স্বনামধন্য শিশু সাহিত্যিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইকে ঘিরে আয়োজিত পাঠ আলোচনায় উঠে আসে টেলিভিশনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও প্রভাবের কথা। বাংলা টেলিভিশন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ, সংস্কৃতি ও সময়ের এক জীবন্ত দলিল, এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
গতকাল ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই পাঠ আলোচনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা তারিক আনাম খান, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জিয়াউল আহসান। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ শুধু তথ্যভিত্তিক একটি গ্রন্থ নয়; এটি অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির এক অনন্য সংকলন। বাংলা নাটকের সংলাপ, চরিত্র ও গল্পের মধ্য দিয়ে সমাজ ও মানুষের বিবর্তন কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে সেই চিত্র ফরিদুর রেজা সাগরের বইটিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
খ ম হারুন বলেন, বাংলা টেলিভিশনের সোনালি সময়ের বহু অনুষ্ঠান, নির্মাতা ও শিল্পীর গল্প এই বইয়ে সংরক্ষিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দলিল হয়ে থাকবে।
অভিনেতা ও নির্মাতা তারিক আনাম খান বলেন, সমাজ ও মানুষের ওপর টেলিভিশনের যে গভীর প্রভাব, বইটি তা সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জিয়াউল আহসান বলেন, বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাস জানা মানেই বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ইতিহাস জানা। এ ধরনের পাঠ আলোচনা শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করে।
উল্লেখ্য, অন্যপ্রকাশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ বইয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সূচনা থেকে শুরু করে নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, টকশো, কুইজ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সংগীতানুষ্ঠান, ছোটদের অনুষ্ঠান ও ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো জনপ্রিয় আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় বিটিভির সাহসী ভূমিকার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।
Leave a Reply
Your identity will not be published.