[বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় স্রষ্টাদের মধ্যে শুধু পুরুষ নয়, নারীও রয়েছেন। তাঁদের তাৎপর্যপূর্ণ অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের সাহিত্য ভুবন। ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধÑসব ধরনের রচনাতেই নারীরা সৃজনশীলতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যের সেইসব স্মরণীয় নারী এবং তাঁদের কীর্তির কথাই এই ধারাবাহিক রচনায় তুলে ধরা হয়েছে।]
রামী : (চতুর্দশ শতাব্দী) রামী বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডীদাসের সেবক, প্রেয়সী ও স্ত্রী। রজকিনী রামী, অর্থাৎ ধোপা। বাঁশুলী মন্দিরে পূজা করেন চণ্ডীদাস। রজকিনী সেই মন্দিরের সেবাদাসী। বাসনকোষণ ধোয়, রান্নাবান্না করে। চার চোখের একসময় মিলন ঘটে, এবং পরিণামে তারা দুজন দুজনকে ছাড়া আর এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। সমাজে চরম অসম অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তারা পরস্পরের গভীর প্রেমে নিমজ্জিত হয়। চণ্ডীদাস রামীর জন্যে স্বেচ্ছায় তার অতি প্রিয় জীবিকা বাঁশুলী মন্দিরের পৌরোহিত্য ছেড়ে দিয়ে কবিতা লিখতে মনোযোগী হন এবং আজও তিনি মধ্যযুগের সবচেয়ে শক্তিশালী কবি বলে পরিচিত রয়েছেন। আবহমান কাল থেকে যে কয়জন কবিকে নিয়ে বাঙালি গর্ববোধ করে, চতুর্দশ শতকের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস (১৪১৭-১৪৭৭) তাদের মধ্যে অন্যতম। চণ্ডীদাস বিশ্বাস করতেন : ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ এই মানবতাবাদী কবি ভালোবাসার মূল্য দিতে স্বেচ্ছায় তখনকার দিনের শ্রেণি ও গোত্রে প্রচণ্ড বিভাজনে বিভক্ত বর্ণাশ্রমভিত্তিক সমাজে নিজের বংশগৌরব ও কুল বিসর্জন দিয়ে, নিপাট আরামের ও সম্মানের জীবিকা পৌরোহিত্য ছেড়ে দিয়ে রামীর হাত ধরে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের প্রেমের এই কাহিনি নিয়ে পূর্ণদাস বাউলসহ অনেকেই কাব্য, গান ও সাহিত্য রচনা করেছেন। চণ্ডীদাসের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে রামী কখনো লিখতেন কিনা জানা যায় নি। তবে বিখ্যাত কবি চণ্ডীদাসের সংস্পর্শে এসে তিনিও কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর মাত্র কয়েকটি কবিতা উদ্ধার করতে পারা গেছে, যার প্রায় সবই চণ্ডীদাসকে নিয়ে লেখা। একটি কবিতা শেষ হয়েছে এই দুই লাইনে :
আপনার নাক কাটি পরে বলে বোঁচা
সে ভয় করে না রামী নিজে আছে সাঁচা।
মাধবী দাসী : (পঞ্চদশ শতাব্দী) বাংলার অন্যতম প্রথম কবি মাধবী সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না। মাধবী উৎকলবাসিনী। তাঁর রচিত কবিতার পঙ্ক্তি তাঁর সমসাময়িক প্রখ্যাত পুরুষ কবিদের তুলনায় কোনো অংশে নিম্নমানের নয় বলে জোর গলায় দাবি করেন শ্রীযুক্ত অচ্যুতচরণ চৌধুরী তাঁর ‘স্ত্রী কবি মাধবী’ প্রবন্ধে। আহমদ শরীফও প্রাথমিক যুগের বাঙালি নারী কবি হিসেবে শ্রী চৈতন্যদেবের সময়কার (১৫ শতক) মাধবীর নাম উল্লেখ করতে ভোলেন নি। কথিত আছে মাধবী দাসী উড়িষ্যার জগন্নাথদেবের মন্দিরে কিছুকাল হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন, এবং ১৫০৯ সালে যখন চৈতন্যদেব পুরীধামে যান, তখন মাধবী তাঁর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি একজন বিদুষী নারী ছিলেন। তাঁর একটি কবিতার অংশবিশেষ উদ্ধৃত হলো নিচে :
লতা তরু যত দেখে শত শত
অকালে খসিছে পাতা
রবির কইরণ না হয় স্ফুরণ
এ তো গেল বাংলার প্রাথমিক পর্যায়ের কবিতার কথা। বাংলা সাহিত্যে গদ্যের উন্মেষ পদ্যের তুলনায় আরও অনেক পরে। কিন্তু গদ্যের বেলাতেও এই ধরনের অস্পষ্টতা, রহস্য এবং অজানার শেষ নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একই সময়ে একই নামে বাংলায় তিন-তিনজন গদ্য-লেখকের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯২০-এর দশকে তিনজন সফিয়া খাতুনের আবির্ভাব ঘটেছিল। ১৯২১ সালে চট্টগ্রাম থেকে সফিয়া খাতুন নামে এক সম্পাদিকার সম্পাদনায় মুসলমান নারীদের জন্যে সর্বপ্রথম সাময়িকপত্র ‘আন্নেসা’ প্রকাশ শুরু হয়। এই পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির মতে সফিয়া খাতুনের নামে পত্রিকাটি বেরুলেও আসলে কাগজটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পত্রিকা সম্পাদনার কাজের সিংহভাগই করতেন সফিয়া খাতুনের স্বামী মোহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী, যাঁর সম্পাদনায় আরও দু’টি কাগজ, ‘সাধনা’ ও ‘মুসলিম জগৎ’- বের হতো সে সময়। ‘আন্নেসা’য় সফিয়া খাতুনের নামে মাঝে মাঝে কিছু অকিঞ্চিৎকর লেখা ও সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশিত হতো, যার সবই আন্নেসা’তে নয়। এছাড়া এই সময় (১৯২১-১৯২৪) সফিয়া খাতুন, বি.এ. এই নামে এক লেখকের অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, সমাজ সচেতন, সর্বাংশে সংস্কারমুক্ত যেসব রচনা ‘আন্নেসা’সহ বহু কাগজ ও পত্রপত্রিকায় এক নাগাড়ে প্রকাশিত হতে থাকে। লেখার বিষয়বস্তু ও মান দেখলেই বোঝা যায়, আন্নেসার সম্পাদক সফিয়া খাতুন আর সফিয়া খাতুন বি.এ. এক ব্যক্তি নন। বিদূষী সফিয়া খাতুন, বি.এ., একজন ভাবুক, গভীর চিন্তাবিদ, ও একজন দার্শনিক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মুক্তচিন্তার অধিকারী, অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক-মনস্ক, নারীবাদী লেখক। যুক্তি এবং উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নারীর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ১৯২১-২৪ এই সংক্ষিপ্ত সময়কালে লেখার মাধ্যমে সফিয়া খাতুন, বি.এ., চারদিকে আগুন ছড়িয়ে দিয়ে, হঠাৎ একদিন বাকি জীবনের জন্যে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন, অথবা হারিয়ে গেলেন। সুমিত অধিকারী বলে পশ্চিম বাংলার এক লেখক/গবেষক সফিয়া খাতুনের বি.এ.-র সেই সময়ের লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে নানা কাগজ ঘেঁটে ঘেঁটে অনেক পরিশ্রম করে ৩২টি লেখা উদ্ধার করেন যা একত্রিত করে সাহিত্যপ্রকাশ একটি গ্রন্থ বের করেছেন সফিয়া খাতুন বি.এ.-র (নারীর অধিকার ও অন্যান্য, সফিয়া খাতুন, বি.এ., সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা ১৯৯৯) নামে। কাজটা সহজ ছিল না যেহেতু সুমিত অধিকারীর গবেষণা শুরু করার ৭৭ বছর আগে সফিয়া খাতুন বি.এ.-র শেষ লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। এত খোঁজাখুঁজির পরেও ব্যক্তি সফিয়া খাতুন বি.এ. সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তাঁর জন্ম, জন্মের সাল, মা-বাবার নাম, জন্মস্থান, ভাইবোন, পরিবার, বৈবাহিক অবস্থা কোনো কিছুই জানা যায় নি। তাঁর একটা লেখাতে উল্লেখ আছে তাঁর মা-বাবা বাঙালি নন, তুরস্কের। কিন্তু তিনি মন্তব্য করেছেন, বলেছেন, তিনি তো এখানকার জলহাওয়াতেই বাস করেছেন, এখানেই বেড়ে উঠেছেন। ফলে তিনি বাঙালি। সফিয়া খাতুন বি.এ. কোথা থেকে এলেন, আবার ঝড়ের মতো কোথায় চলে গেলেন এই প্রশ্নটি কবি, সমাজসেবী, নারীনেত্রী সুফিয়া কামালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, যতদূর তিনি শুনেছেন সফিয়া খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে সেই সুবাদে কলম্বো নাকি লন্ডন কোথায় চলে গেছেন। সফিয়া খাতুব বি.এ. ও ‘আন্নেসা’ সম্পাদক সফিয়া খাতুন ছাড়াও আরেক ধর্মপ্রাণ সফিয়া খাতুন সেই সময় কিছু কিছু লেখা বিভিন্ন সাময়িকীতে ছাপিয়েছেন। ধর্মোপদেশ দিয়ে ছোট ছোট লেখা তিনি লিখতেন সে-সময়। কিন্তু তিনি সর্বদাই তাঁর নাম ‘সফিয়া খাতুন, জলপাইগুড়ি’ বলে উল্লেখ করে নিজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করেছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে একই সময় বাংলায় তিন-তিনজন গদ্য লেখক সফিয়া খাতুন ছিলেন। এদিকে জানা যায়, ‘আন্নেসা’র সম্পাদক সফিয়া খাতুনের স্বামী আব্দুর রশিদ স্ত্রী সফিয়া খাতুনের জীবিতাবস্থাতেই দশ বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকেন না। নারীদের জন্যে ‘আন্নেসা’ বলে কাগজ বের করেন যে ভদ্রলোক, এর পরে একে একে আরও দুটি বিয়ে করেন। মোট চার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করেন। আর এদিকে সফিয়া খাতুন, বি.এ. আজও রয়ে যান কুয়াশায় আচ্ছন্ন এক লেখক হিসেবে। দৃষ্টিভঙ্গিতে আধুনিক, প্রকাশভঙ্গি বুদ্ধিদীপ্ত ও সমৃদ্ধ শব্দ ব্যবহার তাঁকে সমসাময়িক লেখকদের কাছ থেকে আলাদা করে। উদার, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞ লেখক এই সফিয়া খাতুন বি.এ.-র আদৌ অস্তিত্ব ছিল কিনা, নাকি এটা অন্য কোনো লেখকের ছদ্মনাম তা-ও সঠিক বলা যাচ্ছে না। আর এইসব অনিশ্চয়তার জন্যেই সফিয়া খাতুন, বি.এ-কে তাঁর লেখার ধার ও স্পষ্ট উচ্চারণ সত্ত্বেও একশত স্মরণীয় নারীর ভেতর অন্তর্ভুক্ত করা গেল না।
বাংলার যে নারী যার কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তাঁর নাম কৃষ্ণকামিনী দেবী। কাব্যগ্রন্থের নাম ‘চিত্তবিলাসিনী’। মুসলমান নারীদের মধ্যে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকী। কিন্তু প্রথম মুসলমান নারী কবি সম্ভবত হাসন রাজার বৈমাত্রেয় বোন সিলেটের হাজী সহিফা বানু ওরফে হাজী বিবি (১৮৫০-১৯১৭)। তাঁর কবিতা ১৮৬৩ ? সালে প্রকাশিত হয়। অন্তত একজন গবেষকের (অধ্যাপক আসাদ্দর আলী) মতে, সিলেটের নারী লেখকদের অগ্রপথিকদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের মেয়ে সুফি সাধক সৈয়দ শাহনূরের স্ত্রী সৈয়দা সামিনা বানু সর্বপ্রথম নারী কবি। ১৭৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই কবি ও দার্শনিক। সে সময় মুসলমান সমাজ শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকলেও বিস্ময়করভাবে এই মহিলা কবির সাহিত্য সাধনা বাংলা সাহিত্যে নারীদের অগ্রযাত্রায় এক অনন্য অধ্যায়। এই দাবি সত্য প্রমাণিত হলে কবি সামিনা বানু শুধু সিলেট বিভাগের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের তথা বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম মুসলমান মহিলা কবি ও দার্শনিক। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ও বাংলার অধ্যাপক আসাদ্দর আলীর মতে, অধিকাংশ মানুষ-ই মনে করেন হাজী বিবি নামে পরিচিত মহিলা কবি যিনি প্রকৃতপক্ষে মরমী কবি হাসন রাজার বৈমাত্রেয় বোন সহিফা বানুই সিলেটের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। অথচ সহিফা বানুর জন্ম ১৮৫০ সালে অর্থাৎ সামিনা বানুর জন্মের ঠিক এক শ’ বছর পরে। কিন্তু সামিনা বানুর কবিতার কোনো অনুলিপি বা উদ্ধৃতি আর কোথাও না-পাওয়া যাওয়ায় এবং অন্য কোথাও এই নাম উচ্চারিত না-হওয়ায়, আসাদ্দর আলী ছাড়া আর কেউ তাঁর সন্ধান দিতে না পারায় সামিনা বানু ও তাঁর কবিতার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই ধোঁয়াটে অবস্থায় তাঁকে ১০০ জন স্মরণীয় নারীর ভেতর রাখা যেমন সঙ্গত মনে হলো না, তাঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু না-জানা থাকার কারণে জীবনীপঞ্জি অধ্যায়েও তাঁকে রাখা গেল না।
১৮৫২ সালে হানা ক্যাথরিন মুলেনস তাঁর ‘ফুলমনি ও করুণার বৃত্তান্ত’ প্রকাশ করে বাংলা ভাষার প্রথম ঔপন্যাসিকের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তবে উপন্যাসের সংজ্ঞা বিবেচনা করলে এটাকে উপন্যাস বলা চলে না বরং খ্রিষ্টান ধর্মের মহিমা প্রচারের জন্যে তিনি অলীক গল্প নির্মাণ করেন সমাজের দুই প্রান্তের দুটি মেয়ের জীবনকাহিনির মাধ্যমে। অধিকাংশ বাঙালি বহুদিন ধরে জেনে আসছে বাংলা ভাষায় বাংলাভাষী নারী রচিত প্রথম উপন্যাসটি ‘দীপনির্বাণ’। লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবী, ১৮৭৬ সালে। এক-ই সালে প্রকাশিত হয় প্রথম মুসলমান বঙ্গললনা নবাব ফয়েজুন্নেসার ব্যতিক্রমী গ্রন্থ ‘রূপজালাল’। আংশিক গদ্যে, আংশিক পদ্যে, কিছুটা উপন্যাসের ভঙ্গিতে, কিছুটা রূপকথার মতো, বাকি কিছুটা আত্মজীবনীর মতো রচনার একত্রিত যোগফল ‘রূপজালাল’ সেই সময়কার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলেও তাকে উপন্যাস বলা চলে না। স্বর্ণকুমারী বহুদিন যাবৎ প্রথম নারী ঔপন্যাসিক বলে পরিচিত থাকলেও পরে উদ্ঘাটিত হয়েছে শিবসুন্দরী দেবী আরও আগে অর্থাৎ ১৮৬৩ (মতান্তরে ১৮৭৩) সালেই ‘তারাবতী’ নামে এক উপন্যাস রচনা করেছিলেন। ‘তারাবতী’র মুদ্রিত কোনো কপি পাওয়া না-যাওয়ায়, কিংবা সে উপন্যাস সম্পর্কে কোনো আলোচনা চোখে না পড়ায় বলা যাচ্ছে না ‘তারাবতী’ উপন্যাস আদৌ উপন্যাস হয়ে উঠেছিল কি না। নাকি ‘ফুলমণি’ ও করুণার বৃত্তান্ত’ বা ‘রূপজালাল’-এর মতো এটিও একখানা গ্রন্থ যাতে গদ্য রচনা রয়েছে ঠিক-ই, কিন্তু উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য, চারিত্রিক বিস্তার, ভৌগোলিক বর্ণনা, বিশাল প্রেক্ষাপট বা ঘটনার পরম্পরা নেই। আমরা এ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না।
মুসলমান নারীদের মধ্যে প্রথম গদ্যলেখক বিবি তাহেরুন্নেসা। এই অগ্রণী লেখিকা কলকাতার বামাবোধিনী পত্রিকায় লিখতেন। দিনাজপুরের বোদা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থায় তাঁর লেখা ‘বামাগণের রচনা’ প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকায়। এই রচনায় তিনি নারীদের অধিকার সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মতামত কুণ্ঠাহীনভাবে ব্যক্ত করেছেন। নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। লেখাটিকে তখনকার দিনে সকলে খুব গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছিল।
কামিনীসুন্দরী দেবী বাংলাভাষার প্রথম নারী নাট্যকার। ১৮৬৬ সালে তিনি ‘ঊর্বসী’ নামক একটি নাটক লেখেন। আর নারীরচিত প্রথম যে নাটক মঞ্চায়িত হয় তা হলো গোলাপসুন্দরী লিখিত ‘অপূর্ব সতী’, যেটি গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে ১৮৭৫ সালে মঞ্চস্থ হয়।
এটা আজ প্রায় সর্বজনবিদিত যে বাংলার প্রথম নারী যিনি ভ্রমণকাহিনি লেখেন তিনি হলেন, হরিপ্রভা তাকেদা। জাপানিজ স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি জাপান ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর রচনা। কিন্তু সম্প্রতি অভিজিৎ সেন ও উজ্জ্বল রায় সম্পাদিত ‘পথের কথা-শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বঙ্গমহিলার ভ্রমণ’ নামক গ্রন্থ থেকে জানা যায় প্রসন্নময়ী দেবী রচিত ‘আর্য্যাবর্ত্ত’-ই সম্ভবত কোনো বঙ্গমহিলার লেখা প্রথম মুদ্রিত (১২৯৫ বঙ্গাব্দ) ভ্রমণবিষয়ক বই।’ আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যে বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেওয়ার জন্যে যখনই বিদেশে যেতেন, স্ত্রী অবলা বসু (দাশ) সব সময় তাঁর সঙ্গে যেতেন। ফলে বহু দেশ দেখবার সুযোগ হয়েছে অবলার। সেইসব অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তাঁর ভ্রমণকাহিনি ‘বঙ্গ মহিলার পৃথিবী ভ্রমণ’ প্রথমে ‘প্রবাসী’তে ছাপা হয়। পরে গ্রন্থাকারে বের হয়। বহু দেশ ঘুরে আসা নির্ভীক নারীবাদী লেখক যিনি মনেপ্রাণে আধুনিক-মনস্ক সেই স্বনামধন্য কৃষ্ণভাবিনী দাস লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ডে বঙ্গ মহিলা’, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
প্রথম আত্মজীবনী লেখেন রাসসুন্দরী দেবী ‘আমার জীবন’ যা ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তারপর আরও অনেকেই আত্মজীবনী লেখেন। তাঁদের মধ্যে বিনোদিনী দাসীর ‘আমার কথা’, সরলা দেবী চৌধুরানীর ‘জীবনের ঝরাপাতা’, ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীর ‘স্মৃতি সম্পুট’, জ্যোতির্ময়ী দেবীর ‘স্মৃতি বিস্মৃতির তরঙ্গ’, কৈলাসবাসিনী মিত্র রচিত গতযুগের জনৈকা ‘গৃহবধূর ডায়েরি’, সাহানা দেবীর ‘স্মৃতি খেয়া’ ও কৃষ্ণভাবিনী দাসের কবিতায় আত্মজীবনী ‘জীবনের দৃশ্যমালা’ উল্লেখযোগ্য।
বামা সুন্দরী দেবী প্রথম বাঙালি নারী প্রবন্ধকার রূপে খ্যাতি লাভ করেন। ১৮৬১ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম প্রবন্ধের নাম ‘কি কি কুসংস্কার তিরোহিত হইলে এদেশের শ্রীবৃদ্ধি হইতে পারে’। আগেই বলেছি, স্কুলে-পড়া তাহেরুন্নেসা বাংলার প্রথম মুসলমান নারী, যিনি বামাবোধিনীতে এক প্রবন্ধের মাধ্যমে নারীর অবস্থা সম্পর্কে তাঁর পরিণত মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
অনুবাদ সাহিত্যে বা বিদেশি ভাষায় সাহিত্য নির্মাণে বাংলার নারীর অবদান তুলনামূলকভাবে এবং সঙ্গতকারণেই কম। তাদের লেখাপড়ায় ও জীবিকাঅর্জনে বহুদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ছিল। শত বাধা-বিপত্তি পার করে অবশেষে কিছু সাহসী ব্রাহ্ম ও খ্রিষ্টান নারী এই বাঙালি নারীর চরিত্রের রূপ ও অবস্থান বদলাতে শুরু করেন। বিদেশি ভাষায় সাহিত্যরচনা কিংবা অন্য ভাষায় নিজ ভাষার সাহিত্য অনুবাদ করা দুটি-ই খুব কঠিন কাজ। এক ভিনদেশী নারী যে ভারতবর্ষে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন। তাঁর হাতে রচিত বাংলার প্রথম উপন্যাসের নাম ‘ফুলমনি ও করুণার বৃত্তান্ত’, উপন্যাস হিসেবে সার্থক না হলেও এক ভিনদেশির হাতে বাংলা সাহিত্যের চর্চা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। তবে সর্বপ্রথম বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন যে বাঙালি নারী, তাঁরা দুই বোন, অরু দত্ত (১৮৫৪-১৮৭৮) ও তরু দত্ত (১৮৫৬-১৮৭৭), যাঁরা উচ্চশিক্ষার্থে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে গিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়েই, বিশেষ করে তরু দত্ত, ইংরেজি ও ফরাসিতে মৌলিক সাহিত্য রচনা করেন, এবং কিছু কিছু বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যকর্মের বাংলা অনুবাদ করেন। দুঃখের বিষয়, এই দুই ভগ্নিই খুব কম বয়সে মারা যান। তাঁদের পিতা যিনি অনেক আগেই খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, পরে সেইসব অনুবাদ সাহিত্য ও বিদেশি ভাষায় রচিত কন্যাদের মৌলিক রচনা প্রকাশ করেন। আরেক বিখ্যাত নারী, সরোজিনী নাইডু, ইংরেজিতে কবিতা লিখে শুধু বাংলা বা ভারতবর্ষে নয়, ইংল্যান্ডেও সুনাম করেছিলেন। বিলেতে তাঁকে ভারতের ‘নাইটিঙ্গেল’ বলা হতো তাঁর কবিতার মাধুর্যের জন্যে। ১৮৮৪ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখে অভ্যস্ত আজিজননেছা খাতুন (১৮৬৪-১৯৪০) প্রথম নারী যিনি একটি অনুবাদগ্রন্থ ‘হারমিট’ বা ‘উদাসীন’ প্রকাশ করেন।
মুসলমান নারীদের ভেতর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত লেখক হলেন সমাজসেবী ও নারী উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত। তিনি মুসলিম সমাজে নারী জাগরণের পথিকৃৎ। নারী শিক্ষা ও নারীর অধিকার নিয়ে লিখিত, বিশেষ করে মুসলমান নারীর অবস্থা উন্নয়নে রচিত তাঁর লেখার মতো শক্তিশালী ও সাহসী লেখা অতি দুর্লভ। ওদিকে আরেক অগ্রসর নির্ভীক নারী ছিলেন নবাব ফয়েজুন্নেসা। তাঁর লিখিত ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয় একই সালে (১৮৭৬) যখন ঠাকুরবাড়ির স্বর্ণকুমারীর ‘দীপনির্বাণ’-ও বেরোয়, যা বাংলা সাহিত্যে নারীরচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস বলে সুধীজনের কাছে আজও বিবেচিত।
বাংলা সাহিত্যে কিছু বিখ্যাত নারী লেখকের নাম (সকলেই মৃত) ও তাঁদের লিখিত বিশেষভাবে উল্লেখনীয় দু-একটি বইয়ের নামের তালিকা দেওয়া হলো নিচে :
লেখক/কবি উল্লেখযোগ্য বই/রচনা
১. অবলা বসু (১৮৬৫-১৯৫১) বঙ্গ রমণীর পৃথিবী দর্শন,
বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসু
ও লেডি বসুর ‘প্রবন্ধাবলী’
২. আজিজুন্নেছা (১৮৬৪-১৯৪০) হারমিট বা উদাসীন (অনুবাদ), কবিতার বই কোরবানি (অপ্রকাশিত)
৩. আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫) বলয়-গ্রাস, প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা
৪. ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী (১৮৭৩-১৯৬০) স্মৃতি সম্পুট
৫. কবিতা সিংহ (১৯৩১-১৯৯৮) পাপপুণ্য পেরিয়ে (বাংলার অন্যতম প্রাচীন নারী সাংবাদিক, আকাশবাণী, বিভিন্ন সংবাদপত্র)
৬. কমলা দাসগুপ্ত (১৯০৭-২০০০) স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী,
রক্তের অক্ষরে
৭. কাদম্বরী দেবী (১৮৫৯-১৮৮৪) ‘ভারতী’ পত্রিকা পরিকল্পনা/ পরিচালনা,
সাহিত্যরসিক/সমালোচক
৮. কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩) আলো ও ছায়া, মাল্য ও নির্মাল্য,
অশোক সংগীত, পৌরাণিকী
৯. কুসুমকুমারী দাশ (১৮৭৫-১৯৪৮) কাব্য মুকুল, পৌরাণিক আখ্যায়িকা
১০. কৈলাসবাসিনী দেবী (গুপ্ত) (১৯ শতক) হিন্দু মহিলাগণের হীনাবস্থা, হিন্দু মহিলাকুলের বিদ্যাভ্যাস ও
তাহার সমুন্নতি, বিশ্বশোভা
১১. কৈলাসবাসিনী মিত্র (১৮২৯-১৮৯৫) গতযুগের জনৈকা গৃহবধূর ডায়রী
১২. কৃষ্ণকামিনী দাসী (১৯ শতক) কাব্যগ্রন্থ ‘চিত্তবিলাসিনী’
১৩. কৃষ্ণভামিনী দাস (১৮৬৪-১৯১৯) ইংল্যান্ডে বঙ্গ মহিলা
১৪. খায়রুন্নেসা খাতুন (১৮৭৫-১৯১০) সতীর পতিভক্তি
১৫. চন্দ্রাবতী (১৫৫০-১৬০০) রামায়ণের অনুবাদ, মলুয়া,
দস্যু কেনারামের পালা
১৬. জাহানারা ইমাম (১৯২০-১৯৯৪) একাত্তরের দিনগুলি,
ক্যান্সারের সাথে বসবাস
১৭. জ্যোতির্ময়ী দেবী (১৮৯৪-১৯৮৮) ছায়াপথ, এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা, স্মৃতি বিস্মৃতির তরঙ্গ
১৮. তরু দত্ত (১৮৫৬-১৮৭৭) ‘লা জার্নাল’, ‘বিয়াঙ্কা’
এন্সিয়েন্ট ব্যালেড্যান্স
এবং লেজেন্ডস অফ হিন্দুস্তান
১৯. তাহেরুন নেসা (১৯/২০ শতক) বামাবোধিনী পত্রিকায় তার
পরিণত মন্তব্য ‘বামাগণের রচনা’ প্রকাশিত হলে সরকারের চোখে পড়ে
২০. দৌলতুন্নেসা খাতুন (১৯১৮-১৯৯৭) পথের পরশ, বধূর লাগিয়া,
বিবস্ত্র ধরণী
২১. নবাব ফয়েজুন্নেসা (১৮৫৮-১৯০৩) রূপজালাল
২২. নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
২৩. নূরুন্নেসা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী (১৮৯৪-১৯৭৫) ভাগ্যচক্র, স্বপ্নদ্রষ্টা, আত্মদান,
২৪. প্রতিভা বসু (১৯১৫-২০০৬) মহাভারতের মহারণ্যে,
অতল জলের আহ্বান,
২৫. প্রভাবতী দেবী সরস্বতী (১৮৯৬-১৯৭২) বিজিতা, ভাঙ্গাগড়া, রাঙ্গাবৌ,
ধুলার ধরণী
২৬. বিনোদিনী দাসী (১৮৬৩-১৯৪২) আমার কথা
২৭. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত (১৮৮০-১৯৩২) মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ
২৮. ভগিনী নিবেদিতা (১৮৬৫-১৯১১) ঞযব গধংঃবৎ ধং ও ংধি যরস, ডবন ড়ভ ওহফরধহ খরভব, ঈৎধফষব ঞধষবং ড়ভ ঐরহফঁরংস, রবীন্দ্রনাথের গল্প ইংরেজিতে অনুবাদ
২৯. মানকুমারী বসু (১৮৬৩-১৯৪৩) প্রিয় প্রসঙ্গ, কাব্য কুসুমাঞ্জলী
৩০. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা (১৯০৬-১৯৭৯) পশারিনী
৩১. মেহেরুন্নেসা (১৯৪০-১৯৭১) কবিতা, জনতা জাগো
৩২. মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪-১৯৯০) ন হন্যতে, মংপুতে রবীন্দ্রনাথ
৩৩. রানী চন্দ (১৯১২-১৯৯৭) জেনানা ফটক
৩৪. রাসসুন্দরী দেবী (১৮১০-১৯০০) আমার জীবন
৩৫. লায়লা সামাদ (১৯২৮-১৯৮৯) দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে, কুয়াশার নদী
৩৬. লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭) বদ্যিনাথের বড়ি, হলদে
পাখীর পালক, রান্নার বই
৩৭. লীলা রায় (১৯১০-১৯৯২) মাহবুব-উল-আলম-এর
গ্রন্থের অনুবাদ
৩৮. শরৎকুমারী চৌধুরাণী (১৮৬১-১৯২০) শুভবিবাহ
৩৯. শামসুন্নাহার মাহমুদ (১৯০৮-১৯৬৪) বুলবুল পত্রিকার সহ-সম্পাদক, রোকেয়া জীবনী, নজরুলকে যেমন দেখেছি
৪০. সরলা দেবী চৌধুরানী (১৮৭২-১৯৪৫) জীবনের ঝরাপাতা
৪১. সরোজিনী নাইডু (১৮৭৯-১৯৪৯) ঞযব ইরৎফ ড়ভ ঞরসব : ঝড়হমং ড়ভ খরভব, উবধঃয ্ ঃযব ঝঢ়ৎরহম ঞযব ইৎড়শবহ ডরহম
৪২. সাহানা দেবী (১৮৯৭-১৯৯০) স্মৃতির খেয়া, রবিস্মৃতি
৪৩. সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯) সাঁঝের মায়া, উদাত্ত পূরবী
৪৪. স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) দীপনির্বাণ, ছিন্ন মুকুল
৪৫. সৈয়দা মোতাহেরা বানু (১৯০৬-১৯৭৩) অবেলায়, প্রতীক্ষা, অধীরা
৪৬. হরিপ্রভা তাকেদা (১৮৯০-১৯৩২) বঙ্গমহিলার জাপান দর্শন
৪৭. হাজী সহিফা বানু (হাজী বিবি) (১৮৫০-১৯১৭) ‘সহিফা সঙ্গীত', ‘ইয়াদ গাওে',
‘সইফা ও ছাহেবানের জারি’।
৪৮. হোসনে আরা (১৯১৪-১৯৯৯) সফদার ডাক্তার
Leave a Reply
Your identity will not be published.