বাংলা কথাসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমদাদুল হক মিলন। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে, নানাবাড়িতে। বাবা গিয়াসুদ্দিন খান। মা আনোয়ারা বেগম। ১৯৭৯ সালে ইমদাদুল হক মিলন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।
ইমদাদুল হক মিলনের লেখা প্রথম গল্প ‘বন্ধু’। এটি ‘পূর্বদেশ’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘চাঁদের হাট’-এ ১৯৭৩ সালে ছাপা হয়েছিল। প্রথম বড়দের গল্প ‘শঙ্খিনী’। আর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ-গল্প সংকলন ‘ভালোবাসার গল্প’। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন’। বিক্রমপুরের পটভূমিতে লেখা জীবনঘনিষ্ঠ এই রচনার জন্য তিনি সাহিত্য সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন। তবে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেন ১৯৭৭ সালে, সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ‘সজনী’ নামে একটি গল্প লিখে।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে, উপন্যাস : অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকাজল, পরবাস, কালোঘোড়া, বনমানুষ, ভূমিপুত্র, নদী উপাখ্যান, পর। তবে তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হচ্ছে ‘নূরজাহান’। বিক্রমপুরের পটভূমিতে রচিত তিন খণ্ডের এই উপন্যাসে তিনি কুসংস্কার, সমাজে নারীদের অবস্থান, ধর্ম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যসহ এই দেশ ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরেছেন। আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘এমন জনম’-ও সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। গল্পকার হিসেবে ইমদাদুল হক মিলন সাধারণ পাঠকদের কাছে এখনো অনাবিষ্কৃত। তাঁর ‘জোয়ারের দিন’, ‘গাহে অচিন পাখি’, ‘মমিন সাধুর তুকতাক’ ইত্যাদি গল্পে শুধু জীবনের গভীরতাই প্রকাশিত হয় নি, মানুষের বিচিত্র মনস্তত্ত্বও মূর্ত হয়ে উঠেছে। ‘ভূতের নাম রমাকান্ত কামার’, ‘সাত কিশোরের অভিযান’সহ তিনি ছোটদের জন্যও কয়েকটি চমৎকার বই লিখেছেন। একজন নাট্যকার হিসেবেও ইমদাদুল হক মিলন সুপরিচিত। তাঁর লেখা ‘যত দূরে যাই’, ‘কোন কাননের ফুল’, ‘রূপনগর’, ‘বারো রকম মানুষ’-এর মতো মৌলিক নাটক যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে তেমনি শহীদুল্লাহ কায়সারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘সংশপ্তক’-এর নাট্যরূপ দিয়েও হয়েছেন প্রশংসিত।
বাংলা সাহিত্যে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইমদাদুল হক মিলন পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক (২০১৯)। ১৯২৩ সালে কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য লাভ করেন ‘এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’।
ইমদাদুল হক মিলন ‘অন্যদিন’ পরিবারের একজন। দীর্ঘদিনের পথচলায় তাঁর সঙ্গে গড়ে উঠেছে এক আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি, অনেক ভালোবাসা।
প্রিয় কথাসাহিত্যিক, আপনাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। কথাসাহিত্যের ভুবনে আপনার সৃজনশীলতা অব্যাহত থাকুক। আরও সমৃদ্ধ হোক সাহিত্যের এই শাখাটি।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় ইমদাদুল হক মিলন।
Leave a Reply
Your identity will not be published.