তিনটি কবিতা : এস এম সুলায়মান কাজল

তিনটি কবিতা : এস এম সুলায়মান কাজল

 

কুসুম

নীলঝুরি মাঠে  আমি খেলেছি বিকেলে

মধুমতি   জলে  ছিল    স্বাধীন   সাঁতার!

বিভাবরী   নেমে  এলে  বাড়ির  উঠোনে

জোনাকিরা কেড়ে  নিত আমার আঁধার!

ফুকরা  নামের  গ্রামে  আমাদের  বাড়ি

গোপীনাথপুরে   ছিল   কুসুমের   বাস,

ভুলবাড়িয়ার   দিকে   ছিল   পাঠশালা

মেঠো পথে  দেখা হতো, চোখে আশ্বাস !

 

প্রকৃতির   মাঝে   আমি   সহজ   সরল

প্রথমে  বুঝি নি  তার   দু’চোখের  ভাষা,

নদীর  ভাঙনে   ঘরভিটেহারা  হয়ে

বিদায়ের  কালে  বুঝি   তার  ভালবাসা!

খেয়াঘাটে বসে আছি,  পার হব নদী,

হঠাৎ  কুসুম  বলে,  থেকে  যেতে  যদি!

 

 

আশ্রয়

বৃক্ষদের ডালপালা অসহিষ্ণু হলে

তুমি কি চেয়েছো আমি পরিযায়ী হব ?

জলস্থল অন্তরীক্ষের প্রতিকূলতায়

একটি নীড়ের কথা সবাই ভেবেছে !

 

ডানায় ভরসা করে উড়ে যাব দূরদেশে

উড্ডীন আমার নিচে ধাবমান কুমারী জঙ্গল,

পার হয়ে যাব যত রতিক্লান্ত দগ্ধ মরুভূমি

অতিক্রান্ত হয়ে যাবে ফুঁসে ওঠা বিক্ষুব্ধ সাগর!

 

 

 

ভিসুভিয়াস

চৌকাঠ    তাঁর    চীনের      প্রাচীরসম

লোহার     কপাট    হৃদয়   সিংহদ্বারে,

তেরো   নদী  সাত  সাগরের   জলে  মম

তৃষ্ণা মেটে না,  দিনে  দিনে শুধু  বাড়ে!

 

আঙিনায়    তাঁর    শঙ্খচূড়ার   ফণা

পর্বতশ্রেণি   প্রহরায়    আছে   রত,

পাণি    গ্রহণের    অমিত     সম্ভাবনা

ফুঁসে  ওঠে  যদি  ভিসুভিয়াসের  মতো ?

 

তড়িতাহতের      বিদ্যুৎ      পরিচিত

লাশের    রয়েছে    মৃত্যু    অভিজ্ঞতা,

সতীদাহ প্রথা  আজও  ভয়ে কম্পিত

জ্বলে   ওঠে  যদি  সহমরণের  চিতা ?

 

তাঁর    অবয়বে   শিরা   নক্ষত্র   ম্লান

অনুভবে   আছে   চিত্তাকর্ষক     টান!

তাঁর    পদতলে    সমর্পিত    মহাবিশ্ব,

ধনাঢ্য    তাঁর    সম্মুখে   সব    নিঃস্ব!

 

 

 

Leave a Reply

Your identity will not be published.