অসীমে মিশে গেলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। আজ সকালে রাজধানী স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলে না-ফেরার দেশে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের প্রধান পরিচয়, তিনি একজন চিত্রশিল্পী। তাঁর এই শিল্পমানসই তাঁর সব কাজে প্রভাব ফেলেছে, এমনকি টিভি নাটকের ক্ষেত্রেও। চিত্রকর্মের ক্ষেত্রে জলরঙ ও স্কেচের প্রতি তাঁর ঝোঁক বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বলাই বাহুল্য, এই দুটি মাধ্যমে স্মরণীয় শিল্পকর্ম তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন। আর পাপেটের ক্ষেত্রে তিনি তো একটি ইন্সটিটিউশন। এক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে চিহ্নিত হওয়ার দাবি রাখে। পাপেটকে এদেশে জনপ্রিয় করেছেন তিনিই। ‘পারুল’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র তাঁরই সৃষ্টি। মিনা কার্টুন বা সিসিমপুরের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান।
টেলিভিশনে তো বটেই তিনি আমাদের জাতীয় জীবনেও পাপেটকে তুলে ধরেছেন একটি উঁচু স্থানে। দ্বিতীয় সাফ গেমসের মাসকট ‘মিশুক’-১০ ফুট উঁচু হরিণশাবক, ষষ্ঠ সাফ গেমসের মাসকট ‘অদম্য’-একটি বড় বাঘরূপী পাপেট, একাদশ সাফ গেমসের মাসকট ‘কুটুম’-একটি দোয়েল পাখির নির্মাণ মুস্তাফা মনোয়ারের একটি বড় সাফল্য।
চিরকালীন আবেদনে সমৃদ্ধ তাঁর দুটি স্মরণীয় কীর্তি ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ এবং ‘রক্তকরবী’। এদেশের টিভি নাটকের ক্ষেত্রে এ দুটি হচ্ছে মাইলস্টোন। এমন বিরাট আয়োজনে বর্ণাঢ্য খাঁটি টিভি নাটক আর কেউ উপহার দিতে পারেন নি।
একজন টেলিভিশন প্রযোজক হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। এই মাধ্যমে নতুন ধরনের নানা অনুষ্ঠান চালু ও জনপ্রিয় করেছেন তিনি। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ‘নতুন কুঁড়ি’ শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা। একদা বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও উপ-পরিচালক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঢাকার চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রভাষক ছিলেন; ছিলেন ন্যাশনাল পারফরমিং আর্ট সন্টার পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক।
শিল্পকলায় স্মরণীয় কাজের জন্য মুস্তাফা মনোয়ার পেয়েছেন বহু পুরস্কার। যেমন, কলকাতা একাডেমী অব ফাইন আর্ট আয়োজিত নিখিল ভারত চারু ও কারুকলা প্রদর্শনীতে গ্রাফিক শাখায় সোনার পদক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ছাত্র চারুকলা প্রতিযোগিতার তেল ও জলরঙ, দুই শাখাতেই শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের জন্য তিনি পেয়েছেন সোনার পদক; পেয়েছেন তিনি মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কার (২০১১)-এর আজীবন সম্মাননা। ২০০৪ সালে তিনি লাভ করেন একুশে পদক।
‘অন্যদিন’-এর সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ারের ছিল গভীর সম্পৃক্ততা। এই পাক্ষিকের নানা আয়োজনে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
তাঁর প্রতি ‘অন্যদিন’ পরিবারের শ্রদ্ধা।
না-ফেরার দেশে মুস্তাফা মনোয়ার
অন্যদিন ২৯ জুন ২০২৬ ০ টি মন্তব্য
Related Articles
শাহরুখ কেন নারীদের কাছে এত প্রিয়!
অন্যদিন৩০ নভেম্বর ২০২১সম্প্রতি ‘ডেসপারেটলি সিকিং শাহরুখ’ নামে একটি বই প্রকাশ হয়েছে। লেখক শ্রায়ানা ভট্টাচার্য। বইটি ২০ বছরের গবেষণার ফসল। এখানে লেখক তুলে ধরেছেন কেন নারীরা বলিউড স্টার শাহরুখ খানকে এত পছন্দ করে!
শিল্পকলায় আজ থেকে মূকাভিনয় উৎসব
অন্যদিন০৩ অক্টোবর ২০২৩রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী মূকাভিনয় উৎসব। জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মূকাভিনয় পরিবেশনা। ‘গণজাগরণের মূকাভিনয় উৎসব’ শিরোনামের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে ৫ অক্টোবর।
রনবীরকে ফাঁকা মাঠ উপহার দিলেন আমির
অন্যদিন২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১বড়দিনে রনবীর সিংকে ফাঁকা মাঠ উপহার দিলেন আমির খান। জানিয়ে দিলেন, সেই সময় তার ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। মুক্তি পাবে শুধু রনবীর সিং-এর ছবিই।
বিদায়, সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী
অন্যদিন১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩'ঘুড্ডি'খ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী ইহলোক ত্যাগ করেছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
Leave a Reply
Your identity will not be published.