চলতি সংখ্যা
বর্ষ ২৬ সংখ্যা ০২
গৌরবের ২৫ বছর

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফল

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফল

‘এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি/খোদা তোমার মেহেরবানি’— এই গানে প্রকৃতির একটি গভীর সত্য ধরা পড়েছে। ফুল আর নদীর পানির মতোই ফল ঈশ্বর বা প্রকৃতির এক চমৎকার উপহার। বিভিন্ন ঋতুতে নানা গন্ধের নানা স্বাদের ফল পাওয়া যায়। এইসব ফল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। শুধু সুস্বাদু খাবার হিসেবেই নয়, এইসব ফলের রয়েছে ওষুধি গুণও। মানবজাতির প্রথম এবং প্রাচীনতম খাদ্য ফল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মেধার বিকাশে সত্যিই এ অনন্য। এই ফলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এবারের প্রচ্ছদ রচনা।

বেল

গ্রীষ্ম মৌসুমের ফল বেল। এতে আছে প্রচুর শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে বেলের শরবত নিমিষেই প্রাণ জুড়ায়। এ ছাড়া যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য বেলের শরবত খুবই উপকারী। আর আমাশয় সারাতেও বেল অনেক উপকারী। এই ফলের পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে চোখের ছানি ও চোখ জ্বালা করা রোগের উপশম হয়। এতে থাকে প্রচুর শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

আনারস

পাকা আনারস শক্তি বাড়ায়। কফ নিরাময়ে সহায়ক, পিত্তনাশক এবং হজম বৃদ্ধি করে। এ ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কৃমি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আনারসে ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে। পাকা ফল বল বৃদ্ধি করে।  কাঁচা ফল গর্ভপাতকারী। পাকা ফলের রসে ব্রোমিলিন নামক এক জাতীয় জারক রস থাকে বলে এটি পরিপাক ক্রিয়ার সহায়ক হয় এবং এ রস জন্ডিস রোগে হিতকর। এক গবেষণায় দেখা গেছে আনারসের মধ্যে আছে এক ধরনের এ্যানজাইম, যা কাজ করে প্রদাহ নাশক হিসেবে। আছে প্রচুর ভিটামিন আর মিনারেল। সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় আনারস এক মোক্ষম অস্ত্র। জ্বরেরও খুব ভালো ওষুধ আনারস। আর আনারস হজমেও সাহায্য করে বৈকি। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে আনারস। আনারস ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। তাই যে-কোনো অসুস্থতার পরে মুখে রুচির জন্য আনারস খেতে পারেন। ১০০ গ্রাম আনারসে পাওয়া যায় ৪৮ ক্যালরি। এতে কার্বোহাইড্রেট আছে ১২.৬৩ গ্রাম, ফ্যাট ০.১২ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫৪ গ্রাম। আনারসে ভিটামিন-এর মধ্যে আছে বি, সি এবং মিনারেল-এর মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক। অপুষ্টিজনিত কারণে কেউ রোগা থাকলে, আনারস যে কয়টা দিন পাওয়া যায় রোজ খান। এটি স্বাস্থ্যগঠনে ভূমিকা রাখে। পেট ফাপলে আনারসের কয়েক টুকরো লবণ ও গোলমরিচ মাখিয়ে খান।

তরমুজ

গরমে ক্লান্তি দূর করতে এই ফলের তুলনা হয় না। ওই সময় তরমুজ তৃষ্ণা মেটায়। রক্তস্বল্পতা দূর করে। রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে লৌহ পদার্থ। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের উৎকৃষ্ট উৎস। সকালে ব্রেকফাস্টের মেন্যুতে তরমুজ থাকলে তা স্নায়ু ও পেশির কাজে সাহায্য করার সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এতে বাচ্চাদের চোখ এবং হাড় ভালো থাকে; বড়দের হার্টের সমস্যা দূর হয়। সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচাতে তরমুজের জুড়ি নেই। তরমুজের বীজ খেলে অনিদ্রা দূর হয়, চুল ও ত্বক ভালো থাকে। ১০০ গ্রাম তরমুজ-এ পাওয়া যায় ৩০ ক্যালরি। এতে কার্বোহাইড্রেট আছে ৭.৫৫ গ্রাম, ফ্যাট ০.১৫ গ্রাম, প্রোটিন ০.৬১ গ্রাম। তরমুজে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক। উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তচাপ ও স্ট্রোক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, কিডনিতে পাথর ও বার্ধক্যজনিত হাড় ক্ষয় রোধ করে। তরমুজের রস খেলে তাক্ষণিক ক্লান্তি দূর হয়। আমাদের দেশে দুই রঙের তরমুজ দেখা যায়। কালচে এবং সবুজ তরমুজ দেখা যায়। দুধরনের তরমুজেই পুষ্টিমান সমান। এর আয়রন ও ক্যারোটিন যথাক্রমে রক্তাস্বল্পতা ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।  কোষ্ঠকাঠিন্য ভালোর জন্য তরমুজের রস উপকারী। যাদের দেহে আয়রনের পরিমাণ কম, তাদের জন্য তরমুজ খুবই উপকারী ফল।

আমলকি

শীতের ফলগুলোর মধ্যে আমলকী আরেকটি সুস্বাদু ফল। আমলকিকে বলা হয় ভিটামিন সি-এর রাজা। আর এই ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের সুরক্ষা, মাঢ়ি মজবুত করতে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি-তে ভরপুর আমলকী খেলে দাঁত, চুল, ত্বক ভালো থাকে। এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, অম্ল, রক্তাল্পতা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে। আমলকির ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। এই আমলকি বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। আমলকি ত্বক, চুল ও চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী। আমলকি হজমে সাহায্য করে ও স্টমাকে আসিডের ব্যালেন্স বজায় রাখে। আমলকি লিভার ভালো রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে। ফলে মেন্টাল ফাংশনিং ভালো হয়। আমলকি ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। হার্ট সুস্থ রাখে, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে। শরীর ঠান্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশি মজবুত করে। লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভালো রাখে। জ্বর, বদহজম, সানবার্ন, সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। আমলকির জুস দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্য উপকারী। ছানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় উপকারী। পেটের জ্বালাভাব কম রাখে। লিভারের কার্যকলাপে সাহায্য করে, পাইলস সমস্যা কমায়। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। ব্রঙ্কাইটেস ও অ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

জলপাই

জলপাই শীতকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। জলপাইয়ের পাতা ও ফল দুটোই ভীষণ উপকারী। এটির রস থেকে যে তেল তৈরি হয়, সেটিরও রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। টক জাতীয় এ ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন-ই। এই ভিটামিনগুলো দেহের রোগজীবাণু ধ্বংস করে, উচ্চরক্তচাপ কমায়, রক্তে চর্বি জমে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহ ভালো রাখে। এতে হৃৎপিণ্ড থেকে বেশি পরিশোধিত রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছায়, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। এ ফলের আয়রন রক্তের কর্মশক্তি বাড়ায়। জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে আঁশ জাতীয় উপাদান। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, কোলনের পাকস্থলির ক্যানসার দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। জলপাইয়ের পাতারও রয়েছে যথেষ্ট ওষুধি গুণ। এ পাতা ছেঁচে ক্ষত হওয়া স্থানে লাগালে তা দ্রুত শুকোয়। বাতের ব্যথা, ভাইরাসজনিত জ্বর, জন্ডিস, কাশি, সর্দিজ্বরে জলপাই পাতার গুঁড়া পথ্য হিসেবে কাজ করে।

জাম্বুরা

জাম্বুরা অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সহজলভ্য ফল। কোনো জাম্বুরার ভেতর টকটকে লাল, আবার কোনোটির ভেতরে সাদা। লাল রঙের জাম্বুরা বেশি ভেষজগুণ সমৃদ্ধ। এজন্য কেনার সময় ক্রেতারা ভেতরে লাল এমন জাম্বুরা কিনতে আগ্রহী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন সি’র পরিমাণ ১০৫ মিলিগ্রাম। কেউ কেউ জাম্বুরার রস বের করে পান করেন। আবার কেউ চিবিয়ে খান। হেকিমদের মতে, চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। জাম্বুরায় ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে শ্বেতসার, ক্যালসিয়াম, আমিষ, আয়রন, ক্যারোটিন ইত্যাদি। বর্ষা শেষে শরতের প্রারম্ভে এই ফল পাওয়া যায়। এই সময় যদি প্রতিদিন আমরা একবার জাম্বুরা খাই, তাহলে ঠান্ডা লাগা, সর্দি লাগা, দাঁত কনকন করা থেকে রক্ষা পেতে পারি। প্রতি ১০০ গ্রাম জাম্বুরার মধ্যে রয়েছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম, মুক্ত চিনি ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও চর্বি ১২০ মি. গ্রা.। বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন ‘বি’ও থাকে। ক্যালোরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থূলকায়দের জন্য খুবই উপকারী ফল।

কলা

কলায় থাকে তিনটি প্রাকৃতিক চিনি—সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ। আরও থাকে প্রচুর ফাইবার যা শরীরকে যোগান দেয় তাৎক্ষণিক শক্তি। ৯০ মিনিটের কষ্টসাধ্য ব্যায়ামের জন্য শক্তি জোগাতে দুটো কলাই যথেষ্ট! এজন্যই পৃথিবীর বড় বড় এথলিটদের কাছে কলাই হলো এক নম্বর ফল। কলায় থাকে ট্রিপটোফ্যান নামক প্রোটিন, যা শরীরে গিয়ে সেরোটোনিনে রূপান্তরিত হয়। সেরোটোনিন আপনার মনকে রিলাক্স করে, আপনার মুড ভালো করে তোলে। কলায় থাকে প্রচুর আয়রন, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে—যা এনিমিয়া রোগের জন্য অত্যন্ত সাহায্যকারী। কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে এবং এতে লবণ কম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খুবই ভালো কম্বিনেশান। বলা হয়, স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী। পটাশিয়ামের উপস্থিতি মস্তিষ্ককে দ্রুত শিখতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ভালো করে তোলে। কলায় প্রচুর ফাইবার থাকে। পাকা কলা খেলে পায়খানা নরম হয়। আবার কাঁচাকলা খেলে ডায়রিয়ার সময় উপকার পাওয়া যায়। কলায় প্রাকৃতিক এন্টাসিড থাকে। বুক জ্বললে একটা কলা খান। সকাল ও দুপুরের মাঝে সকাল ১০টায় একটা কলা খেতে পারেন। আপনার রক্তে সুগার লেভেল ঠিক রাখবে এবং মাথা গোলানো থেমে যাবে। অনেকে মন খারাপ থাকলে/কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকলে নিজের অজান্তেই জাংক ফুড খেতে থাকেন। এরকম চাপে থাকলে আমাদের ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখা প্রয়োজন, যা প্রতি দুই ঘণ্টায় একটি কলা খেলে ঠিক রাখা সম্ভব। কলা আলসারের জন্য উপকারী। পাকস্থলির অম্লতা কমাতে সাহায্য করে। শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে একটি কলা খান।

পেঁপে

পাকা পেঁপে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে। অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, কিডনি ও ক্যানসার নিরাময়ে কাজ করে। পাকা পেঁপে ফল ও কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। পেঁপের আঠা ও বীজ কৃমিনাশক এবং প্লীহা ও যকৃতের জন্য উপকারী।

আমড়া

আমড়ায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম আর আঁশ আছে—যেগুলো শরীরের জন্য খুব দরকারি। হজমেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তেল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর আমড়া খেয়ে নিতে পারেন; হজমে সহায়ক হবে। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি খেলে স্কার্ভি রোগ এড়ানো যায়। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধেও লড়তে পারে আমড়া। অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে দেয়। সর্দি-কাশি-জ্বরের উপশমেও আমড়া অত্যন্ত উপকারী। ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এই আমড়া। এ ছাড়া এটি রক্তস্বল্পতাও দূর করে।  এটি পিত্তনাশক ও কফনাশক। আমড়া খেলে মুখে রুচি ফেরে, ক্ষুধা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। খাদ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং ই এটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। দাঁতের মাঢ়ি শক্ত করে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আমড়া কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ওজন কমাতে সহায়তা করে। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান থাকায় আমড়া বার্ধক্যকে প্রতিহত করে। ক্ষুধামন্দাভাব দূর হয়। কফ দূর করে। পাকস্থলী সুস্থ রাখে। ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধেও আমড়া কাজ করে।

ডালিম  

ডালিম হৃদযন্ত্রকে রাখে সুস্থ, রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই ফল। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি। ডালিমের রস কুষ্ঠরোগের উপকারে আসে। ডালিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বিশাল ভাণ্ডার। এ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহ কোষকে দারুণভাবে মুক্ত রাখে। ফলে আমরা অসময়ে বুড়িয়ে যাই না। রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ডালিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডালিম রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তপ্রবাহ সাবলীল রাখে। দুটি আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে প্রোস্টেট ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ডালিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে তাদের মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। তবে এটাও সত্য যে ডালিম হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

আপেল

প্রবাদ আছে, যদি প্রতিদিন একটি আপেল খাও, ডাক্তার দূরে থাকবে। অর্থাৎ দিনে একটি আপেল খেলে সুস্থ থাকা যায়। যারা অল্পে রেগে যায়, অনিদ্রায় ভোগে, তারা প্রতিদিন একটি লাল আপেল খোসাসহ খেলে সমস্যা চলে যাবে। শিশুর হজমশক্তি কমে গেলে লাল আপেল বেটে রস খাওয়ালে বদহজম ও হজমশক্তিহীনতা দূর হবে। আপেলে আছে শকর্রা, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ, পেকটিন ও ম্যালিক এসিড। শর্করা প্রায় ৫০ শতাংশ। ভিটামিনের মধ্যে আছে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি এবং এগুলোর উপস্থিতি আপেলের ছালে ও ছালের সঙ্গে লাগানো মাংসল অংশেই বেশি। আপেলের ছালে মাংসল অংশের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি ভিটামিন-এ আছে। খনিজ লবণের মধ্যে আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। সোডিয়ামের পরিমাণ খুবই সামান্য। আপেল ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আপেলের মধ্যে পেকটিন জাতীয় একটি উপাদান থাকে, যা শরীরকে কোলন ক্যানসার থেকে দূরে রাখে। ফুসফুসের ক্যানসার ও লিভার ক্যানসার প্রতিরোধেও আপেলের ভূমিকা আছে। আপেল কমায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও। আপেলের লৌহ রক্তশূন্যতায় উপকারী। আঁশ ক্ষতিকর কলেস্টেরল এলডিএল কমায়। হার্ট অ্যাটাক ও স্টোক প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়। ভিটামিন-সি দাঁতের মাঢ়ির জন্য উপকারী। ত্বক মসৃণ রাখতেও আপেলের জুড়ি নেই। পানিশূন্যতা পূরণেও আপেল সহায়ক। আপেলে পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে। পেকটিন ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে আপেল।

পেয়ারা

পেয়ারায় অতিমাত্রায় ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এই ফলে সোডিয়াম থাকে না কিন্তু পটাশিয়াম থাকে। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ জলীয় পদার্থ থাকায় গরমের অত্যন্ত উপযোগী ফল। এতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকায় গরমে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস এবং হাইপার টেনশনে কাঁচা পেয়ারা খাওয়া ভালো। এতে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে চোখ ভালো থাকে। এতে কপার থাকায় থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়ায়। পেয়ারাতে থাকা ফাইবার কনস্টিপেশন দূর করে এবং ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে। পেয়ারায় বিদ্যমান উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ও সি ত্বক, চুল ও চোখের পুষ্টি জোগায়, ঠান্ডাজনিত অসুখ দূর করে। ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য ময়েশ্চার জরুরি। পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ময়েশ্চার, যা তারুণ্য বজায় রাখে দীর্ঘদিন, ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করে ও শীতে পা ফাটা রোধ করে। পেয়ারার ভিটামিন-এ রাতকানা রোগ ভালো করে। পেয়ারার খোসায় রয়েছে আঁশজাতীয় উপাদান। পেয়ারার ভেতরেও রয়েছে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পেয়ারায় রয়েছে ক্যারটিনডে, পলিফেনল, লিউকোসায়ানিডিন ও অ্যামরিটোসাইড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ক্ষতস্থান শুকানোর ক্ষেত্রে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ত্বককে ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ত্বক, চুল ও দাঁতের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। পেট ভালো রাখতে পেয়ারা খান নিয়মিত। ডায়াবেটিস রুখতে পেয়ারার জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। এটি প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। জীবনীশক্তিও বাড়াতে সাহায্য করে এটি।

তেঁতুল

হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে তেঁতুল খুব উপকারী। তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোলেস্টেরল কমায়, শরীরের মেদ কমাতেও কাজ করে। পেটে গ্যাস, হজম সমস্যা, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। খিদে বাড়ায়, গর্ভাবস্থায় বমি বমি বমি ভাব দূর করে, মুখের লালা তৈরি হয়, তেঁতুল পাতার ভেষজ চা ম্যালেরিয়া জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। শিশুদের পেটের কৃমিনাশক। তেঁতুল ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে, পাইলস চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়, মুখে ঘা ও ত্বকের প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে। তেঁতুল রক্ত পরিষ্কার করে, বাত বা জয়েন্টগুলোতে ব্যথা কমায়, ভিটামিন সি-এর বড় উৎস। পুরোনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে। পাকা তেঁতুলে খনিজ পদার্থ অন্য যে-কোনো ফলের চেয়ে অনেক বেশি। খাদ্যশক্তিও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি আর আয়রনের পরিমাণ নারকেল ছাড়া সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি।

লেবু

লেবুতে আছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি আর পটাশিয়াম। এ দুটি উপাদান মিলে শরীরের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এছাড়া লেবুর পটাশিয়াম হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতাও বাড়ায়। সুস্থ দাঁতের জন্য তাজা লেবুর রস দাঁতের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। মাঢ়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে লেবু খুব কার্যকর। মুখের গন্ধ রোধেও লেবুর রস সহায়ক। আর দাঁতে প্লাক জমার কারণে যে অনাকাক্সিক্ষত দাগ পড়ে, তা সারাতেও লেবুর রস সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। গলার সংক্রমণ রোধে লেবুর রসে আছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, যার ফলে গলাব্যথা, মুখের ঘা আর টনসিলের সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে লেবু। সুন্দর ত্বকের জন্য ত্বকের ক্ষত পূরণে লেবু ভারি কার্যকর। লেবু ত্বকে কোলাজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় আরও। ত্বকের পোড়া ভাব যেমন দূর করতে পারে লেবু, তেমনি চোখের চারপাশের কালো দাগও মিলিয়ে দিতে পারে।

খেজুর

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রিয় খাবার ছিল। সারা বছর খেজুর না খাওয়া হলেও রমজান মাসে খাওয়া সবার জরুরি। খেজুর খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর হয়। স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে। রোজায় অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকা হয় বলে দেহের প্রচুর গ্লুকোজের দরকার হয়। খেজুরে অনেক গ্লুকোজ থাকায় এ ঘাটতি পূরণ হয়। হৃদরোগীদের জন্যও খেজুর বেশ উপকারী। খেজুরে প্রচুর খাদ্য উপাদান রয়েছে। খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী। হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক। রুচি বাড়ায়। ত্বক ভালো রাখে। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খেজুরের আঁশ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। পক্ষাঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী। ফুসফুস সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে। অন্তঃসত্তা নারীর সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এ ফল প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।

সফেদা

সফেদা নানা গুণে সমৃদ্ধ। সফেদায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি এবং বি কমপ্লেক্স রয়েছে। এই ফল ত্বক, চুল ও দাঁতের জন্য বেশ ভালো। পাকা সফেদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, কপার, আয়রন। এসব খাদ্য উপাদান মেটাবলিক ফাংশন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সফেদায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও সফেদা ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখতে ও চুলের চকচকে ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে। সফেদা কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। বীজের নির্যাস কিডনির পাথর সারাতে আযুর্বেদে ব্যবহার করা হয়।

কদবেল

এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং স্বল্প পরিমাণে লৌহ, ভিটামিন বি-১ ও ভিটামিন সি আছে। কদবেল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের বলবর্ধক হিসেবে কাজ করে। বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ালে ক্ষতস্থানে ফলের শাঁস এবং খোসার গুঁড়ার প্রলেপ দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কচি পাতার রস দুধ ও মিছরির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে ছোট ছেলেমেয়েদের পিত্তরোগ ও পেটের অসুখ নিরাময় হয়।

ড্রাগন ফল

অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ড্রাগন ফল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ড্রাগন ফল দেখতে ছোট এবং লাল টুকটুকে। খেতে দারুণ সুস্বাদু। স্বাস্থ্যকরও বটে। ড্রাগন ফল নিয়মিত খেলে জটিল রোগসহ আরও অনেক রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এছাড়া এই ফল ডায়বেটিস ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ, কোলেস্টরেল ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাজমা ও ঠান্ডা-কাশির রোগীদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আঙুর

প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ এই ফল আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। কোলেস্টেরল স্তর কমিয়ে ফেলে। এতে এক ধরনের যৌগ রয়েছে যার নাম ‘টেরস্টিলবেন’। এটি আমাদের শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। আঙুরে মাইক্রো-পুষ্টি বিদ্যমান। যেখানে রয়েছে কপার, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম। এইসব উপাদান হাড় মজবুত করে এবং হাড়ের ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে। এটি ফুসফুসের ময়েশ্চার স্তর বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন আঙুর খাবার অভ্যাস করলে তা আপনার হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। 

ডুমুর

প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি আছে। ডুমুর ফল টিউমার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি নিবারণে ব্যবহৃত হয়। পাতা চূর্ণ, বহুমূত্র, বৃক্ক ও যকৃতের পাথর নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

আঁশফল

এটি একটি আমিষ ও চিনি সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল। উদারাময় নিবারক ও কৃমিনাশক। চীনের লোকজন এই ফলকে বলকারক বলে মনে করে। ইন্দোচীনে শুকনো ফল থেকে ব্রেনটনিক তৈরি করা হয়।

গাব

এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। দেশি গাবের ফলের খোসার গুঁড়া আমাশয় নিরাময় এবং একজিমা ও চর্মপীড়ার মলম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করলে পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া নিরাময় হয়।

অড়বরই

ভিটমিন সি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। এর রস যকৃত, পেটের পীড়া, হাঁপানি, কাশি, বহুমূত্র, অজীর্ণ ও জ্বর নিরাময়ে বিশেষ উপকারী। আমাশয় প্রতিষেধক ও বলকারক।

কমলা

১০০ গ্রাম কমলাতে আছে ভিটামিন বি ০.৮ মিলিগ্রাম, সি ৪৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৩ মিলিগ্রাম। দৈনিক যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন, তার প্রায় সবটাই একটি কমলা থেকে পাওয়া যায়। কমলায় আছে শক্তি সরবরাহকারী চর্বিমুক্ত ৮০ ক্যালরি, যা শক্তির ধাপগুলোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ক্যানসার প্রতিরোধক, স্বাস্থ্যকর, রক্ত তৈরিকারক এবং ক্ষত আরোগ্যকারী হিসেবে খুবই উপযোগী। কমলা বি ভিটামিন ফোলেটের খুব ভালো উৎস, যা জন্মগত ত্রুটি এবং হৃদরোগের জন্য ভালো কাজ করে। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের ৭ ভাগ পূরণ করা সম্ভব কমলা দিয়ে, যা শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন। কমলা খেলে ত্বকের সজীবতা বজায় থাকে।

Leave a Reply

Your identity will not be published.