“একজন ভালো শিক্ষক একটি মোমবাতির মতো—যিনি অন্যের জন্য পথ আলোকিত করতে নিজেকে নিঃশেষ করে দেন”—কামাল আতাতুর্কের এই উক্তিটি সদ্যপ্রয়াত আমাদের প্রিয় শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের সাথে ভয়াবহ রকমভাবে মিলে যায়। কেননা, এসএমআই স্যার তাঁর সারাটি জীবন শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য ব্যয় করেছেন, নিজের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ভেবেছেন, তাঁদের জন্য কাজ করে গেছেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করে শুধু শিক্ষক হিসেবে থাকতে চেষ্টা করেছেন। এসএমআই স্যার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাসহ অনেক উচ্চ সরকারি পদে নিয়োগের অনুরোধকে সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষকতাকে সবচেয়ে উপরে স্থান দিয়েছেন। শিক্ষকতার পেশাকে স্যার মনেপ্রাণে লালন করতেন, চর্চা করতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর অন্য বিভাগের বন্ধুরা প্রায়ই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (সিক স্যার) আর এসএমআই স্যারের ক্লাস করি কিনা জিজ্ঞেস করত। এসএমআই স্যারের সম্পর্কে অন্য ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের মাঝেও বেশ আগ্রহ কাজ করছিল। অনেকে তো আফসোস করে বলতেন, ইংরেজিতে কেন যে চান্স পেলাম না, পেলে তো স্যারের ক্লাস করতে পারতাম! এদিকে এসএমআই স্যার আমাদের রোমান্টিসিজম, শেক্সপিয়রের সনেট, হোমার, মডার্ন ও পোস্ট মডার্ন সাহিত্য, বস্তুবাদ, অস্তিত্ববাদ, সৌন্দর্যতত্ত্ব, এলিজি, সেভেন্টিন সেঞ্চুরি লিট্রেচারসহ অনেকগুলো কোর্স পড়াতেন। অত্যন্ত সাবলীলভাবে সকলের কাছে বোধগম্য করে স্যার ক্লাস নিতেন বলে স্যারের কোনো ক্লাস আমরা কখনোই মিস করতাম না। এসএমআই স্যার ক্লাসে কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়ানোর সময় অসংখ্য প্রাসঙ্গিক উদাহরণ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের লেখার সাথে তুলনা, ভিন্ন আঙ্গিকের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ, সাহিত্যের সাথে দর্শনের মিল-অমিলগুলো অত্যন্ত চমৎকার ভঙ্গিতে সহজভাবে বুঝিয়ে দিতেন। আমাদের কাছে প্রায় দুর্বোধ্য জন ডানের ‘মেটাফিজিক্যাল কবিতা,’ ইটিয়টের ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’, মিলারের ‘ডেথ অব এ সেলসম্যান’, আলবার্ট কামুর ‘দ্য আউটসাইডার’ এবং পোস্ট মডার্ন সাহিত্যের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আর চরিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে মনজু স্যার খুবই দরদ দিয়ে পড়াতেন, যেটা অন্য কোনো শিক্ষকের দ্বারা সম্ভব না। অনেক শিক্ষকরা শুধু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও মনজু স্যার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে গুরুত্ব দিতেন, মনোযোগ দিয়ে সবার কথা শুনতেন এবং যথাসম্ভব সমাধান দিতেন। এটাই সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের সৌন্দর্য।
তা ছাড়া, সাহিত্যের ওপর অগাধ পাণ্ডিত্য, সহজে বুঝানোর ক্ষমতা, মিথস্ক্রিয়া আর আধুনিক শিখন পদ্ধতির ব্যবহার এসএমআই স্যারের ক্লাসকে প্রাণবন্ত করে তুলত। পাঠ্যবইয়ের বইয়ের পাশাপাশি তিনি প্রায় প্রতিটি ক্লাসেই সাহিত্য, শিল্পকলা, রাজনীতি নিয়ে মুক্ত আলোচনা করতেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্যার আত্মপ্রত্যয়ী ও নৈর্ব্যক্তিক হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিতেন। এসএমআই স্যার ক্লাসে আমাদের সাহিত্য সমালোচনা, ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ ও আলাদা চিন্তা করার উপায় বাতলে দিতেন। কোন বিষয় নিয়ে সাধারণত আমরা যেভাবে ভাবতাম, স্যার ভাবতেন ঠিক উল্টো ভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে যা আমরা কখনোই চিন্তাও আনতে পারতাম না। পাশাপাশি, এসএমআই স্যারের শব্দচয়ন ও সেন্স অব হিউমার আমরা ভীষণ উপভোগ করতাম। এদিকে পাঠ্যবইয়ের নাটক, গল্প বা উপন্যাসগুলো বাস্তবিকভাবে উপভোগ করতে স্যার আমাদের ব্রিটিশ কাউন্সেল ও জার্মান কালচারাল সেন্টারে শেক্সপিয়রের নাটক বা থমাস হার্ডির ‘টেস অব দ্যা ডারবারভিল’ ইত্যাদি সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
প্রতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সময় কারা সাহিত্যে নোবেল পেতে পারেন তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকাসহ সমকালীন সাহিত্য নিয়ে মনজু স্যার ক্লাসে বিস্তর আলোচনা করতেন। তা ছাড়া সমকালীন সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ত্রিনিদাদীয় সাহিত্যিক ভি এস নাইপল, ব্রিটিশ নাট্যকার হ্যারল্ড পিন্টার, তুর্কি ঔপন্যাসিক ওরহান পামুকদের সাহিত্য নিয়ে স্যারের বিশ্লেষণাত্মক বক্তব্য বিশ্বসাহিত্যের প্রতি আমাদের অনুরাগ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। স্যারের দেখানো পথ অনুসরণ করে এখনো প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কে নোবেল পেতে যাচ্ছে সেটা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি। আমাদের সময়ে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ব্রিটিশ নারীবাদী লেখিকা ডোরিস লেসিংয়ের ‘দ্যা গ্রাস ইজ সিঙ্গিং’ উপন্যাসের সম্পর্কে এসএমআই স্যার আফসোস করে বলেছিলেন যে, ডোরিস লেসিং কেন যে এখনো নোবেল পেলেন না! আশ্চর্যের বিষয় হলো এর এক-দুই বছর পর ২০০৭ সালে সাতাশি বছর বয়সে ডোরিস লেসিং সবচেয়ে বয়স্ক নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল।
বর্তমানে অনেক লেখকরাই পুশসেলের মাধ্যমে নিজের লেখা বইয়ের প্রচার বা বিক্রি করে থাকেন যা মনজু স্যারের ক্ষেত্রে কখনোই প্রযোজ্য নয়। চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময় মনজু স্যারের ‘প্রেম ও প্রার্থনার গল্প’ (২০০৫) নামক একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হলেও স্যার কোনো দিনও তাঁর বই সম্পর্কে কিছু বলতেন না; বরং তিনি সব সময় নিজের বইয়ের ক্ষেত্রে প্রচারবিমুখই ছিলেন। এদিকে, শুধু নিজস্ব ভঙ্গিই নয়, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সমকালীন সকল শিক্ষকদের থেকে কথাবার্তা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ আর শব্দচয়নে সবচেয়ে স্মার্ট ও রুচিশীল। সদা কনট্রাস্ট কালারের গেবার্ডিনের প্যান্ট আর সুতি ফুল হাতা শার্ট (যদিও তিনি অধিকাংশ সময় শার্টের হাতা ফোল্ড করে রাখতেন) পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল ও স্টাইলিস্ট সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারকে আমরা এখনো ভীষণ রকম অনুকরণ করি।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের টিউটরিয়াল গ্রুপে থাকার কারণে স্যারের সাথে হৃদ্যতা একটু বেশি হয়েছিলে। সাধারণত টিউটরিয়াল গ্রুপে অল্প শিক্ষার্থী থাকে বলে পারস্পরিক আদান-প্রদান ভালো হয়। এদিকে, যতদূর মনে পড়ে ২০০২/০৩ সালের দিকে ডিপার্টমেন্টের পিকনিক এবং এলামনাই কর্তৃক আয়োজিত রিভারক্রুজের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকালে মনজু স্যারের সাথে আমার সখ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া, মাস্টার্সে লিঙ্গুইস্টিক্স বাদ দিয়ে লিট্রেচার নিয়ে পড়ব বলেই তো স্যারের সাথে আরও নিবিড়ভাবে মেশার সুযোগ হয়েছিল। তারপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে স্যারের সাথে নানান বিষয়ে কথা হয়েছে, তর্ক হয়েছে আর সেই তর্ক থেকেই অনেককিছুই শিখতে পেরেছি। বিভিন্ন সময়ে স্যারের সাথে পেশাগত বা রাষ্ট্রীয় অনেক প্রসঙ্গেই আলোচনা হতো। চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নকালে আমার অর্থায়নে ২০০৬ সালে শ্বেতপাথরে খোদাইকৃত একাত্তরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদদের তালিকা সংবলিত ফলক ডাকসু সংগ্রহশালার সামনে স্থাপনের সময় এসএমআই স্যারের বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েছিলাম। এছাড়া, চারুকলা, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, দৃক, জাতীয় জাদুঘরের চিত্রকলা প্রদর্শনীতে স্যার মাঝেমাঝে আমাকে নিয়ে যেতেন এবং অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন।
নানান কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপ্রেরণাদানকারী হিসেবে মনজু স্যারের জনপ্রিয়তা ছিল সত্যিকার অর্থেই ঈর্ষণীয়। ব্যক্তিগত, পেশাগত বা পারিবারিক অনেক সমস্যা সমাধানের জন্য অগণিত শিক্ষার্থীদের এস এম আই স্যারের শরণাপন্ন হতে দেখেছি। শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে স্যার সবাইকে প্রশ্ন করার জন্য উৎসাহিত করতেন। অপরদিকে, স্যারের জ্ঞান বিতরণের ক্ষমতা ছিল যেমন অসীম তেমনি শিক্ষার্থীদের মননে শেখার আগ্রহ তৈরি করার পদ্ধতিও ছিল অনন্য। স্যার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লান্তিহীনভাবে ক্লাস নিতেন এবং আমরা অপলক দৃষ্টিতে স্যারের ক্লাস উপভোগ করতাম। এসএমআই স্যার পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার বিষয়টিকে প্রাধান্য না দিয়ে সত্যিকারার্থে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন অনুধাবন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। কোনো বিষয়কে নানান আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের চিন্তার পরিধি বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করতেন। তা ছাড়া, বাংলায় কথা বলার সময় ইংরেজি শব্দের আশ্রয় নেয়াটা মনজু স্যারের কাছে ভীষণ অপছন্দের ছিল। এসএমআই স্যার কখনো বাংলার সাথে ইংরেজি বা ইংরেজির সাথে বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন না।
সত্যিকার অর্থে, মনজু স্যারের প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় দৈনিক পত্রিকায় নিবন্ধ লেখার বিষয়টি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে স্যারের কাছে আছে আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতাবোধ, যা আমি অনেক লেখায় উল্লেখও করেছি। আমার লেখা প্রকাশিত হলে সবার আগে আমি স্যারকে পাঠাতাম এবং স্যারের ফিডব্যাক নিতাম, যা ছিল আমার জন্য একটা পরম পাওয়া। এদিকে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের আগে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমি একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখন পদ্ধতি ও শিক্ষার ব্যবস্থাপনা একটু আলাদা হওয়ায় এসএমআই স্যার সে সময় আমাকে যে-কোনো পরিবেশে খাপ খাইয়ে চলার পরামর্শ দিতেন যা আমার পেশাগত জীবনকে আরও সহজ করে দিয়েছে। শুধু আমি না আমার মতো অসংখ্য শিক্ষার্থীদের স্যার নানান পরামর্শ, নির্দেশনা দিতেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতেন। এদিকে, নিরহংকারী, নির্লোভী, সদালাপী ও সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এসএমআই স্যার কখনো সরকারি কোনো প্রটোকল ব্যবহার করতে চাইতেন না। আমি এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন স্যারকে অনেকবার বলার পরেও কখনো স্যার ভিআইপি মর্যাদা নেন নি। তিনি সব সময় বলতেন, ‘আমি সাধারণ মানুষ; আমি সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতে চাই।’
একাডেমির বাইরে নানান ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব শিক্ষকদের অবাধ বিচরণ রয়েছে সেইসব শিক্ষকের মধ্যে সর্বাগ্রে যাঁর নাম চলে আসে তিনি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার ছাড়া আর কেউ নন। প্রায় সকল শ্রেণিপেশার লোকদের কাছে স্যারের পরিচিতির কারণে সরকারি-বেসরসারি চাকুরিতে অনেক শিক্ষার্থীরা মনজু স্যারের রেফারেন্স ব্যবহার করত। এ নিয়ে একটি ঘটনা সবার সাথে শেয়ার করছি যেটা স্যার আমাদের প্রায়ই বলতেন। কোনো এক প্রতিষ্ঠানের মালিক একটি নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা বোর্ড থেকে স্যারের কাছে জনৈক শাহীন নামের একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে জানতে চেয়েছিল যে, শাহীনের সততা ও আচরণ কেমন ? স্যার কোনো কিছু না ভেবেই বলেছিলেন, ‘শাহীন খুব ভালো ছেলে, আপনারা তাকে চাকুরি দিতে পারেন।’ স্যারের কথা শুনে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক স্যারকে জানালেন যে, শাহীন কোনো ছেলে না; শাহীন একজন মেয়ে। এটা শুনে স্যার তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, ‘ও মেয়ে শাহীনের কথা বলছেন, সে তো ছেলে শাহীনের চেয়েও শতগুণ ভালো—আপনারা নিশ্চিন্তে তাকে নিতে পারেন।’ এমন অনেক কাহিনি আর গল্পের মধ্য দিয়ে বুঝা যায় যে, স্যার শুধু শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করতেন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের মৃত্যুতে দেশ হয়তো একজন সাহিত্যিক, লেখক বা কলামিস্ট, চিত্রসমালোচককে হারালো, তবে আমরা হারালাম আমাদের পিতৃতুল্য অভিভাবক, পথপ্রদর্শক আর অন্যধারার সবচেয়ে প্রগতিশীল শিক্ষককে। স্যারের স্মৃতি আমাদের মননে থাকবে অমলিন, চিরদিন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার সদা জাগ্রত থাকবেন আমাদের অনুভব, চেতনা আর অনুভূতিতে।
Leave a Reply
Your identity will not be published.