[‘অলাতচক্র’ একটা নারী গোয়েন্দা এজেন্সি। অলাতচক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পেশায় কাজ করে কিন্তু পাশাপাশি তারা অলাতচক্রের সদস্য। অলাতচক্র গ্রুপের নাম সদস্যদের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে বানান, মানে : অ = অনীলা। লা = লাবণি। ত = তন্বী। চ = চন্দ্রিমা। ক্র = ক্রমেলা।
‘মহররমের মিছিলে’ উপন্যাসটি ‘অলাতচক্র’ সিরিজের একটি উপন্যাস। অলাতচক্র সিরিজের উপন্যাসগুলো রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার। রহস্য বা মিষ্টি উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো হু-ডান-ইট বা অপরাধ কে করেছে সেটা বুদ্ধি খাটিয়ে খুঁজে বের করা। এ কারণে রহস্য উপন্যাসের গতি শ্লথ। অন্যদিকে থ্রিলার বা রোমাঞ্চ উপন্যাসের ক্ষেত্রে নায়ক মোটামুটি আঁচ করতে পারে অপরাধী কে? পরের অপরাধটি যেন না ঘটে তাই নিয়ে শুরু হয় খল-নায়ক এবং নায়কের মাঝে তীব্র গতির ইঁদুর-বেড়াল খেলা। ‘অলাতচক্র’ সিরিজের উপন্যাসগুলো রহস্য এবং রোমাঞ্চের মিশ্রণ মানে আরম্ভ রহস্য দিয়ে মন্থর বেগে কিন্তু মাঝ বরাবর গিয়ে বাঁক ঘটে গতিময় রোমাঞ্চের অভিমুখে।
‘মহররমের মিছিলে’ উপন্যাসটিতে দেখা যায়, পুরোনো ঢাকার মহররমের মিছিলে ‘তাতবির’ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় তরুণ অপু। পুলিশ প্রাথমিক সুরতহালে একে অতিরিক্ত রক্তরক্ষণজনিত সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিলেও, সিআইডি এএসপি লাবণির তীক্ষè নজর এড়ায় নি এর পেছনের অসংগতি। অপুর শরীরে অগণিত ধর্মীয় ক্ষতের ভিড়ে কী লুকিয়ে ছিল কোনো সুনিপুণ ঘাতকের ছদ্মবেশী আঘাত ? মৃত্যু-পূর্ববর্তী সেই রহস্যময় ফোন কল আর পাওনাদারের সাথে বিরোধ কি স্রেফ কাকতালীয়, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নিপুণ ষড়যন্ত্র ? মহররমের ভিড় আর মাতমের আবহে ঢাকা পড়া এক সন্দেহজনক মৃত্যুর জট খুলতে নামে ধীসম্পন্ন গোয়েন্দা লাবণি।]
১
জুন মাসের ভ্যাপসা গরমে পুরোনো ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে আছে। আকাশজুড়ে ঘন কালোমেঘ। কোথাও পালাবার অবকাশ না পেয়ে তাতানো বাতাস মাথার উপরেই ঝুলে থাকছে। গরমের নিগ্রহ আর বৃষ্টির আশঙ্কা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই হোসেনি দালানের ভেতরে বাইরে শোকের পোশাক পরা মানুষের সমাগম বাড়ছে। হোসেনি দালানের দেয়ালে লাগানো মাইকে কেউ বলছে :
আজই দশই মহররম। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পর এই দিনে ইমাম হোসেন তীব্র তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় কারবালার যুদ্ধে ইয়াজিদের উমাইয়া বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। একটু পরেই মহানবীর প্রিয় কন্যা বিবি ফাতিমার আদরের সন্তান ইমাম হোসেনের স্মরণে হোসেনি দালানের ভেতরে মর্সিয়া হবে। সবাই ভেতরে চলে আসুন।
অপু মাত্রই ইলেকট্রিক রিক্সায় চড়ে বকশীবাজার এসে পৌঁছেছে। মাইকে ঘোষণা শুনে অপু তাড়াহুড়া করে ভাড়া মিটিয়ে ইমামবাড়ার শামিয়ানা টাঙানো প্রাঙ্গণে ঢুকে গেল। প্রতিবছর হাতের সব কাজ রেখে মহররমের মিছিলে অপু আসবেই। তবে এবার শুক্রবার বলে ছুটি নিতে হয় নি। অপু সিল্কের পাজামা-পাঞ্জাবি পরেছে। পাঁচ ফুট দশ অপুকে কালো পোশাকেও সিনেমার হিরোর মতো লাগছে। শোক প্রকাশে আগত নারীদের কেউ কেউ ওর দিকে সামান্য হলেও পলক না ফেলে পারছে না। ইমাম সাহেব এই মাত্র জাকেরি আরম্ভ করলেন, হে মোমেনগণ, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি ১৪০০ বছর আগে কারবালার তপ্ত বালুকা প্রান্তরে লিখেছিলেন হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এর ত্যাগ স্মরণ করতে। জিলহজ মাসের সেই তপ্ত দুপুরে কুফাবাসী যখন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, ইমাম হোসেন পিছু হটেন নি। তিনি জানতেন শাহাদাত নিশ্চিত, তবুও তিনি ইয়াজিদের মতো জালিমের হাতে হাত মেলান নি। তিনি বলতেন, অন্যায়ের সাথে আপস করে বেঁচে থাকার চেয়ে সম্মানের মৃত্যু অনেক শ্রেয়। আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না সেই দৃশ্য ? ফোরাত নদীর তীরে ইমামের ছোট্ট তাঁবুগুলো আগুনরোদে পুড়ছে। ছোট ছোট শিশুদের তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু এক ফোঁটা পানি দেওয়ার কেউ নেই। ছয় মাসের মাসুম বাচ্চা আলী আসগর যখন তৃষ্ণায় ছটফট করছিল, ইমাম তাকে কোলে নিয়ে ময়দানে গিয়েছিলেন শুধু একটু পানির জন্য। কিন্তু জালিমরা তাকে পানি দেওয়ার বদলে বিষাক্ত তীরে কণ্ঠ বিদীর্ণ করেছিল। হায় হোসেন! হায় হোসেন! হে ভাইয়েরা, বোনেরা, ইমাম হোসেন যখন জুম্মার নামাজের সেজদায় ছিলেন, তখন শিমর নামক সেই পাপিষ্ঠ তাঁর গর্দানে ছুরি চালিয়েছিল। সেই শেষ মুহূর্তেও ইমামের মুখে ছিল আল্লাহর নাম। আসুন আজ আমরা শপথ করি, ইমাম হোসেনের সেই ত্যাগ বৃথা যাবে না। আমরা যেন জীবনে কখনো মিথ্যার কাছে মাথা নত না করি। হে মাবুদ, কারবালার শহীদদের উছিলায় আমাদের গুনাহ মাফ করো এবং আমাদের অন্তরে আহলে বাইতের ভালোবাসা চিরস্থায়ী করে দাও।
শোকমজলিশ শেষে মহররমের মিছিলের প্রস্তুতি আরম্ভ হলো। গত কয়েক বছরের তুলনায় আজকের মিছিলটা একটু দীর্ঘ মনে হচ্ছে। এর কারণ কী তা অপু বুঝতে পারছে না। বাতাসে এখন গোলাপজল, আতর, আর ঘামের নোনতা গন্ধ মিশে আছে। তার ওপর এত লোক কালো পোশাক পরায় করুণ এবং সঘন আবহ তৈরি হয়েছে। আধঘণ্টা ধরে জুনের তপ্ত হাওয়া গায়ে মেখে মিছিলটা বকশিবাজার পেরিয়ে উর্দু রোডে চলে এল। রাস্তার দু পাশে নারী, পুরুষ আর শিশুদের ভিড়। কারও হাতে দুধের শরবত, কারও হাতে গোলাপজল। ‘হায় হোসেন’ রবের সাথে রাস্তার ধুলো, টং দোকানের ভাঁড়ের চা, জর্দা আর পানপাতার গন্ধ একসঙ্গে মিশে পুরো এলাকাটা যেন বিয়োগ-গাথার মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে। ধাবমান মিছিল ধীরে ধীরে চলে এল লালবাগ কেল্লার সামনে। আশপাশের দোকান আর বাড়ির ছাদ থেকে লোকজন মিছিলের দিকে সমীহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কেউ কেউ ছাদ থেকে গোলাপ আর বেলি ফুলের পাপড়ি ছিটাচ্ছে। সবার চোখ মিছিলের মূল আকর্ষণ ইমাম হোসেনের স্মরণে বানানো রঙিন তাজিয়ার দিকে। তাজিয়ার আগে আগে চলছে রঙিন কাপড়ে সাজানো দুলদুল ঘোড়া। অনেকেই ঘোড়াটাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। এতে নাকি বিপদ আসান হয়। তাজিয়ার পেছনে একদল লোক ‘হায় হোসেন’, ‘হায় হোসেন’ বলে মাতম তুলছে। তারও পেছনে আরেকদল মর্সিয়া পড়ছে। পুরোনো ঢাকার চাপা ঘনত্ব থেকে বেরিয়ে আজিমপুরে আসতেই অপুর মোবাইল ভাইব্রেট করে উঠল।
ভাই মহররমের মিছিলে আছি। এটা কি কল করার সময় হলো ? বলছি তো আপনার টাকা আপনি পাবেন। রাখেন, পরে ফোন দিচ্ছি।
এটুকু বলেই অপু ফোন কেটে দিল। বিরক্তিতে ওর ভুরু কুঞ্চিত, ঠোঁট ঈষৎ বেঁকে গেছে। মিছিলটা সরু আর সর্পিল পথ পেরিয়ে আজিমপুরের প্রশস্ত রাস্তায় এসে সামান্য ঢিলে হয়ে গেছে। সেই শৈথল্যকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে মর্সিয়ার সকরুণ ধ্বনি। মিছিলের একটা দল এখন নিজেদের পিঠে শিকল দিয়ে আঘাত করে জঞ্জির মাতম আরম্ভ করেছে। কেউ কেউ শরীরে ছুরির পোঁচ দিয়ে তাতবির করছে। তাতবিরের দলে অপুও আছে। সরকার মহররমের মিছিলে আত্মপীড়ন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু কারবালার বিয়োগব্যথায় বিচূর্ণ অনেক হৃদয় সেই নিষেধ মানে না। জঞ্জির আর তাতবিরে ওদের বুক-পিঠ রক্তাক্ত হয়ে গেছে। ওরা গগন বিদীর্ণ করে মাতম তুলছে, ‘ইয়া হোসেন’, ‘ইয়া হোসেন’।
নীলক্ষেত, নিউমার্কেট আর সায়েন্স ল্যাবের বাণিজ্য আর বিদ্যা মিশ্রিত আবহ মুহূর্তে বদলে গেল মহররমের মিছিলের শোকের মাতমে। মেঘ ফাঁকি দেওয়া সূর্যটা এখন বিকেলের দিকে গড়াতে শুরু করেছে। মিছিলটা ধানমন্ডি লেকের পাড়ে আসতেই মৃদুমন্দ বাতাস সবার ঘামঘন শরীরে স্বস্তি ছুঁয়ে দিল। সবাই এখন সমাপনী মোনাজাতে শরিক হয়েছে। এটাই মহরমের মিছিলের অন্তিম পর্ব। ইমাম সাহেব বললেন,
আসসালামু আলাইকা ইয়া হোসেন; সালাম হে কারবালার মজলুম শহীদগণ। হে মাবুদ, এই মহান ত্যাগের উছিলায় আমাদের গুনাহ মাফ করো এবং সত্যের পথে কবুল করো। আমাদের এই শোক আর আহাজারি তুমি কবুল করো—ইলাহী আমিন
মোনাজাত আর জিয়ারতে আশুরা শেষ হতেই শিরনি নিয়ে যে যার পথে চলে গেল। কেবল একটা নিথর দেহ পড়ে রইল লেকের কোনায়। ওর নিষ্প্রভ চোখ দুটো যেন আকাশের স্থির মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
২
আজ সকালে হাতিরঝিলে হাফ ম্যারাথন ছিল। একুশ কিলোমিটার পেরোতে লাবণির লেগেছে দু ঘণ্টা দশ মিনিট। প্রবল বৃষ্টিতে একসময় পাশের লেকটাও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। অল্পের জন্য পোডিয়াম মিস করেছে লাবণি। তবে এবারের হাফ ম্যারাথনে ওর লক্ষ্য ছিল দু ঘণ্টা পনেরো মিনিটের আগে শেষ করা। সেটা সে ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছে। উনিশ কিলোমিটারে গিয়ে পেশিতে টান না ধরলে আরেকটু আগেই দৌড় শেষ করা যেত। সব মিলিয়ে আজকের রেজাল্টে লাবণি সন্তুষ্ট। ম্যারাথন শেষে বাড়ি ফিরে লাবণি আজ একটু সময় নিয়ে গোসল করছিল। লাবণির মা আয়েশা বেগম দরজায় নক করে বললেন, লাবণি, সানজানা এসে অপেক্ষা করছে দশ মিনিট হলো। আর কতক্ষণ গোসল করবি ?
লাবণি অবাক হয়ে বলল, সানজানা! তুমি ওর সাথে গল্প করো। আমি পাঁচ মিনিটেই বের হচ্ছি।
ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর সানজানার সাথে লাবণির কোনো যোগাযোগ নেই। সানজানা এখন কী করছে সেটাও লাবণি জানে না। ঠিক পাঁচ মিনিট পরে লাবণি ড্রইংরুমে ঢুকে দেখল, আয়েশা বেগম সানজানাকে পুরোনো অ্যালবাম দেখাচ্ছেন। সানজানা ওর কোমরসমান লম্বা চুলগুলো কেটে কাঁধ অবধি নিয়ে এসেছে। কেন কে জানে ? লাবণিকে দেখে সানজানা ছুটে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বলল, লাবণি! কেমন আছিস ? কতদিন পর! খোঁড়াচ্ছিস কেন ?
হাফ ম্যারাথন করে আসলাম। মাসল ক্র্যাম্প হয়েছিল।
হাফ ম্যারাথন! এজন্যই এখনো এত ফিট আছিস তুই। গোয়েন্দা হিসেবে নিশ্চয় অনেক ট্রেনিং নিতে হয় ? সবার কাছে তোর কথা শুনি কিন্তু দেখা হয় না। তুইও তো রিইউনিয়নটা মিস করলি।
হ্যাঁ, রিউনিয়নে গেলে অনেকের সাথেই দেখা হতো। তখন আমার জাপানে একটা ট্রেনিং ছিল রে। তুই কেমন আছিস ? কী করছিস ?
আয়েশা বেগম উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, সানজানা, আমার কিছু কাজ আছে। তোমরা গল্প করো। দুপুরে খেয়ে যাবে কিন্তু।
না, খালাম্মা, আজ না। ওয়াসিমের সঙ্গে রাওয়া ক্লাবে একটা দাওয়াতে যেতে হবে।
আয়েশা বেগম চলে যেতেই লাবণি বলল, ওয়াসিম কি তোর হাজবেন্ড ?
হাজবেন্ড মানে একেবারে পাঁচ বছরের পুরোনো। বদলাবার টাইম হয়ে গেছে। দুটো মেয়েও আছে আমার। খালাম্মা বলেছে এখন তোর জন্য ছেলে খুঁজতে।
বিয়ে নিয়ে কোনো আলাপে লাবণি অস্বস্তি বোধ করে। তাই প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল, এতদিন পর হঠাৎ আমার খোঁজ পড়ল কেন ?
তুই তো এখন ডিবিতে আছিস, তাই না ?
না, না। সিআইডিতে। আগে ইন্সপেক্টর ছিলাম, এ বছর থেকে এ এস পি।
কনগ্রাচুলেশন্স। তাহলে তো আরও ভালো। আমার ছোটবেলার বান্ধবী তানিয়ার কথা মনে আছে ? ওকে নিয়ে একবার তোদের আগের বাসায় এসেছিলাম।
কোন তানিয়া ?
সুন্দরী তানিয়া, চোখের নিচে তিল আছে।
আবছা করে মনে পড়ছে। কী হয়েছে ওর ?
তানিয়ার কিছু হয় নি। কিন্তু তানিয়ার ভাই অপু কাল হঠাৎ মারা গেছে।
কীভাবে ?
সেটাই প্রশ্ন। ইয়াং ছেলে, মাত্র আটাশ বছর বয়স।
খুলে বল।
কাল ও হোসেনি দালানে মহররমের মিছিলে গিয়েছিল। প্রতি বছরই যায়। মহররমের মিছিলে অনেকে শিকল দিয়ে আবার অনেক ছুরি দিয়ে নিজের গায়ে পিঠে আঘাত করে। কারবালার যন্ত্রণাকে অনুভব করতে চায়। দেখিস নি কখনো ?
অনেক আগে দেখেছি নাজিমুদ্দিন রোডে। কিন্তু এগুলো এখন নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশে কেউ নিষেধ মানে ? আর এগুলো ধর্মীয় আবেগের ব্যাপার। এখনো অনেকে করে, তোদের পুলিশরাই দেখে না দেখার ভান করে।
বুঝলাম। অপুর কী হয়েছিল ?
এগুলোকে বলে জঞ্জির আর তাতবির। অপু তাতবির করছিল, মানে নিজের বুকেপিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে।
তারপর ?
মিছিল শেষ হলো। অপু যে ধানমন্ডির লেকের এক কোণে পড়ে ব্লিডিং হয়ে মারা গেছে, সেটা কেউ অনেকক্ষণ খেয়ালই করে নি। পরে একজন দেখে পুলিশে খবর দেয়।
ব্লিডিং হয়ে মারা গেল ? এমন ঘটনা তো আগে শুনি নি।
পুলিশ তাই বলছে। কিন্তু তানিয়া এটা মানতে চাইছে না। ও আমাকে রিকোয়েস্ট করল তোকে জানাতে।
তানিয়া ভাবছে অস্বাভাবিক মৃত্যু ?
অপু খুব হেলদি ছিল। প্রত্যেক বছরই তো মহররমের মিছিলে এই কাজ করে। তানিয়া বলছে হঠাৎ এমন হবে কেন। তুই কি একটু থানায় খোঁজ নিয়ে দেখবি ?
ঠিক আছে। অপুর ডিটেলস লাগবে।
আমার ফোনে অপুর এনআইডি কার্ডের কপি আছে। তোর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিলে ফরোইয়ার্ড করে দিব।
লাবণি ওর নম্বর দিতেই সানজানা অপুর এনআইডি কপির কার্ড পাঠিয়ে দিল। লাবণি ধানমন্ডি থানায় ফোন করে বলল, আমি সিআইডি থেকে এএসপি লাবণি বলছি। ওসি সাহেব আছেন ?
ধানমন্ডি থানার ওসি ফোন ধরে বললেন, স্যার, আমি ওসি আব্দুল ওয়াহাব। কী করতে পারি বলুন।
কাল ধানমন্ডির লেকের কাছে একটা ডেডবডি পাওয়া গেছে না ?
জি, মহররমের মিছিলে নিজের ছুরির ঘায়ে ব্লিডিং হয়ে নিজেই মরে গেছে।
ডেডবডি কী করেছেন ?
সুরতহাল করে, একটা ইউডি এফআইআর করে বডি বিপি ফোর্টিনাইনে ডিএমসি পাঠিয়ে দিয়েছি।
পোস্টমর্টেম হয়েছে ?
ডাক্তার ডেডবডি দেখে জানিয়েছেন, ভিক্টিম অতিরিক্ত রক্তরণে মারা গেছে। পোস্টমর্টেম দরকার নেই। ওর রিলেটিভদের ডেডবডি নিয়ে যেতে বলেছি। উনি কি আপনার পরিচিত স্যার ?
হ্যাঁ। আমি একবার ডেডবডি দেখতে চাইছি। পোস্টমর্টেম লাগলে আমরা সিআইডি থেকে রিকোয়েস্ট পাঠাব। আপাতত বডি হ্যান্ডঅভার করবেন না।
ঠিক আছে স্যার। আমি জানিয়ে দিচ্ছি। আপনি কখন যাবেন ?
ঘণ্টা দুয়েকের ভেতর। ধন্যবাদ। রাখছি এখন।
লাবণি ফোন রেখে সানজানার দিকে তাকিয়ে বলল, শুনলি তো আমার কথা। তোর বান্ধবী চাইলে আমি পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করতে পারি। আবার আমার কোনো সন্দেহ হলে, আমি নিজেই পোস্টমর্টেমের সিদ্ধান্ত নিব।
আমি কি আসব তোর সাথে ?
আসতে পারিস, তবে তোকে রিসেপশনে ওয়েট করতে হবে। পাঁচ মিনিট দে, আমি ঝটপট রেডি হয়ে আসছি।
মিনিট দশেক পর লাবণির বিএমডাব্লিউ এক্স ওয়ান সাতমসজিদ রোড দিয়ে ছুটল ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে।
(চলবে)
Leave a Reply
Your identity will not be published.