প্রেমের গান...

প্রেমের গান...

মন শুধু মন ছুঁয়েছে, ও সে তো মুখ খুলে নি...। এ ধরনের গান সত্যি আমাদের মন ছুঁয়ে যায়, হৃদয় স্পর্শ করে। কেননা হৃদয়ঘটিত ব্যাপার-স্যাপার এ ধরনের গানের কেন্দ্রবিন্দু। আর আমরা যেহেতু রক্তমাংসের মানুষ, সেহেতু ভালোবাসার কাছে নতজানু। তাই তো ভালোবাসার গান, প্রেমের গান আমাদেরকে এত আকর্ষণ করে, প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়।

কখনো কখনো সেই গানের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি আমরা, সেই গানেরই সাথে একাত্ম হয়ে সুরের রামধনু পাখায় ভর দিয়ে ভাবলোকে বিচরণ করি। আবার মর্ত্যলোকে ফিরে এসে কখনো কখনো প্রিয়াকে সেই প্রিয় গানের কলিতে প্রাণের কথা বলি। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, মান্নাদের গাওয়া- ‘আমায় আকাশ বলল তোমার দু'চোখ মেঘ রঙ দিয়ে আঁকতে...।' আবার এই প্রেমের গানই কখনো হয়তো বা কাউকে তার প্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়- যে নাকি চলে গেছে দূরে। যেমন, রবীন্দ্রনাথের লেখা, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি, তোমায় দেখতে আমি পাই নি...।' হ্যাঁ, বর্তমান রচনার বিষয়-বাংলা প্রেমের গান। এই রচনায় প্রসঙ্গটি নানাভাবে উপস্থাপিত হবে।

আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইল না কেহ...

প্রেমের গান প্রসঙ্গে রবীন্দ্র-হৃদয় কথোপকথন ব্যাকুল হয়ে আমাদের শুনতে হবেই। তার এই পর্যায়ের গানগুলির মধ্যে- ‘সখি, ভাবনা কাহারে বলে’, ‘আমার মল্লিকা বনে যখন প্রথম ধরেছে কলি’, ‘বঁধু কোন আলো লাগল চোখে’, ‘আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান’, ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে', সহে না যাতনা’, ‘ভালোবেসে যদি সুখ নাহি’, ‘আহা আজি এই বসন্তে’, ‘আমার একটি কথা বাঁশি জানে’, ‘ভালো যদি বাসো সখী’, ‘তুমি রবে নীরবে’ ইত্যাদি আমাদের হৃদয়কে আলোড়িত করে।

রবীন্দ্রনাথ, যিনি মূলত ও সর্বোপরি প্রেমেরই কবি, সেই তিনি সতেরো বছর বয়সে আমেদাবাদের শাহিবাগ প্রাসাদের ছাদে বসে রচনা করেছিলেন, 'বলি, ও আমার গোলাপবালা'। এটি রবীন্দ্রনাথের প্রেম পর্যায়ের এমন একটি গান- যার কথা তিনি অনেক পরেও সানন্দে স্বীকার করেছেন। বেহাগে বাঁধা এ গানটিতে বুলবুলের উক্তিতে একটি প্রেমিকের চুম্বন-প্রার্থনা প্রত্যক্ষ হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, ১৯০৯ সালের আগের প্রেমের গান মুখ্যত প্রেমিকের বা প্রেমিকার গান। যেমন- পুরোনো সেই দিনের কথা’, ‘ওই জানালার কাছে বসে’,  ‘বঁধু, মিছে রাগ করো না’, ‘দুজনে দেখা হলো মধুযামিনীরে’…। এইসব গানের বাণীতে অনুভূতির একরৈখিক সরলতা, অকৃত্রিমতা, ভাবাবেগের তীব্রতা প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি আবার এ কথাও সত্যি যে, কালজয়ী হয়েও এসব গানে আধুনিক মনের প্রতিধ্বনি নেই।

রবীন্দ্রনাথের গানের বাণীতে আধুনিক আত্মসচেতনতার আভা লেগেছে ‘চিত্রাঙ্গদা' নাট্যকাব্যের পর থেকে। তখন দেখা গেছে, একই উপাদান সত্ত্বেও গানের বাণীতে অনুভূতির নতুন মেজাজ ফুটে উঠেছে। যেমন, ‘আমার মন মানে না দিনরজনী’ এবং ‘জাগরণে যায় বিভাবরী’ গান দুটিতে দেখা যায় যে, প্রথম গানের ‘চোখের জল’, ‘হৃদয় বাঁশি’ দ্বিতীয় গানটিতেও আছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, প্রথম গানটিতে নায়িকা প্রেমের উপলব্ধিজনিত আত্মগৌরবকেই ব্যক্ত করেছে এবং দ্বিতীয় গানে যেহেতু প্রেমিকার একাকিত্বের যন্ত্রণাই মুখ্য, সেহেতু তা প্রথম গানের তুলনায় মিতভাষী। অতএব দেখা যায়, অভিমানী প্রেমিক উচ্চকিত হতে দেয় না তার বেদনাকে। অভিমানের অভিব্যক্তি মিতভাষণে-‘ডেকো না আমারে ডেকো না'। এই মিতবাক যন্ত্রণাতে আধুনিক মনের প্রতিধ্বনি ধরা পড়ে।

 রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান পরিণত পর্যায়ে না-আনন্দের গান, না-দুঃখের গান। অথচ এ একাকিত্ব নেতিবাচক নয়। সার্ত্রের অস্তিত্ববাদের একাকিত্ব নয়। ‘বসে আছি ভরা মনে- দিতে চাই, নিতে কেহ নাই’ কিন্তু গভীরতর অর্থে এ একান্তই ব্যক্তির নিঃসঙ্গতার উপলব্ধি।

 কিছু গানে দেখা যায়- অচরিতার্থতা আসছে না-পাওয়ার বেদনা থেকে নয়, নিরন্তর পাওয়ার তৃপ্তিহীনতা থেকে। যেমন ‘কাছে থেকে দূরে রচিল’ এবং ‘লুকালে বলেই খুঁজে বাহির করা’-এ দুটি গানে প্রেমিক-প্রেমিকার দৈনন্দিন সঙ্গ ও প্রতিদিনের ম্লান স্পর্শের ফলে সম্পর্কের সরসতা যে নষ্ট হয়ে যায়, চরম আনন্দও যে পুরনো হয়ে যায়, পরম পাওয়াও যে অভ্যাসের হাতে কলুষিত হয়- সেই নিষ্ঠুর সত্য মূর্ত হয়ে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথের গানের আরেকটি ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি যায়- যেখানে পূজা ও প্রেম একাকার। তাই, এই দুই পর্যায়ের কোনো গানকেই মুক্তির গান নামে চিহ্নিত করা যায় না। যেমন- ‘পথে চলে যেতে কোথা কোনখানে তোমার পরশ আসে কখন কে জানে’। অথবা ‘কী অচেনা কুসুমের গন্ধে, কী গোপন আনন্দে’, পূজার গানে যখন সীমার মাঝে অসীম থেকে আমরা পৌঁছই, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’র মতো গানে অথবা প্রেমের গানে যখন ‘ও দেখা দিয়ে যে চলে গেল’ থেকে পৌঁছই আমরা ‘আজ যেমন করে গাইছে আকাশ, তেমনি করে গাও’-এর মতো গানে, তখন পূজা ও প্রেম যেন এক জায়গায় এসে মিলে যায়।

অনেকে বলেন, রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গানে শরীরী আবেদন নেই। এটা ঠিক নয়। যেমন- ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না, বেলা হলো মরি লাজে’, ‘যৌবন সরসী নীরে’, ‘আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা' ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়। যদিও ‘কেন যামিনী না যেতে...' গানটির জন্যে রবীন্দ্রনাথ অশ্লীলতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। যা হোক, তার প্রেমের গান প্রসঙ্গে যথার্থ এবং সামগ্রিক মন্তব্যটি করেছেন সংগীত সমালোচক কানাই সামন্ত- ‘এ কথা বলা বাহুল্য সন্দেহ নেই, পার্থিব এবং অপার্থিব প্রেমের প্রায় এমন কোনো সূক্ষ্ম সুকুমার সুন্দর ভাব অথবা ভঙ্গি নেই রবীন্দ্রনাথ যার ভাষা দেন নি, যা রূপে রসে ছন্দে সুরে শরীরী করে তোলেন নি, যা সুতীব্র প্রবল, প্রখর, তাও ছুঁয়ে যান নি এমন নয়। কেবল যা স্থল, যা অসুন্দর, অশালীন বা নিতান্ত অগভীর, তা তিনি স্বতই পরিত্যাগ করেছেন।’

‘আজি তোমার কাছে ভাসিয়া যায় অন্তর আমার...’

সত্যি, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রেমের গানের সুর মূর্ছনায় আমাদের অন্তর ভেসে যায়। তার এ ধরনের গানের মধ্যে- ‘এস প্রাণ সখা এস প্রাণে’, ‘মলয় আসিয়া কয়ে গেছে কানে প্রিয়তম তুমি আসিবে’, ‘আজি এসেছি বঁধু হে’, ‘তোর কি মোহ কুহকে খেলাস পলকে নয়নে বিজুলী হাসি’, ‘হৃদয় যদি দিবে না ও/ ফিরে দাও মোর হাস্যমুখ’, ‘চাহি অতৃপ্ত নয়নে/ততার মুখ পানে/ফিরিতে চাহে না আঁখি’, ‘এ জীবনে পুরিল না সাধ ভালোবাসি’, , ‘সে কেন দেখা দিলরে/না দেখা ছিল যে ভালো’, ‘আর একবার মধু করিব পান’, ‘কেন তারি তরে আঁখি ঝরে মোর/মন ফিরে ফিরে যায় তারি পাশে’, ‘আমি রব চিরদিন তব পথ চাহি' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বাংলা সঙ্গীতের সংগঠকদের অন্যতম একজন, প্রধান এক সুর স্রষ্টা, হাসির গানের রাজা, পাশ্চাত্য সুরের সার্থক প্রয়োগকারী দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রেমের গানের বাণীর সুষমা অপূর্ব। এ প্রসঙ্গে তাঁর ‘আর্যগাথা দ্বিতীয় খণ্ডের কয়েকটি গান উল্লেখযোগ্য। যেমন-‘আর একবার ভালবাস,/বাসতে যেমন আগের দিনে/ঘুমন্ত প্রাণের ব্যথা/আবার জাগিছে প্রাণে। রামকেলি-আড়াঠেকা’য় রচিত, ‘পাষাণী’ নাটকে ব্যবহৃত এই গানে পুরোনো প্রেমের প্রতি যে আকুতি প্রকাশ পেয়েছে-তা চিরন্তন প্রেমিক মনের পরিচায়ক।...সুর ও বাণীর সম্মিলনে গানকে কতখানি সমৃদ্ধ করে তোলা যায় তার আর একটি উদাহরণ-এ জনমে পুরিল না সাধ ভালবাসি'। সা-জাহান’ নাটকে ব্যবহৃত এ গানটিতে ভৈরবীর সঙ্গে মিলিত হয়ে লিরিকের নিপুণতা, ভাব গভীরতায় একটি রসঘন রূপ লাভ করেছে। ভৈরবীর এমন উন্নত মহিমা দ্বিজেন্দ্র সঙ্গীতে খুব বেশি নেই, ভাব সম্পদেও গানটি সমৃদ্ধশালী। আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী। অথচ এই ক্ষুদ্র জীবনে ভালোবাসার অমৃত পানের তৃষ্ণা মিটতে চায় না। তাই তো প্রেমিক-হৃদয় বলে ওঠে-এ ক্ষুদ্র জীবন মাের/এ ক্ষুদ্র ভুবন মোর/হেথা কি দিব এ ভালবাসা/যত ভালবাসি তাই/ আরও বাসিতে চাই/ দিয়া প্রেম মিটে নাক আশা'। ভালোবাসার প্রতি প্রেমিক মনের এই অপার তৃষ্ণাই গানটির প্রধান উপজীব্য বিষয়।

ভালোবাসার প্রতি যে হৃদয়ের দুর্বার আকর্ষণ, বিরহ তার কাছে নিদারুণ যন্ত্রণার। প্রিয়জনের আগমন বার্তায় সে তাই আনন্দে নেচে ওঠে। তখন পৃথিবীর সব সৌন্দর্যের মাঝে প্রেমিক-হৃদয় তার আগমনী বার্তার আভাস পায়। প্রিয় মিলনের আকাঙ্ক্ষায় বিরহকাতর প্রেমিক-হৃদয়ের এই যে উচ্ছাস-সেটা চমক্কারভাবে দ্বিজেন্দ্রলালের গানে ধরা পড়েছে-‘মলয় আসিয়া কয়ে গেছে কানে/প্রিয়তম, তুমি আসিবে, এইবার তুমি আসিবে।

আবার দীর্ঘ বিরহ অবসানে যখন কাক্ষিত মানুষটির দেখা মেলে, তখন প্রেমিক-হৃদয় প্রিয়জনের অভ্যর্থনায় ওঠে মেতে- ‘এস প্রাণসখা, প্রাণে/মম দীর্ঘ বিরহ অবসানে'। তখন পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ হৃদয় মাঝে অনুভূত হয়-“একি জ্যোত্সা, গর্বিত শর্বরী/একি পাণ্ডুর তারাপুঞ্জ/একি সুন্দর নীরব মেদিনী/একি। নীরব নিভৃত নিকুঞ্জ’। প্রিয় মলিন ক্ষণে হৃদয়ানুভূতির যে বিহ্বলতা, যে আবেগ-তা অকৃত্রিমভাবে ফুটে উঠেছে ‘এস প্রাণসখা...' গানে।

প্রেমের গানে উপমা, অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করা দ্বিজেন্দ্রলালের অন্যতম কৃতিত্ব। যেমন, ‘জলধি নীলে অঞ্জন করি দিই ও আঁখি অপাঙ্গে বুলায়ে/কুড়ায়ে তারা হীরা ভাতি চারু কর্ণে দুলদি দুলায়ে/পূর্ণচন্দ্র রেখা রচিত কোমল করে বলয় রাজিবে/বিহগ কুজন গঠিত নূপুর চুম্বি যুগল চরণে বাজিবে'। এখানে দেখা যাচ্ছে-সমুদ্রের নীল, তারার দ্যুতি, পূর্ণচাদের বলয় রেখা এবং বিহঙ্গ কুজনকে একটি কমনীয় নারীদেহে কী বিচিত্রভাবে আরোপ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নজরুলের একটি বিখ্যাত গানের কথাও স্মরণীয়-‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল'। যা হোক, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে প্রিয় নারীর প্রতি আরোপ করে প্রেমিক-হৃদয়ের যে মধুর ভাবনা-তা দ্বিজেন্দ্রলালের এই গানটিতেও ধরা পড়েছে : “তোর কর সম্পর্শে চিনি মলয়কাহিনি, ভাষায় কূজন রাশি/ তোর নিঃশ্বাসের কাছে কত শুয়ে আছে, মন্দার সুরভি আসি'।

 আবার অনেক সময় প্রিয়ার সুন্দর মুখের দিকে চেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলি-‘চাহি অতৃপ্ত নয়নে/তোর মুখ পানে/ফিরিতে চাহে না আঁখি/আমি আপনা হারাই/সব ভুলে যাই/অবাক হইয়ে থাকি। তখন প্রকৃতির মাঝে প্রিয়াকে খুঁজে পাই-নিসর্গের সৌন্দর্য রাশিতে প্রিয়ার রূপ মূর্ত হয়ে ওঠে: ‘আমি প্রভাতের ফুলে/সাঁঝের মেঘেতে/হেরি তোর রূপ রাশি। আমি চাঁদের আলোকে/তারার হাসিতে/নিরখি তোমার হাসি'। দ্বিজেন্দ্রলালের এই কির্তনে প্রিয়ার রূপমুগ্ধ এক প্রেমিক-হৃদয় অপূর্ব ব্যঞ্জনায় প্রকাশিত।

‘আর্যগাথা’র পরে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রেমের গান আরও বিকশিত হয়েছে। এ সময়ের গানগুলিতে তারুণ্যের স্বপ্নবেশ ও উজ্জ্বলতা নীরবে আত্মনিবেদন ও আত্মবিলাপকারী ব্যাকুলতার মধ্যে ভাব গম্ভীর রূপ লাভ করেছে। এ প্রসঙ্গে ইমন কল্যাণে রচিত একটি বিখ্যাত গানের কথা উল্লেখ করা যায়-যাও হে সুখ পাও যেখানে সেই ঠাই, আমার এ দুখ আমি/দিতে ত পারি না/(তুমি) রহিলে সুখে নাথ পুরিতে সব সাধ, নিরালা কভু যদি/ললাট ঘিরে/তখনই এই বুকে আসিও ফিরে। দেখা যাচ্ছে, এখানকার প্রেমে আনন্দের চেয়ে দুঃখ বেশি।

যখন দ্বিজেন্দ্রলালের এই গানটি শুনি-‘তুমি হে আমার হৃদয়েশ্বর তুমি হে আমার প্রাণ/কী দিব তোমায় যা আছে আমার, সকলই তোমারই দান'। তখন। বৈষ্ণব কবিতার সুবিখ্যাত দুটি পঙক্তি মনে পড়ে-কী দিব কী দিব বলি মনে ভাবি আমি/তোমারে যে ধন দিব সেই ধন তুমি'। ভাবের এই ক্রমোত্তরণ দ্বিজেন্দ্রলালের শেষ দিকের প্রেমের গানের মধ্যে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আমার হাত ধরে নিয়ে চল সখা, আমি যে পথ চিনি না...

রজনীকান্তের হাত ধরে আমরা আমরা বাংলা মরমী গানের জগতে পৌছে যাই। ‘কান্তকবি' নামে সুপরিচিত এই মরমী স্রষ্টা স্বদেশ, প্রেম ও প্রকৃতি বিষয়ক এবং কিছু হাসির গান রচনা করলেও ভক্তি রসের গানেই অধিক স্বচ্ছন্দ ও উজ্জ্বল।... দিলীপ কুমার রায় এই গানকে ঐকান্তিক তৃষ্ণার অমৃত বলেছেন। তাই তো রজনীকান্তের গানে মহৎ প্রেমের মধুর ধ্বনি বেজে ওঠে-কে রে হৃদয়ে জাগে, ‘আমি তো তোমারে চাহি নি জীবনে’, ‘কেন বঞ্চিত হবো চরণে’, ‘প্রেমে জল হয়ে যাও’, ‘হরি প্রেম-গগনে চির রাখ এবং আমাদের হৃদয়কে আকুল ও সুদূরের তৃষ্ণায় উদ্বেল করে তোলে। উল্লেখ্য, রজনীকান্ত এই আত্মনিবেদনের গানের প্রেরণা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মসঙ্গীত এবং কাঙাল হরিনাথের বাউল গান থেকে।

আগেই উল্লেখিত হয়েছে যে, প্রেমের গান রচনায় রজনীকান্ত অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল। তবু এরই মাঝে কিছু গান রয়েছে-যা বাংলা গানের ধারায় উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে। উদাহরণ স্বরূপ, ‘মধুর সে মুখখানি গানটির কথা বলা যায়। বেহাগে বাধা এই গানখানিতে বাণী ও সুরের অপাঙ্গী সমন্বয় শ্রোতৃহৃদয়ে এক অপূর্ব আবেদনের সৃষ্টি করে। শব্দবিন্যাসের সরলতায়, সুরের মধুর মূৰ্ছনায় প্রেমিক-হৃদয়কে আলোড়িত করে। লিরিকের সরল রূপের উদাহরণ: ‘মধুর সে। মুখখানি কখনো কি ভোলা যায়/জমায়ে চাঁদের সুধা, বিধি গড়েছিল তায়/মৃদু | সরলতা মাখা/তুলিতে নয়ন আঁকা/চাহিলে করুণে, ধরা চরণে বিকাতে চায়। যা হোক, সঙ্গতকারণেই বাংলা প্রেমের গানের ধারায় রজনীকান্ত একটি বিশিষ্ট নাম।

একা মোর গানের তরী ভাসিয়েছিলেম নয়ন জলে...

গানের যে তরী একদা কালস্রোতে ভাসিয়েছিলেন অতুলপ্রসাদ, মহাকালের জলে তা ভাসমান।  অতুলপ্রসাদের প্রখ্যাত প্রেমের গানগুলির মধ্যে- ‘চাঁদনী রাতে কে গো আসিলে’, ‘কে আবার বাজায় বাঁশি এ-ভাঙা কুঞ্জবনে’, ‘ওগো আমার নবীন শাখী ছিলে তুমি কোন বিমানে’, ‘বঁধু, ধরো ধরো, মালা, পরো গলে’, ‘তুমি মধুর অঙ্গে নাচো গো রঙ্গে, নূপুর ভঙ্গে হৃদয়ে-ঝিনিকি ঝিনিকি ঝিনিকি’, ‘মনো পথে এল বনহরিণী’, ‘যাব না, যাব না ঘরে’, ‘ডাকে কোয়েলা বারে বারে’, ‘বধুয়া, নিদ নাহি আঁখি পাতে’, ‘আজি এ নিশি, সখী সহিতে নারি’, ‘আমার মনের মন্দিরে এসো গো নবীন বালিকা’, ‘তাহারে ভুলিব কেমনে' ইত্যাদি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

প্রেমের গানের অসামান্য রূপকার অতুলপ্রসাদ। এবং বিরহে তিনি সর্বাধিক উজ্জ্বল।

বিরহের কী মধুর পরশ অতুলপ্রসাদের গানে! বর্ষণমুখর রাতে নস্টালজিয়ায় পেয়ে বসে, প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়। একাকিত্ব চেপে ধরে দারুণভাবে। বুকের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। হৃদয়ের এই রক্তক্ষরণ ও হাহাকার বঁধু, এমন বাদল দিনে তুমি কোথা’ গানে ধ্বনিত।

কিন্তু যখন মনে হয়, এই একাকিত্ব শুধু আমার একার নয়, তারও; এই নির্ঘুম রাত শুধু আমার নয়, তার চোখেও ঘুম নেই। তখন অপূর্ব পুলকে, মধুর বেদনায় আপুত হয় হৃদয়। মানব মনের রোমান্টিসিজম অপূর্ব ব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘বঁধুয়া, নিদ নাহি আঁখি পাতে/আমিও একাকী, তুমিও একাকী’, ‘আজি এ বাদল রাতে’ এই গানে।

প্রিয়জনের পথ চেয়ে থাকা বিরহকাতর প্রেমিক হৃদয়ের যে বেদনা, মিলনাকাঙ্ক্ষার যে আবেগ-তা চমক্কারভাবে ফুটে উঠেছে- ‘আর কতকাল থাকব বসে দুয়ার খুলে, বঁধু আমার এই গানে। কয়েকটি পঙক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। হৃদয়ের শব্দ শুনে, চমকি ভাবি মনে/ঐ বুঝি এল বঁধু ধীরে মৃদুল চরণে/পরানে লাগলে ব্যথা ভাবি বুঝি আমায় ছুঁলে, বঁধু আমার’।

অতুলপ্রসাদের প্রেমের গান সম্বন্ধে আবু জাফরের এই মূল্যায়নটি তাৎপর্যপূর্ণ: ‘অতুলপ্রসাদের গান শুধু সুর সজ্জা নয়, নয় কেবল কথার | পঙক্তিমালা, তার গানের কোরক শিশির সিক্ত, রেনু ভরা সুবাসিত। পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে সেখানে অপেক্ষা করে আছে এক রহস্যময়, উন্মুখ ও রোমাঞ্চকর আহ্বান এবং ফিরে ফিরে পুরুষানুক্রমে বারবার বাঙালিকে গোপনে অথবা প্রকাশ্যে এই আহ্বানে সাড়া দিতেই হবে।’

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে...

 হ্যা, নজরুল চিরতরে দূরে চলে গেছেন, কিন্তু গানের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। এমনকি নজরুল নিজেও বলতেন, ‘কবিতায় আমি বাঁচি বা না বাঁচি, গানে আমি অমর হয়ে থাকব।’ এ প্রসঙ্গে সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসুর মূল্যায়ন সবিশেষ উল্লেখযোগ্য-“গানের ক্ষেত্রে নজরুল নিজেকে সবচেয়ে সার্থকভাবে দান করেছেন। তাঁর সমগ্র রচনাবলীর মধ্যে স্থায়িত্বের সম্ভাবনা সব সময়ে বেশি তার  গানের’।

নজরুলের প্রেমের গানগুলির মধ্যে ‘অনাদিকালের স্রোতে ভাসা’, ‘শাওন রাতে যদি’, ‘মোরা আর জনমে হংস মিথুন দিলাম’, ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি’, ‘আঁধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়’, ‘ওগো প্রিয় তব গান’, ‘তুমি হাতখানি যবে রাখ মোর হাতের পরে’, ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর নমো নমো, নমো নমো, নমো নমো’, ‘গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়’, ‘মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে', ‘প্রিয় যেন প্রেম ভুলো না’, ‘ভুলি কেমনে আজো যে মনে' ইত্যাদি গানগুলি আমাদের আজো নাড়া দেয়।

নজরুলের প্রেমের গানে আমরা দেখতে পাই যে, মানব মনের বৈপরীত্য, টানাপোড়েনের ব্যাপারটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

আমরা জানি যে, পুরুষের মন কখনোই পরাজয়কে মেনে নেয় না। যে নারী  আমাকে আঘাত দিল, আমার প্রেমকে প্রত্যখান করল-সেই নারীকে সহজে আমি ভুলতে পারি না। শুধু তাই না, আমি চাই সে-ও যেন আমাকে ভুলে না যায়। কোনো অলস দুপুরে সেই নারীর স্মৃতিপটে আমার ছায়া যেন ধরা পড়ে। আমার স্মৃতি রোমন্থনে সেই নারী-হৃদয় যেন কখনো বেদনায় টনটন করে ওঠে, কখনো আনন্দে আপ্লুত হয়। নজরুলের কবি মন এই মনস্তত্ত্ব সম্বন্ধে উদাসীন থাকে নি। তার গানেই আমরা প্রমাণ পাই। তিনি লিখেছেন, “আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।।

আবার যে নারী শুধু আমার প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করে নি, আমার ভালোবাসাকে অপমান করে হৃদয়ের নিভৃত প্রদেশে এক দগদগে ঘায়ের সৃষ্টি করেছে-সেই নারীকে আমি ভুলতে চাই। সে নারী যদি পরে আমার কাছে প্রেম পূজারিণীর বেশেও আবির্ভূত হয়, তবু ভাঙা হৃদয় আর জোড়া লাগে না। এক্ষেত্রে সেই নারীকে আমিই শুধু ভুলতে প্রয়াসী হই না, আমি চাই সে নারীও যেন আমাকে ভুলে যায়। নজরুল তাই নার্গিসের উদ্দেশে বলেছেন, যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই, কেন মনে রাখো তারে/ভুলে যাও, মোরে ভুলে যাও একেবারে।

নজরুলের প্রেমিক সত্তার সুন্দর প্রকাশ বিরহে। এক্ষেত্রে বর্ষা ঋতুকে তিনি। আবহ হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং তা বহুমাত্রিক। উদাহরণস্বরূপ- “শাওন। রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে’, ‘শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না’, ‘এ ঘোর শ্রাবণ নিশি কাটে কেমনে’, ‘আজি বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে’ ইত্যাদি গানের কথা উল্লেখ করা যায়।

নজরুলের প্রেমের গান সম্বন্ধে সঙ্গীত সমালোচক করুণাময় গোস্বামী বলেন, ‘নজরুলের প্রেমের গান যথার্থই মানুষের যৌবন বেদনার গান। চরাচর ব্যাপ্ত কোনো বোধের কাছে সে গান সমর্পিত নয়। উচ্ছাসে, অনুরাগে, বিহ্বলতায় সে গান গৃহবাসী মানুষের স্বপ্ন ও অনুভবের প্রতিচ্ছবি। এর সুর দ্রুতগতিতে শ্ৰোতৃ চিত্তকে উন্মুখ করে তোলে। প্রেমস্পৃষ্ট হৃদয়ের ব্যাকুল দোলাকে অনুভব করা যায় এর তাল ছন্দে। এ জন্যই নজরুলের প্রেমের গান আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে’।

 মন-ময়ূরী ছড়ালো পেখম....

আধুনিক বাংলা গানও আপত করে শ্রোতাদের হৃদয়স্পর্শী আবেদন ছড়ায় চেতনায়। বলাই বাহুল্য, এ ধরনের গানে প্রেমের নানা রূপ-বৈচিত্র্য মূর্ত হয়ে উঠেছে। এর প্রোজ্জ্বল উদাহরণ-প্রেমের সমাধি তীরে নেমে এলো শুভ্র মেঘের দল (শৈলেন রায়); তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে (অজয় ভট্টচার্য); গোলাপ  হয়ে উঠুক ফুটে তোমার রাঙা কপোলখানি (বাণীকুমার); শেফালী তোমার আচলখানি বিছাও শারদ প্রাতে (হীরেন বসু); প্রেমের না হবে ক্ষয় (সুবোধ পুরকায়স্থ); তুমি চেয়েছিলে শুধু মোর কাননের ফুল (অনিল ভট্টাচার্য); পৃথিবীর গান আকাশ কি মনে রাখে (বিমল চন্দ্র ঘোষ); জীবনে যারে তুমি দাও নি মালা (প্রণব রায়); ভুলি নাই ভুলি নাই (মোহিনী চৌধুরী); আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি (শ্যামল গুপ্ত); যদি হিমালয় আল্পসের জমাট বরফ (পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়) ইত্যাদি।

বাংলাদেশের আধুনিক গানও সুর ও বাণীর সম্মিলনে প্রেমানুভূতিতে | শ্রোতাদের মগ্ন করে রাখে। এ প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করতে পারি বেশ কয়েকটি গান-সেই চম্পা নদীর তীরে (আবু হেনা মোস্তফা কামাল); আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইব কথা (মোসলেম উদ্দিন); তুমি রাত আমি রাত জাগা পাখি (আবু জাফর); আকাশের সব তারা ঝরে যাবে (মোঃ রফিকুজ্জামান); ঢাকো যত না নয়ন দু’হাতে (মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান); যে ছিল দৃষ্টির সীমানায় (মনিরুজ্জামান মনির); সাগরের তীর থেকে (জেব উন-নেসা জামাল)...।

 বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতেও প্রেমের প্রতিফলন। সোলসের ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে' সত্যি আমাদের মন ছুয়ে যায়। হ্যাপী টাচের ‘এই নীল মণিহারও কম  মন্ত্রমুগ্ধ করে না। এমনিভাবে এলআরবি, বেঁনেসাসহ নানা ব্যান্ডের প্রেমের গান এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের আলোড়িত করছে।

এই পথ যদি না শেষ হয়...

পথ শুয়ে থাকে পথের ওপর; নীলিমায় মিশে থাকে আরও নীল। চলচ্চিত্রের গানও গভীর প্রেমানুভূতি ছড়িয়ে দেয় দর্শক-শ্রোতৃমণ্ডলীর চেতনায়। দুই বাংলার চলচ্চিত্রেই ছড়িয়ে আছে এমনই অনেক গান। এখানে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করা হলো।

শুরুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের গান। যেমন- সখি কে বলে পিরীতি ভালো (বিদ্যাপতি); এই কি গো শেষ দান (গরমিল); অনাদিকালের স্রোতে (চন্দ্রশেখর); এই রাত তোমার আমার (দীপ জ্বেলে যাই); আজ দুজনার দুটি পথ (হারানো সুর); এক পলকের একটু দেখা (লুকোচুরি); এই পথ যদি না শেষ হয় (সপ্তপদী); এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় (হসপিটাল); কে প্রথম কাছে এসেছি (শঙ্খবেলা); আমি যে কে তোমার (অনুরাগের ছোঁয়া); জানি যেখানেই থাকো (তুমি কত সুন্দর); খোপার এই গোলাপ দিয়ে (ভালোবাসা ভালোবাসা); যদি ভালো না লাগে দিও না মন (যোগাযোগ); লাগুক দোলা (শেষ উত্তর)...।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানেও প্রেম পরিস্ফুটিত। এই পর্যায়ের এমন  কয়েকটি গান হচ্ছে-তোমারে লেগেছে এত যে ভালো (রাজধানীর বুকে); তুমি কখন এসে দাড়িয়ে আছে আমার অজান্তে (আবির্ভাব); গান হয়ে এলে, প্রেমের নাম বেদনা (নীল আকাশের নিচে); একি সোনার আলোয় (মনের মতো বউ); এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে (জলছবি); তুমি যে আমার কবিতা (দর্পচূর্ণ); ওগো মোর মধুমিতা (মধুমিতা); একবার যদি কেউ ভালোবাসতো (জন্ম থেকে জ্বলছি); আমার বুকের মধ্যখানে (নয়নের আলো); নদীর সাথে দেব না তোমার তুলনা (আশীর্বাদ) ইত্যাদি।

মধুর তোমার শেষ নাহি পাই...

প্রেম যেন এক সমুদ্র। অন্তহীন জলরাশি খেলা করে সেখানে। মানবমনে  প্রেমানুভূতির খেলাও চলছে অবিরাম। এর বুঝি শেষ নেই। নতুন নতুন প্রেমের গানও তাই রচিত হচ্ছে, কণ্ঠশিল্পীরা সেইসব গান পরিবেশন করছেন নানা মাধ্যমে। আমরা বুঁদ হয়ে শুনছি সেইসব গান। | প্রেমের গানের ধারা প্রবহমান। যুগ থেকে যুগে, এক প্রজন্ম থেকে আরেক | প্রজন্মে। গানের এই ঝর্ণাধারা বয়ে চলেছে, চলবে।

Leave a Reply

Your identity will not be published.