কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে অসম প্রেমের ছবি ‘আবার বসন্ত’ মুক্তি পেয়েছে। বলিউডেও এধরনের ছবি ‘নিঃশব্দ’ ও ‘চিনি কম’ মুক্তি পেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
অসম প্রেম কী ? এখানে বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে কম বয়সী নারী কিংবা বয়স্ক নারীর সঙ্গে কম বয়সী পুরুষের সম্পর্ক বা প্রেমের কথা বলা হচ্ছে।
‘নিঃশব্দ’ হচ্ছে রাম গোপাল ভার্মার ছবি। ছবিতে দেখা যায়—বিজয় (অমিতাভ বচ্চন) একজন ফটোগ্রাফার, বয়স ষাট, সে বসবাস করে পাহাড়ি এলাকায় মধ্যবয়সী স্ত্রীর (রেবতী) সঙ্গে। তার অষ্টাদশী মেয়ে রিতু (শ্রাদ্ধ অরোয়া) কলেজ ছুটির সময় হোস্টেল থেকে বাড়িতে আসে ক্লাসমেট এবং বন্ধু জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে। শুরুতে বিজয় আর জিয়ার সম্পর্কটি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু একদিন যখন জিয়া হোস পাইপের পানিতে স্নান করতে থাকে, জলস্নাত অষ্টাদশীকে ঘরের বারান্দা থেকে দেখে মুগ্ধ হয় বিজয় এবং ক্যামেরাবন্দি করে স্নানরতা জিয়াকে। জিয়া তা দেখে ফেলে। বিজয়ের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময়ও হয়। তারপর থেকে ফটোগ্রাফির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে জিয়া। বলাই বাহুল্য, ফটোগ্রাফার বিজয়ের প্রতিও। পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখার সময় বিজয় ও জিয়ার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ব্যাপারটি একসময় বুঝে ফেলে রিতু, বিজয়ের মেয়ে। এদিকে রিতুর মামা আসে বোন-ভগ্নিপতি, ভাগ্নিকে দেখতে। তিনি ভাগ্নির মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে রিতুকে এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। রিতু চোখের জলে ভেসে সবকিছু খুলে বলে মামাকে। তিনি তখন বন্ধু এবং ভগ্নিপতি বিজয়কে বোঝাতে চেষ্টা করেন। বিজয় চুপ করে শোনে। কিন্তু যখন জিয়াকে জন্মদিনের সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য তার এক বন্ধু আসে, তখন বিজয়ের মাঝে দেখা দেয় পরিবর্তন। সে জিয়াকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। জিয়া অশ্রুসজল চোখে বিজয়ের দিকে চেয়ে ‘আই হেট ইউ’ বলে বন্ধুর সঙ্গে চলে যায়। তারপর একদিন রিতুও চলে যায় বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য। স্ত্রীর সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্কও স্বাভাবিক হয় না। বিজয় এক ভেঙে পড়া মানুষে পরিণত হয়। সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে; কিন্তু তাও সে পারে না। সে বেঁচে থাকে স্মৃতি রোমন্থন করে; অষ্টাদশী জিয়ার সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর মাঝে।
বিজয় আর জিয়ার প্রেমের এই গল্প সাধারণ নয়। ব্রোকেন ফেমিলির মেয়ে জিয়া বিজয়ের মাঝে খুঁজেছে পিতাকে এবং প্রেমিককেও। অন্যদিকে বিজয় তার হারানো যৌবনের গন্ধ খুঁজেছে জিয়ার মধ্যে; তারুণ্য আর যৌবনের উচ্ছ্বলতায় ভেসে যেতে চেয়েছে। তাই ‘নিঃশব্দ’ শুধু দেখার জন্য নয়, গভীর অনুভব আর উপলব্ধির এ ছবি।
অমিতাভ অভিনীত আরেকটি ছবি ‘চিনি কম’ ও অসম প্রেমের গল্প। এখানে লন্ডনের ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁয় শেফ বুদ্ধদেব গুপ্ত (৬৪) প্রেমে পড়ে তার চেয়ে ত্রিশ বছরের ছোট নীনার তথা টাব্বুর।
পেছন ফিরে তাকানো যাক। হিন্দি ছবিতে অসম প্রেম প্রথম দেখা যায় যশ চোপড়া প্রোডাকশন্সের ছবি ‘দুসরা আদমি’তে। এখানে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাখী ও ঋষি কাপুর। পরে যশ চোপড়া নির্মাণ করেন ‘লামহে’। এ ছবিতে দেখা যায়, অনিল কাপুর ভালোবাসেন শ্রীদেবীকে। কিন্তু ঘটনাচক্রে শ্রীদেবীর অন্যত্র বিয়ে হয় এবং কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সে মারা যায়। শ্রীদেবীর মেয়েকে নিজের কাছে এনে মানুষ করে অনিল কাপুর। কিন্তু বড় হওয়ার পর সেই মেয়ে দেখতে হয় হুবহু শ্রীদেবীর মতো এবং সে প্রয়াত মা’র প্রেমিককে ভালোবাসে ফেলে। এই অসম প্রেমে প্রথমে অনিল সাড়া দেয় না, অন্তর্দ্বন্দ্বে ভোগে, পরে সে মেনে নেয় এই প্রেমকে।
সেই সময় অসম প্রেমের আরও দুটি হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল ডিম্পল কাপাডিয়া ও অমল মহত্রে অভিনীত ‘লীলা’ এবং মনীষা কৈরালা অভিনীত ‘তুম’। কিন্তু ছবি দুটি সাড়া জাগাতে পারে নি। তবে মনীষা কৈরালা অভিনীত আরেক ছবি ‘এক ছোটি সি লাভ স্টোরি’ ভারতীয় দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। এখানে মনীষা কৈরালার প্রেমে পড়ে ষোল-সতেরো বছরের এক কিশোরÑযে নাকি বায়নোকুলার দিয়ে মনীষা কৈরালা আর তার বয়ফ্রেন্ডের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো প্রত্যক্ষ করে। তারপর সেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে মনীষার সঙ্গে।...মনীষা অভিনীত ছবিটির পর মুক্তি পায় ‘জোগার্স পাক’। অসম প্রেমের এই ছবির অভিনয়শিল্পীরা ছিলেন ভিক্টর ব্যানার্জি এবং প্যারিজার জোরাবিয়ান। তবে সত্যিকার অর্থে যে ছবির অসম প্রেম ভারতীয় তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করে, সেই ছবিটি হলো ‘দিল চাহাতা হ্যায়’। এ ছবিতে অক্ষয় খান্না প্রেমে পড়ে তার চেয়ে বয়সে বড় ডিম্পল কাপাডিয়ার।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জের কয়েকটি বাংলা ছবিতেও অসম প্রেম লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো অপর্ণা সেন অভিনীত ‘পরমা’। ছবিতে মধ্যবয়সী এক গৃহবধূ (রাখী) প্রেমে পড়ে ভাসুরপোর ফটোগ্রাফার বন্ধুর। তার সংস্পর্শে দীর্ঘদিন পর সে তার হারানো সত্তাকে (মহিলাটি একসময় ভালো সেতার বাজাত) ফিরে পায়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অসম প্রেম মূর্ত হয়ে উঠেছে ‘রূপবান’ এবং ‘আবার বনবাসে রূপবান’-এ। লোককাহিনিভিত্তিক এই চলচ্চিত্র দুটিতে দেখা যায়, ১২ দিনের শিশু রহিমের সঙ্গে বিয়ে হয় ১২ বছরের রূপবানের। রূপবান রহিমকে সঙ্গে নিয়ে বনে নির্বাসিত জীবন কাটায় এবং বড় করে তোলে রহিমকে। তরুণ রহিম কিন্তু ভালোবেসে ফেলে তাজেল নামের অন্য এক তরুণীকে। মধ্যবয়সী রূপবান তখন প্রাণপ্রিয় স্বামীর এই অবহেলা সহ্য করতে না পেরে আত্মবিসর্জন দিতে যায় বনে। কিন্তু এক দরবেশের কল্যাণে তার প্রাণ রক্ষা পায় এবং সে নবযৌবন লাভ করে। নবযৌবন পাওয়া এই রূপবানকে চিনতে পারে না রহিম এবং সে প্রেমে পড়ে তার। শেষ পর্যায়ে তাদের দুজনের মিলন হয়।
আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সখী তুমি কার’ ছবিতে রাজ্জাক বিয়ে করে তরুণী শাবানাকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলে। এই অসম প্রেমের পরিণতি বড়ই মমন্তুদ।
রাজ্জাকের ছোটভাই ফারুকের সঙ্গে শাবানার অতীত সম্পর্ক আবিষ্কৃত হওয়ার পর এক পর্যায়ে রাজ্জাক ও শাবানা দুজনেই মৃত্যুকে বেছে নেয়। বেশ কয়েক বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ ছবিটি। এ ছবিতে তানিয়া আহমেদ ও রূপকের মাঝে অসম প্রেম লক্ষ করা যায়।
অনন্য মামুন পরিচালিত ‘আবার বসন্ত’-এ দেখা যায় পঁয়ষট্টি বছরের এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক, যার দুই ছেলে আছে, নাতি-নাতনি আছে। এই প্রৌঢ় ভদ্রলোকটি পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। এর মধ্যে অনেক সমীকরণ আছে, অনেক কারণ আছে। প্রৌঢ় ভদ্রলোক বিশাল একটি বাড়িতে কাজের লোকদের সঙ্গে নিয়ে বাস করেন। একাকিত্বে ভোগেন। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পরে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন, কেন আমি বেঁচে আছি ? তিনি যে অসম বয়সী এক মেয়ে, যে নাকি প্রায় তার নাতনির বয়সী, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন—এর পেছনে দৈনিক কামনা-বাসনার কোনো ব্যাপার নেই। তিনি আসলে মেয়েটির সান্নিধ্য চেয়েছেন। অন্যদিকে তরুণীটি যে প্রৌঢ় লোকটির সম্পর্ক গড়ে এর পেছনে রয়েছে তার একটি রোগ। সেক্স ফোবিয়া। সে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ককে ভয় পায়। তার ছোটবেলার একটি ঘটনা এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। যা হোক, প্রৌঢ় ভদ্রলোক এবং তরুণীটি যখন পরপস্পরকে বুঝতে পারে, তখনই সম্পর্কটি গভীর হয়। আর ভদ্রলোক যখন মেয়েটিকে জীবনসঙ্গিনী করার কথা ভাবে তখন তার ছেলেমেয়েরা, সমাজের মানুষেরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ছবিটি একটি গভীর অনুভূতি বা বোধের চলচ্চিত্র। এতে অসাধারণ চলচ্চিত্র হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ফর্মুলাভিত্তিক চলচ্চিত্রকেই অনুসরণ করেছে।
২
এবার বলিউড, টালিউড ও ঢালিউডের মানুষদের জীবনে অসম প্রেমের প্রসঙ্গ।
নার্গিসের সঙ্গে প্রেম ছিল রাজ কাপুরের। কিন্তু সেই প্রেম সুখকর কোনো পরিণতি পায় নি। এমনি অবস্থায় নার্গিসের জীবনে আসেন সুনীল দত্ত। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির সেটে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে নার্গিসের প্রাণ রক্ষা করেন সুনীল। পরে দুজনের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই অসম সম্পর্ক একসময় বিয়েতে গড়ায়। এছাড়া কিশোর কুমার যোগিতাবালী কিংবা কিশোর কুমার-নীলা চন্দ্রভারকার, রাজেশ খান্না-টিনা মুনিম, সানি দেউল-ডিম্পল কাপাডিয়া, মীনা কুমারী-কামাল আমরোহী, মীনা কুমারী-ধর্মেন্দ্র, শর্মিলা ঠাকুর-মনসুর আলী খান পতৌদি, শ্রীদেবী-বনি কাপুর, শেখর কাপুর-সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি, অমৃতা সিংÑসাইফ আলী খান, আমিষা প্যাটেল-বিক্রম ভাট, অর্জুন কাপুর-মালাইকা অরোরাসহ বলিউডের অনেকের জীবনেই এসেছে অসম প্রেম।
টালিগঞ্জের সন্ধ্যা রায় প্রেমে পড়ে বিয়ে করেছিলেন পরিচালক তরুণ মজুমদারকে। বলাই বাহুল্য, এই প্রেম ছিল অসম। দীর্ঘদিন দাম্পত্যজীবন কাটানোর পর কয়েক বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং এর কারণও হলো অসম প্রেম। অসম প্রেমের কারণে কয়েক বছর আগে টালিগঞ্জের এক অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন। প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল অসম প্রেমে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছিলেন স্ত্রীর কাছেই।
ঢালিউডের প্রয়াত প্রযোজক চিত্ত চৌধুরী প্রেমে পড়েছিলেন তার ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা কবরীর। কবরীকে তিনি বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু এই বিয়ে সুখের হয় নি। একসময় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। ষাট দশকের কিংবদন্তি এক চলচ্চিত্রকার প্রেমে পড়েছিলেন তার শালির, যাকে চলচ্চিত্রে ব্রেক দিয়েছিলেন তিনিই। এই প্রেম কোনো পরিণতি পায় নি। সুচরিতার সঙ্গে ডিভোর্সের পর প্রয়াত নায়ক-অভিনেতা জসীম প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন নাসরিনকে। নাসরিন আর জসীমের মাঝে বয়সের বেশ ফারাক ছিল। এমনিভাবে খান আতাউর রহমান-নীলুফার ইয়াসমিন, সাবিনা ইয়াসমিন-আমির হোসেন বাবু, এম এ সামাদ-রোজী, রোজী-মালেক আফসারীসহ ঢালিউডের অনেকেরই জীবনে দেখা মেলে অসম প্রেমের।
শেষ কথা
মানুষের জীবনে কেন অসম প্রেম দেখা দেয় ? এ সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা নানা কথা বলেছেন। প্রধান কয়েকটি অভিমত হলো—
১. যৌবন চলে যায়, কিন্তু যৌবনের প্রতি আকর্ষণ তো যায় না। প্রৌঢ় কিংবা প্রৌঢ়ারা তাই আকর্ষণ বোধ করে তরুণী কিংবা তরুণের প্রতি।। ফলে একসময় মানুষটি প্রেমে পড়ে সেই তরুণী অথবা তরুণের।
২. চিরকুমার অথবা কুমারীদের কেউ কেউ মধ্যবয়সে প্রেমে পড়ে কমবয়সী তরুণ অথবা তরুণীর। শেষ বয়সে মনের মানুষকে খুঁজে পেয়ে তারা পরিণয় সূত্রে আবদ্ধও হয়।
৩. এমন মানুষও থাকে যারা দাম্পত্যজীবনে স্ত্রী অথবা স্বামীর কাছ থেকে শারীরিক সুখ পায় না। তারা গোপনে পরকীয়ার মত্ত হয়। এ ক্ষেত্রে কারও কারও সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর বয়স তাদের থেকে অনেক কম থাকে।
৪. অধিকাংশ মানুষই জীবনে মিস্টার রাইট অথবা মিস রাইটের দেখা পায় না। ভুল মানুষের সঙ্গেই তারা সারাজীবন ঘর করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যবয়সে অথবা শেষ জীবনে প্রেমে পড়ে কোনো তরুণ অথবা তরুণীর। কেউ কেউ সাহসী হয়ে ঘর ভেঙে আবার বিয়েও করে।
একটি উদাহরণ দিয়ে লেখাটি শেষ করছি, প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের জীবনে বহু নারী এসেছিল। কিন্তু কেউ-ই চার্লিকে সুখী করতে পারে নি। অবশেষে চার্লির শেষ জীবনে উদয় হলো উনা ও’নীল-এর। এই রমণীর সংস্পর্শে এসে চার্লির মনে হয়েছিল, এই নারীর জন্যই তিনি সারাজীবন অপেক্ষা করেছেন। সঙ্গতকারণেই উনাকে বিয়ে করেন চার্লি। তাদের দাম্পত্যজীবন অত্যন্ত সুখে কেটেছিল।
Leave a Reply
Your identity will not be published.