শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গোলাম কিবরিয়া পিনু
শরতের তুলোট মেঘের শুভ্রতায়
আমাদের আকাশের অংশী হয়ে আছো,
সেই কবে থেকে!
তোমার রেঙ্গুন, ভাগলপুর ও কলকাতার সংগ্রামী জীবন
কত রকমের চিত্রনাট্য তৈরি করে আছে,
তা আমরা এখনো এতদিন পরও-
অনুভব করি!
আমাদের মস্তিষ্কের ঘুলঘুলিতে ঘুরেফিরে আসে
অবহেলিত নারীর দীর্ঘশ্বাসের কাহিনি,
অশ্র“লোচনের মধ্যে জেগে থাকে আজও :
সাবিত্রী, কিরণময়ী, কমলা, ভারতী, চন্দ্রমুখী ও রাজলক্ষ্মী!
দেবদাস, শ্রীকান্ত ও সব্যসাচীরা ডুবসাঁতার দিয়ে
পানাপুকুরের পানা সরিয়ে ঘোড়সওয়ার হয়ে ওঠে,
প্রেমে আর পথের দাবীতে!
তোমার অক্ষয়কীর্তির অক্ষরগুলো
আজও অংশুমালা হয়ে ওঠে,
যার অংশী হয়ে আমরাও পথ হাঁটি,
তমোময় দিনে!
জোছনার অন্তরালে জলছবি
ঝর্না রহমান
তুই কি অনিলা হয়ে জন্মেছিলি, আমিই আসলে নাকি তুই?
আমি তো বয়সে বড়, তোর দিদি তুই ছিলি চপল চড়ুই।
ন্যাড়া বলে ডাক দিলে খেপে যাস ঝাঁকুনিতে কপালের দুরন্ত চুল
নাড়িয়ে, অমন কেন গভীরে তাকাস তুই বল দেখি ভাবুক বাউল?
বলেছিলি, দিদি তুমি বলো দেখি ন্যাড়া কেন ওপাড়ার কেশবতী রাধারাণী দাসী
রাধা তো খেলার সাথি, খেদি, বিনি, সরোজিনী ওদেরকে খুব ভালোবাসি।
বিধবা হলেই মেয়ে, একাদশী কাঁচকলা আলোচাল গায়ে কেন শুধু সাদা থান
খুকুমণি, শোভারানী, ননীবালা কড়িখেলা ভুলে গিয়ে
সাধ করে সেধে নেয় দুঃখের নিদান!
তাই বুঝি দুঃখবতী বালাদের নিগৃহীত জীবনের কথাগুলো
তোর কাছে এমন করুণ
তুই শুধু টের পাস এদেশের মেয়েদের বুকে জ্বলে চিতার আগুন।
মেয়েরা মানুষ বুঝি, তারও আছে ভালোবাসা প্রেম দেহ দ্রোহ ক্রোধ কাম,
আমি তো বলিনি তোকে, কোনোদিন,
তুই কি আমার মনে ঢুকেছিলি, তাই নিলি ‘অনিলা দেবী’ই ছদ্মনাম!
কালির বদলে তুই লেখনী চুবিয়ে নিলি আমাদের দুচোখের উষ্ণ লোনা জলে
তুই এলি আমাদের দলে-
পুরুষের পরাক্রম শাসন ত্রাসন, চির নিপীড়ক সমাজের কালি
ছিটায় নারীর মুখে কামুক পুরুষপতি মহামতি পরাক্রমশালী!
কলম খনিত্র তোর, কখনো-বা শল্য যন্ত্র কিংবা নিবিড় রঙতুলি
সহস্র বর্ষের অনুশাসনের যত ধূলি
সরিয়ে আনিস তুলে রাজলক্ষ্মী চন্দ্রমুখী পার্বতী বা অচলার
কামনায় থরোথরো প্রেমাংশু হৃদয়
আঁকিস যত্ন করে রূপহীনা জ্ঞানদার দুঃখের জীবনপটে
সমাজের যত অবক্ষয়।
পতিতা বিধবা সতী অরক্ষণীয়া দাসী অন্নপাপী প্রেমের পূজারি
তুই ছাড়া কে বলেছে, প্রণাম জগন্মাতা প্রকৃতির অংশ তুমি নারী!
তুই কী শ্রীকান্ত, ন্যাড়া, মহিম, সুরেশ, কিংবা দেবদাস ছিলি?
আমি জানি, বড় প্রেম ছোট প্রেম সবকিছু চটকে পিষে
তুই শুধু কণ্ঠে নিস জীবনমন্থিত বিষ নীল-ই!
কে বলে অপরাজেয়, নারীর আকাশে তুই শারদীয় চাঁদ!
জোছনার অন্তরালে জলরঙে এঁকে গেলি পরাজিত প্রণয়ের বিমূর্ত বিষাদ।
Leave a Reply
Your identity will not be published.