতি নিচ্ছে, রিসেপশন থেকে একজন ফোন করে জানাল, কক্সবাজার থানার ওসি সোমেন সমাদ্দার লাবণির সাথে দেখা করতে এসেছেন। লাবণি লবিতে আসতেই সোমেন সমাদ্দার উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, আপনি কষ্ট করে থানায় আসার চাইতে ভাবলাম আমি নিজেই এসে আপনাকে খবরটা জানিয়ে যাই।
কী খবর বলুন তো।
অবকাশ হোটেলের বাইরে দেখবেন দুটো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। একটা রাস্তার দিকে, আরেকটা সি বিচের দিকে মুখ করা। পরশু রাত আর কাল ভোরের রেকর্ডের কপি এনে কী দেখলাম জানেন ?
কী দেখলেন ?
দেখলাম কিশোর গ্যাং-এর দুটো ছেলে খুব সকালে সমুদ্র সৈকতের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনা সেখানেই শেষ না।
বলে যান।
ভিডিও ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে দেখি ছেলে দুটো একই পথ দিয়ে দৌড়ে ফিরে যাচ্ছে।
ওদের হাতে কোনো ধারালো অস্ত্র ছিল ?
সেটা কি হাতে থাকবে আপা ? এইগুলো হলো মহাধুরন্ধর। অস্ত্র রাখার জন্য একজনের কাঁধে ব্যাকপ্যাক ছিল।
আচ্ছা। ভিডিওগুলো সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
আপা, এখন তো ব্যাপারটা জলের মতো পরিষ্কার। খুব ভোরে এই দুজন বরুণ মার্মার মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনতাই করতে গেছে। উনি বাধা দেওয়ায় ওরা স্ট্যাব করেছে। তারপর দৌড়ে পালিয়ে গেছে।
তাহলে এদের ধরার ব্যবস্থা করুন।
সেটা না করেই কি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি ? দুটোকেই কাল রাতে মুহুরীপাড়া থেকে পাকড়াও করেছি।
বাহ, বেশ। তারপর ? ওরা কি স্বীকারোক্তি দিয়েছে ?
আপা, আগেই তো বলেছিলাম খুব কুইকলি কেস ক্লোজ করে দেব। আপনি হয়তো আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন নি।
আপনার ওপর কেন আস্থা থাকবে না! কোনো রহস্যের সহজ সমাধান নিয়ে আমি একটু খুঁতখুঁতে।
আমরা কিন্তু ওদের কোনো মারধর করি নি। জাস্ট লকআপে ভরে রেখেছিলাম। তাতেই ঘণ্টা দুয়েক পর দেখি ঘেমেটেমে একাকার। রাত দুটোর দিকে প্রশ্ন করতেই আসল কথা বের হয়ে আসল।
কী বলল ওরা ?
কী আর বলবে, আপনি যেটাকে বললেন সহজ সমাধান, সেটাই। ওরাই বরুণ মার্মার জিনিসপত্র ছিনতাই করেছে।
তাহলে তো কাজ এক ধাপ এগোল। মোবাইল আর মানিব্যাগ উদ্ধার করতে পেরেছেন ?
মানিব্যাগ উদ্ধার করতে পুলিশ ওদের দেওয়া ঠিকানায় একটা বাড়িতে গেছে। কিন্তু মোবাইল পাওয়া ঝামেলা হয়ে যাবে।
বিক্রি করে দিয়েছে ?
হ্যাঁ, এগুলো অনেক হাত বদল হয়ে বিক্রি হয়। খুঁজে পেতে সময় লাগবে।
তাহলে বলছেন এটা এখন ওপেন অ্যান্ড শাট কেস ?
অনেকটাই।
অনেকটা কেন ?
ফাজিলগুলো ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করছে কিন্তু বলছে ওরা বরুণ মার্মাকে ফুলের টোকাও দেয় নি। তবে এটা বলাই স্বাভাবিক। খুন করার কথা তো কেউ নিজের মুখে স্বীকার করবে না।
কাল সকালের ভেতর ওদের আদালতে হাজির করতে হবে, তাই না ?
জি, তবে আদালতে রিমান্ডের জন্য আবেদন করব। রিমান্ডে নিলেই বাকি কথা পেট থেকে বের হয়ে আসবে।
ঠিক আছে, আপনি তাহলে দেখুন ওদের পেট থেকে কথা বের করতে পারেন কি না। আর বালু থেকে যে ব্লাড স্যাম্পল নিয়েছেন, সেটার রেজাল্ট এসেছে ?
কাল পেয়ে যাব, আপা। জাল তো প্রায় গুটিয়েই এনেছি।
ওসি সোমেন সমাদ্দার বিজয়ীর বেশে গোধূলি রিসোর্ট থেকে বিদায় নিলেন। লাবণি সেদিকে তাকিয়ে ভাবল, বরুণ মার্মার হত্যাকাণ্ড এত সহজ হলে তো ভালোই। ঢাকার অপুর মৃত্যুরহস্য নিয়ে এগোনো যাবে।
চন্দ্রিমা গোধূলি রিসোর্টে ফিরল বিকেল তিনটায়। চন্দ্রিমা খেয়ে আসে নি। ভাগ্যিস নিচের রেস্টুরেন্ট তখনো দুপুরের খাবার পরিবেশন করছিল। লাঞ্চের টেবিলে চন্দ্রিমা রূপচাঁদা আর ভাতের লোকমা বানিয়ে আয়েশ করে খেতে খেতে লাবণিকে বলল, অলাতচক্রের হয়ে আজ সকাল থেকেই জোরেশোরে কাজ শুরু করে দিয়েছি।
তোমাকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে দেখেই আমার মনে হয়েছিল তুমি সত্যসন্ধানে বেরিয়েছ।
অ্যাঁ, তুমি জেগেছিলে নাকি ? আমি তো ভেবেছি গভীর ঘুমে তলিয়ে আছো। সেজন্য তোমাকে আর ডিস্টার্ব করি নি।
তোমার কি সকাল সকাল কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল ?
ঠিক ধরেছ। মামুন ভাই সাড়ে আটটার ভেতর প্রেসক্লাবে যেতে বলেছিলেন। কারণ সাড়ে নয়টায় তার আবার কোনো সম্পাদকের সাথে দেখা করা লাগবে।
মামুন সাহেব কি সাংবাদিক ?
হ্যাঁ, শুধু সাংবাদিক না, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি। মাকড়সার জালের মতো তার নেটওয়ার্ক। এক সিটিংয়েই তোমার জন্য অনেক খবর জোগাড় করে দিয়েছেন।
বাহ, দারুণ তো! বরুণ মার্মা কক্সবাজারে কী করছিলেন জানতে পেরেছ ?
হ্যাঁ। আমি যা করছিলাম, উনি তাই করছিলেন।
উফ, হেঁয়ালি করছ, চন্দ্রিমা।
হেঁয়ালি না, বরুণ মার্মাও আমার মতো রোহিঙ্গা শিবিরের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন।
কী বলছ! আমি তো ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। কী নিয়ে প্রতিবেদন করছিলেন উনি ?
তুমি জানো এখানকার কলাতলী এলাকা ভরা অসংখ্য মাসাজ পার্লার।
হ্যাঁ, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে।
অনেক রোহিঙ্গা মেয়ে এগুলোতে কাজ করে।
অসম্ভব কিছু না, অনেক রোহিঙ্গাই ক্যাম্পের বাইরে এসে ইলিগ্যালি কাজ করে।
হ্যাঁ। কিন্তু কাজ করাটা মূল সমস্যা না। আসল সমস্যা হলো মাসাজ পার্লারগুলোতে অসামাজিক কীর্তিকলাপ চলে। অনেক রোহিঙ্গা মেয়েই টাকার জন্য এইসব অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত। মেয়েগুলো বোরকা পরে সকালে পার্লারে চলে আসে, আবার রাতে বোরকা পরে ফিরে যায়। এ কারণে ওদের পরিচয় গোপন থাকে। অথচ ওদের ক্যাম্পের বাইরে বের হওয়ারই অনুমতি নেই।
বরুণ মার্মা কি এদের উপরেই রিপোর্ট করছিলেন ?
হ্যাঁ। কিন্তু বিষয়টা আরেকটু জটিল। রোহিঙ্গা শিবিরে এইডস রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অনেকে মনে করে এই মেয়েগুলোর কারণে এইডস এত ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে। মামুন ভাই বললেন বরুণ মার্মা এইডসের সংক্রমণ নিয়ে ইন-ডেপ্থ রিপোর্ট লিখছিলেন।
মানে আরেকটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বললে, নারী ব্যবসা সিন্ডিকেটের কারণে রোহিঙ্গা শিবিরে যে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটছে, সেটা নিয়ে উনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বানাচ্ছিলেন।
সেরকমই তো বললেন মামুন ভাই। শুধু রোহিঙ্গা শিবিরেই না, কক্সবাজারেও একই কারণে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে।
ইন্টারেস্টিং, কিন্তু এইডস নিয়ে লেখার জন্য উনি খুন হবেন কেন ? মাসাজ পার্লারের অনৈতিক কাজ নিয়েও তো আগেও অনেকে লিখেছে। পুলিশও তো রেইড দিয়েছে কয়েকবার।
অনেকেই লিখেছে কিন্তু এইডসকে অতটা হাইলাইট করে নি। তবে তার প্রতিবেদন লেখার সাথে খুন হওয়ার কোনো সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। হয়তো লোকাল পুলিশ তোমাকে যা বলেছে সেটাই ঠিক। কিশোর গ্যাং ছিনতাই করার সময় উনি বাধা দিয়েছেন আর ওরা ছুরি বসিয়ে দিয়েছে। ড্রাগের টাকার জন্য এই ছেলেগুলো নিজেদের বাপ-মাকেও মেরে ফেলতে পারে।
হ্যাঁ, অনেক সময় সবচেয়ে সহজ কারণটাই সত্য হয়। আজ ওসি সাহেব হোটেলে এসেছিলেন। উনি মোটামুটি নিশ্চিত যে কিশোর গ্যাং-ই খুনটা করেছে।
তাহলে তো হলোই।
কিন্তু কিশোর গ্যাং খুনটা অন্য কারও হয়ে করতে পারে। এমন তো হতেই পারে যে রোহিঙ্গা নারী, এইডস এসব নিয়ে লেখার জন্যই উনি খুন হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দেখতে হবে এগুলো ঘাঁটতে গিয়ে তিনি কোনো গোপন তথ্য খুঁজে পেয়েছিলেন কি না।
হু, সেটাও হতে পারে। অলাতচক্রের ভাষায়, কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সেটাই চন্দ্রিমা। আমাদের রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে বের করতে হবে বরুণ মার্মা কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কালকেউটের ছোবল খেলেন কি না।
আপু, রোহিঙ্গা শিবিরে কিন্তু একা চলাফেরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ কে কোথা থেকে আক্রমণ করে বসবে তার ঠিক নেই। আমাদের এডিটর সিআইসিকে বলে রেখেছিলেন। এ কারণে আমার সঙ্গে সব সময় ফোর্স থাকত। অবশ্য তুমি নিজেই তো পুলিশের লোক। তুমি মনে হয় এখান থেকেই ফোর্স নিয়ে যেতে পারবে।
সিআইসিকে না জানিয়ে তো রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু করা যাবে না। আবার আমিও বেশিদিন কক্সবাজার পড়ে থাকতে চাইছি না। ঢাকায় একটা কাজ আটকে আছে। দেখি, আজ অথবা কাল সকাল সকাল জায়গাটা একবার ঘুরে আসা যায় কি না।
লাবণি গোধূলি রিসোর্টের লবিতে এসে একে-ওকে ফোন করে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার আয়োজন পাকা করল। চন্দ্রিমা এই ফাঁকে ওর মাকে ফোন করে বলল, আমি কিন্তু বিখ্যাত গোয়েন্দা লাবণিকে নিয়ে দু-তিন দিনের ভেতরেই রাঙামাটি আসছি।
(চলবে)
Leave a Reply
Your identity will not be published.