Ôকী চমৎকার দেখা গেল এইবারেতে আইসা গেল, ঢাকার শহর দেখেন ভালো। কী চমৎকার দেখা গেল।’ কিংবা...‘সুন্দরবনের বাঘ-ভালুক সামনে আছে, ডানে- বামে নজর করো, আরে নবাবেরই বাড়ি আছে, হাজার দুয়ারি ঘর আছে, দেখতে যত বাহার আছে, এক শ তলা বাড়ি আছে, এইবারেতে দেখেন ভালো, আরও কিছু রইয়া গেল...।’ প্রতিটি ছবির সাথে মিল রেখে এই ধরনের গান গেয়ে বায়স্কোপ দেখানোর প্রচলন রয়েছে সূচনা লগ্ন থেকেই। আমাদের দেশে ১৮৯৮ সালে মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন বাণিজ্যিকভাবে প্রথম বায়োস্কোপ দেখাতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন এটাই ছিল মানুষের কাছে অনন্য বিনোদন।
বায়োস্কোপের সঙ্গে এদেশের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে গ্রাম-বাংলার জনপদে বেড়ে ওঠা মানুষকে তো বটেই। তবে যারা শহরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবনযাপন করে অভ্যস্ত কিংবা যাদের জন্ম দেড় থেকে দুই যুগ আগে, তাদের কাছে হয়তো হাস্যকর এক বাক্স মনে হবে। কিন্তু বায়োস্কোপ মোটেও হাস্যকর কোনো বস্তু ছিল না, কিংবা ছিল না কোনো বোকা বাক্সও!
প্রকৃতপক্ষে বায়োস্কোপ ছিল অনেকটা গ্রাম-বাংলার ভ্রাম্যমাণ সিনেমা হলের মতো। বায়োস্কোপওয়ালারা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রং-বেরঙের কাপড় পরে, হাতে ঝুনঝুনি বাজিয়ে ছুটে চলত গ্রামের হাটবাজার, স্কুল কিংবা গ্রামের সরু রাস্তা ধরে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তাদের পেছন পেছন বিভোর স্বপ্ন নিয়ে দৌড়াত গ্রামের ছেলেমেয়েরা। বায়োস্কোপওয়ালার এমন ছন্দময় ধারা বর্ণনায় আকর্ষিত হয়ে ঘর ছেড়ে গ্রামের নারী-পুরুষ ছুটে আসত বায়োস্কোপের কাছে। একসঙ্গে সবাই ভিড় জমালেও পাঁচ থেকে ছয় জনের বেশি একসঙ্গে দেখতে না পারায় আগ্রহী দর্শকদের অপেক্ষা করতে হতো। সিনেমা হলের মতো এক শো শেষ হওয়ার পরে আবার পাঁচ থেকে ছয়জন নিয়ে শুরু হতো পরবর্তী বায়োস্কোপ শো।
একসময়ের জনপ্রিয় ভ্রাম্যমাণ বিনোদনের বাক্স বায়োস্কোপের দিন শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আকাশ সংস্কৃতি আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কাছে পরাজিত হয়েছে বায়োস্কোপ। এই বায়োস্কোপ শুধু কাঠের বাক্সের ঘষা কাচে চোখ লাগিয়ে দুই মিনিট ছবি দেখা নয়Ñসঙ্গে রয়েছে ছন্দের বিস্ময়। সেটা তৈরি করতে হয় বায়োস্কোপ ওয়ালাকে নিজের কণ্ঠ, হাতের বাদ্যযন্ত্র, পায়ের ঘুঙুর ব্যবহারের মাধ্যমে। এখনো যারা বায়োস্কোপ দেখান, প্রযুক্তির কল্যাণে তাদের অধিকাংশ এই কাজ করেন অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে। শব্দযন্ত্রের সঙ্গে বাজানো হয় সেই রেকর্ড। কিন্তু ৩৩ বছর ধরে বায়োস্কোপ দেখিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো জলিল মণ্ডল এখনো এ কাজটি নিজে করেন। তার কোনো রেকর্ডার নেই।
বায়োস্কোপের ঘষা কাচের জানালায় চোখ রাখলে ছবি আর বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠত অজানা পৃথিবী। আর গ্রামের সেই ছোট শিশু বা কিশোরের কাছে সেটা ছিল এক নতুন অচেনা পৃথিবী। বায়োস্কোপ, বাংলাদেশের চিরচেনা হারিয়ে যাওয়া একটি লোকজ ঐতিহ্যের নাম যা একসময় ছিল গ্রাম বাংলার শিশু-কিশোরদের চিত্ত বিনোদনের এক উল্লেখযোগ্য মাধ্যম।
বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে কারবালার দুলদুল ঘোড়া, মক্কা-মদিনার ছবি, ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান, আজমির শরীফ ও ক্ষুদিরামের ফাঁসির মর্মস্পর্শী দৃশ্য বায়োস্কোপ দেখিয়ে দীর্ঘদিন শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষকে সমান তালে আনন্দ দিয়ে যেত। বায়োস্কোপ দেখে অজানাকে জানার সুযোগ পেত। ধারণা পেত ঐতিহাসিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের, ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার।
সত্তরের দশকে জন্ম নেওয়া গ্রামাঞ্চলের প্রজন্মরা বায়োস্কোপ দেখে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। আমি আমার কিশোর বয়সে বিভিন্ন গ্রামীণ মেলা , স্কুল গেইটের বাইরে, ধর্মীয় উৎসব ও আমাদের গ্রামের বাড়িতে বায়োস্কোপওয়ালাদের আসতে দেখেছি। তাদের ছন্দময় গান শুনে মুগ্ধ হয়ে সমবয়সী ৪/৫ জন একসাথে মিলে আনন্দ চিত্তে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বায়োস্কোপ দেখেছি। অনেক অজানা অচেনা বিখ্যাত জায়গার ছবি দেখে নিজেদের জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছি।
আমাদের ছোটোবেলার সেই দিনগুলোতে বায়োস্কোপ ছিল এক ভ্রাম্যমাণ সিনেমার মতো। অদ্ভুত ভালো লাগতো একের পর এক পৃথিবীর বিখ্যাত সব জায়গা, বনজঙ্গল , পাহাড় পর্বত, বাঘ ভাল্লুকের ছবিগুলো দেখতে। ছোটোবেলা স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে অসংখ্যবার বায়োস্কোপ দেখার স্মৃতি এখনো আমার বড় বেশি মনে পড়ে। আমাদের সময় বিদেশের তৈরী ক্যেমেরা আকৃতির প্লাস্টিকের তৈরী একধরনের ভিউ ফাইন্ডার যন্ত্র পাওয়া যেতো। একটি গোল সিডি সাইজের চাকতির মধ্যে বসানো ১০/১২ টি ছবি সেই ভিউ ফাইন্ডারের উপর থেকে ঢুকিয়ে দিয়ে পাশের ছোট হাতলটা চাপ দিয়ে একের পর এক ছবি পরিবর্তন করে দেখা যেত। কিন্তু বায়োস্কোপওয়ালাদের গানের সুরে ধারা বর্ণনা এই আধুনিক যন্ত্রে না থাকায় আমার কাছে সেই ভিউ ফাইন্ডার খেলনাগুলো তেমন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে নাই। বিদেশে তৈরী ছবি দেখার এই খেলনা যন্ত্রটি বায়োস্কোপের প্রাণবন্ত আবেদনকে কখনোই পিছনে ফেলতে পারে নি। জানি না সেই ভিউ ফাইন্ডার যন্ত্রগুলো এখনো বাজারে কিনতে পাওয়া যায় কিনা। একসময়ের ভ্রাম্যমাণ বিনোদনের বাক্স ছিল বায়োস্কোপ। এই বায়োস্কোপ শুধু কাঠের বাক্সের ঘষা কাচে চোখ লাগিয়ে দুই মিনিট ছবি দেখা নয়। সঙ্গে রয়েছে ছন্দের বিস্ময়। সেটা তৈরি করতে হয় বায়োস্কোপওয়ালাকে নিজের কণ্ঠ, হাতের বাদ্যযন্ত্র, পায়ের ঘুঙুর ব্যবহার করেÑযা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
চার বছর আগে ঢাকার অদূরে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে অনুষ্ঠিত লোকজ মেলায় ঘুরতে গিয়ে দেখা পেয়েছিলাম বায়োস্কোপ বাক্সের। কিছু উপার্জনের আশায় বায়োস্কোপ বাক্সের মালিক জলিল মণ্ডল সুদূর রাজশাহী থেকে ছুটে এসেছিলেন সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত লোক কারুশিল্প মেলায়। এ-ই বাক্সটা দেখার পরে আমার মনে পড়ে গিয়েছিল হারিয়ে যাওয়া বাল্যকালের সেই মধুর সৃতির কথা। নিজেদের বয়স ভুলে আবেগের বশে দাঁড়িয়ে গেলাম বায়োস্কোপ দেখতে। কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম আমার সেই শৈশবের দিনগুলোতে। অদ্ভুত ভালো লাগছিল চিরচেনা গানের ভাষায় বায়স্কোপের ছবিগুলো দেখতে। আলাপকালে জলিল মণ্ডল আমাদেরকে জানালেন, বায়োস্কোপ এখন আর কেউ টাকা দিয়ে দেখতে চায় না, তারপরও তিনি বায়োস্কোপ নিয়ে বের হয়ে পড়েন।, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে পূর্বসূরিদের এ পেশাকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে বায়োস্কোপ দেখিয়ে আসছেন তিনি।
জলিল মণ্ডল আরও জানান, তিন পুরুষ ধরে বায়োস্কোপের পেশা। অবশ্য তার বাবা ও দাদা যে বাক্সে বায়োস্কোপ দেখিয়েছেন সেটি নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। তারপর নতুন করে বানিয়ে নেওয়া এ বাক্সটি নিয়েই চলছে তার জীবন ও জীবিকা।
জলিল মণ্ডলের এ বায়োস্কোপ দেখতে লাগে মাত্র ১০/২০ টাকা। তবু আধুনিক মাল্টি মিডিয়ার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বায়োস্কোপেও ছবি পাল্টান, নতুনত্ব আনেন। চেষ্টা করেন দর্শকের মনোরঞ্জনের। আর ছন্দের তালে তালে বায়োস্কোপের কাচের জানালায় চোখ রাখলে ছবি আর বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে অজানা পৃথিবী। আর গ্রামের সেই ছোট শিশু বা কিশোরের কাছে সেটা এক নতুন পৃথিবী।
আজও শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষকে সমানতালে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন জলিল মণ্ডল। যতদিন বেঁচে থাকবেন, বায়োস্কোপ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ আর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে যাবেন বলে জানান তিনি।
বায়োস্কোপে প্রতিটি শোর মেয়াদ সোয়া দুই মিনিটের মতো। তাতে ১০ থেকে ১২টি ছবি দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০০টি দল বায়োস্কোপ দেখলেও প্রতিবারই নিজের কণ্ঠে গান গেয়ে শোনান জলিল মণ্ডল। প্রতিবারই তাঁকে বাদ্যযন্ত্র প্রেমজুড়ি বাজাতে হয় বাঁ হাতের তাল ঠিক রেখে। ডান হাতে ঘোরে বায়োস্কোপের রিলের চাবি। হাতে গোনা যে কয়েকজন যাঁরা এখনো বায়োস্কোপ দেখান, তাদের অধিকাংশই এই কাজটি করেন অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে। শব্দযন্ত্রের সঙ্গে বাজানো হয় সেই রেকর্ড।
কিছুদিন আগে শেষ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে জয়নুল উৎসব-২০২৪-এ জলিল মণ্ডলকে দেখা গেল কণ্ঠের সঙ্গে মাটিতে সমানভাবে তাল রাখছেন পায়ের। তবে জরির সুতা, পুঁতি, হীরার মতো নকল কাচ দিয়ে নকশা করা লাল রঙের পোশাকটা একেবারে মলিন। এই একটিমাত্র পোশাক দিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। জলিল মণ্ডল বললেন, ‘কাঠের এই বাক্সটার ভেতর সারা বছর জামা, টুপি আটকানো থাকে। ইঁদুরে কেটেছে। নতুন করে বানানোর পয়সা নেই।’ জানান, এখন আর কেউ বায়োস্কোপ দেখে না। বিভিন্ন জায়গার মেলা বা উৎসবে ডাক পেলে বাক্স নিয়ে ছুটে যান। বায়োস্কোপ দেখিয়ে জলিল মণ্ডলের এখন আর সংসার চলে না। তাই জীবিকার প্রয়োজনে বছরের বাকি সময় তিনি কৃষিকাজ করেন।
বায়োস্কোপ পেশায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করে বলেন, একটা সময় ছিল যখন গ্রাম-গঞ্জের পথে-ঘাটে হাটবাজারে তিনি ও তার বাবা বায়োস্কোপ দেখিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। তখন ধান, চাল ও অর্থের বিনিময়ে বায়োস্কোপ প্রদর্শন করতেন। বায়োস্কোপ প্রদর্শনের বিষয়বস্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বিভিন্ন প্রেম কাহিনী, তারপর যুদ্ধ, বিশ্বের দর্শনীয় স্থান, ধর্মীয় বিষয় ও রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে বায়োস্কোপ প্রদর্শন করা হতো। এজন্য তাদের অনেক বেশি জানতে হয়। তারপর সেটা প্রদর্শনের সময় এক এক করে ছন্দ মিলিয়ে বলতে হয়। তাহলেই দর্শক বায়োস্কোপ দেখতে আগ্রহী হয়। তার বাক্সে একসঙ্গে ছয়জন দর্শক বায়োস্কোপ দেখতে পারে।
আ. জলিল মণ্ডলের মতে ঘরে ঘরে টেলিভিশন ও হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় এখন আর আগের মতো এর প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ নেই বললে চলে। তবে অনেকেই কৌতূহল নিয়ে এটি দেখতে এগিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মেলায় এ বায়োস্কোপ প্রদর্শন করে থাকেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বায়োস্কোপ দেখিয়েছেন। দেড়যুগ আগেও বায়োস্কোপের যে জৌলুস ছিল, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় তা আজ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু জলিল মণ্ডল আর আগের মতো অকেজো জিনিস হিসেবে ছুড়ে দেন নি বায়োস্কোপকে। জড়িয়ে ধরে রেখেছেন এটিকে নিজ সন্তানের মতো। মানুষ এ বায়োস্কোপ না দেখলেও যখনই তার মনে চায়, তিনি গ্রামের সরু রাস্তা ধরে বায়োস্কোপ নিয়ে ছুটে চলেন। জলিল মণ্ডল জানেন বায়োস্কোপ এখন আর কেউ টাকা দিয়ে দেখবে না, তারপরও তিনি বায়োস্কোপ নিয়ে বের হয়ে পড়েন।
রাজধানীর উত্তরখানের বাসিন্দা পিয়ার আলীও বায়োস্কোপের বাক্স নিয়ে বের হন। তবে তিনি নিজের পেশার পরিসর বাড়িয়েছেন। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে চুক্তি করে বায়োস্কোপ দেখান। ঢাকার মধ্যে হলে এক বেলার ভাড়া তিন হাজার টাকা, ঢাকার বাইরে চার হাজার টাকা। টেলিফোনে জানালেন, মাসে বেশি হলে চার থেকে পাঁচটা ডাক পড়ে। অধিকাংশ সময় বিয়ে, পিকনিক বা মেলায় যান পিয়ার আলী। এই সঙ্গে রয়েছে তাঁর নাগরদোলাসহ আরও কিছু কিছু লোক-উৎসবের আয়োজনের ব্যবস্থা। পিয়ার আলী জানান, তাঁর বায়োস্কোপের বাক্সের ভেতর আছে ছোট্ট একটি শব্দব্যবস্থা। মুখে বলে আবার এই অডিও ছেড়েÑদুইভাবেই তিনি বায়োস্কোপ দেখান।
দিন যতই যাচ্ছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার বায়োস্কোপ। উপার্জন কমে যাওয়ায় বংশপরম্পরায় এতদিন যারা বায়োস্কোপ দেখিয়ে আসছিলো, জীবিকার তাগিদে তাদের অধিকাংশই পেশা বদল করে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। হাতে গোনা বাকি যে কয়জন এই পেশাকে ভালোবেসে এখনো ধরে রেখেছেন তারাও বছর কয়েক পরে চিরতরে হারিয়ে যাবেন। জাদুঘরে রাখার মতো বায়োস্কোপের বাক্সটি হয়তোবা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ আমাদের গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অংশ ছিল এই বায়োস্কোপ। জীবনে যতদিন বেঁচে আছি কৈশোরের স্মৃতি বিজড়িত বায়োস্কোপ বেঁচে থাকবে আমাদের মনে চিরকাল।
Leave a Reply
Your identity will not be published.