জাতীয় জাদুঘরে  মাহবুব  সিদ্দিকীর নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জাতীয় জাদুঘরে  মাহবুব  সিদ্দিকীর নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন


গতকাল ২১ আগস্ট, বিকেলে, শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর নতুন গ্রন্থ ‘বাংলায় আফগান-মোগল অভিযান: বারো ভূঁইয়ার প্রতিরোধ’-এর মোড়ক উন্মোচন। প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদীর সভাপতিত্বে এখানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বইটির ওপর আলোচনা করেন স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক এবং প্রকাশক মঈনুল আহসান সাবের, প্রাবন্ধিক-গবেষক জাভেদ হুসেন, কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী, তরুণ গবেষক মেহেদী, সাবেক সচিব ও লেখক ড. মোহাম্মদ আলী খান এবং অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। উলেস্নখ্য, বইয়ের প্রকাশক দিব্যপ্রকাশ।
   
মঈনুল আহসান সাবের বলেন, ফজলুল লতিফ বলেছেন, মাহবুব সিদ্দিকী একজন দুর্ধর্ষ গবেষক। আমি বলবো তিনি গভীর, বিরাট গবেষক। 
জাভেদ হুসেন বলেন, মাহবুব সিদ্দিকীর আগ্রহের পরিধি ও বাপ্তি বিস্ময়কর। তিনি বিগত সময়ের স্মারক হয়ে আছেন। তাঁর কাজের যে ব্যাপ্তি,  নদী সম্পর্কে যে জ্ঞান তা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো কিছু নিয়ে লেগে পড়ে থাকা। কামনা করি, তিনি আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকুন, কীভাবে অধ্যয়ন করতে হয়।
শাহাবুদ্দীন নাগরী বলেন, সাবের এমনসব বই প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণত অন্যরা করতে চায় না। তাই লেখকের পাশাপাশি প্রকাশককেও ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, এই বই প্রকাশ করার জন্য।  
মেহেদী বলেন, বইটির শিরোনাম পড়লে মনে হবে, আফগান-মোগল যেন গলাগলি ধরে চলে এসেছে। আসলে তা নয়। সবাই বলে দুই বঙ্গের কথা। পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু ইতিহাস আরেক বঙ্গের কথাও বলে, উত্তরবঙ্গ। মাহবুব সিদ্দিকী সাহসী গবেষক। তাই এই বইটি নির্মোহভাবে পড়া যায়। তবে খাজা ওসমান সম্পর্কে আরেকটু বলা হলে পরিপূর্ণতা পেত।  তবু এই বইটি অসাধারণ তা বলতেই হবে।
ড. মোহাম্মদ আলী খান বলেন, চমৎকার বই। সুখপাঠ্য। অসাধারণ। তবে নির্ঘণ্ট নেই। পরে হয়তো পাওয়া যাবে। ঈশা খাঁকে নিয়ে যত হাইলাইট করা হয়েছে, অন্যদের সম্পর্কে ততটা নয়। তাঁর কবর কোথায়, জানা যায় নি। তবু এটি চিšত্মাপ্রসূত, গবেষণাধর্মী লেখা। মূল্যবান সংযোজন।  

মাহবুব সিদ্দিকী পুলিশ বিভাগে তাঁর চাকরি সম্পর্কে বলেন। বলেন এই চাকরি তাঁর জীবনে সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। মানুষ সম্পর্কে তাঁর প্রকৃত উপলব্ধি আসে তদšত্ম করতে গিয়ে। তিনি বলেন, “রাজশাহীতে ্একটি জায়গা রয়েছে, কুমারটুলি। সেখানে বয়ে চলেছে গঙ্গা মানে পদ্মা। ওই নদী দেখে আমার  নদী সম্পর্কে আগ্রহ জাগে। যশোরে বদলি হওয়ার পর সেখানে প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জানি। তাঁর সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচলিত। আসলে মানসিংহের সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের দেখা হয় নি। দেখা হয়েছে ইসলাম খাঁ'র। এই বইয়ে নানা গ্যাপ পূরণ করেছি আমি। অনেক অনালোচিত বিষয় তুলে ধরেছি।”

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, মাহবুব সিদ্দিকীর বইয়ের সংখ্যা ৩৫। বিস্ময়কর! তাঁর লেখার বিষয় হলো, নদী, পরিবেশ, ফলমূল, ধান ্ও ইতিহাস। তিনি বলেন, মোগলরা শুরুতে নৌযুদ্ধে দুর্বল ছিল। পরে তারা উপলব্ধি করেছিল, বাংলাকে পদানত করতে হলে নৌযুদ্ধে দক্ষ হতে হবে। এ জন্য তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বেশ কয়েকটি ব্রিজ বানায়।... বইয়ে নির্ঘণ্ট নেই, এ কথা আগেই বলা হয়েছে। এছাড়া সহায়ক বইয়ের তালিকা থাকতে পারত, গুরুত্ব অনুযায়ী। প্রচুর বানান ভুল। তারপরেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বই।
সভাপতির বক্তব্যে আন্দালিব রাশদী বলেন, এই বই পড়ে আমরা নতুন করে উপলব্ধি করবো, হিস্টোরিক্যাল ফ্যাক্ট ও হিস্টোরিক্যাল ন্যারেটিভ এক নয়। আরো অনুভব করবো, এটি ভিন্নধর্মী বই।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন প্রথিতযশা গবেষক, লেখক এবং বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your identity will not be published.