নিউইয়র্কের ট্যাক্সিওয়ালা (পর্ব ১৮)

নিউইয়র্কের ট্যাক্সিওয়ালা (পর্ব ১৮)

[এই ধারাবাহিকটির লেখক তানকিউল হাসান, আর্থিক অনটন থেকে মুক্তির আশায় নিউইয়র্কের রাস্তায় শুরু করেছিলেন ট্যাক্সি চালানো। সেই সময় তিনি মুখোমুখি হন বিচিত্র অভিজ্ঞতার। সেইসব ঘটনাই ফুটে উঠেছে এই ধারাবাহিক রচনায়। আজ পড়ুন ১৮তম পর্ব।]

প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব  তৃতীয় পর্ব  চতুর্থ পর্ব  পঞ্চম পর্ব 

ষষ্ঠ পর্ব সপ্তম পর্ব অষ্টম পর্ব নবম পর্ব দশম পর্ব 

পর্ব ১১ পর্ব ১২ পর্ব ১৩ পর্ব ১৪ পর্ব ১৫ পর্ব ১৬ পর্ব ১৭

লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শেষ করছি অদ্ভুত এক ঘটনা দিয়ে। অবশ্য এটা ঠিক ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউেন্’-এর আওতায় পড়ে না। যাই হোক, তখন শীতের সময়। খুব সম্ভব জানুয়ারি মাস। বছরের এই সময়টাতে নিউ ইয়র্কে প্রচণ্ড শীত পড়ে। আমি কয়েক প্রস্ত কাপড় পরেছি এবং তার উপর পরেছি ভারী জ্যাকেট, হাতমোজা, উলের ক্যাপ আর পায়ে স্নো বুট। তাপমাত্রা সেদিন ছিল হিমাংকের নিচে। গাড়িতে হিটার ক্রমাগত চলছে। একসময় লক্ষ্য করে দেখলাম কিছুটা গরম লাগছে। ভাবলাম জ্যাকেটটা খুলে ফেলি, জ্যাকেট খুলে গাড়ির পেছনের জানালার হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলাম। শনিবার রাত ছিল। ব্যাব ড্রাইভারদের চান রাত। ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারলে তিন সাড়ে তিনশ’ ডলার নিজের জন্য কামানো যাবে।

ভোর পাঁচটা পর্যন্ত কাজ করলাম। প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসার পথে রওনা হয়েছি। এখন আমাকে গাড়িতে তেল ভরতে হবে, গাড়ির ভেতরটা পরিষ্কার করতে হবে। তেল ভরার উদ্দেশ্যে পেট্রোলপাম্পে নেমেছি। তখন প্রচণ্ড বাতাস বইছে। ভাবলাম জ্যাকেটটা পরে ফেলি কারণ হালকা স্যুয়েটার পরে বাইরে দাঁড়িয়ে গাড়িতে পেট্রোল ভরা প্রায় অসম্ভব। শীতে জমেই মারা যাবো। পেছনের সিটের দরজা খুলে জ্যাকেট বের করতে যাব দেখি আমার জ্যাকেট হাওয়া। আমি হতভম্ব। জ্যাকেট কোথায় গেল। আমার গাড়িতে সবসময় ছোট্ট টর্চ থাকে সেটি জ্বালালাম এবং দেখলাম জ্যাকেট নেই তবে একশ’ ডলারের একটি নোট পরে আছে সাথে ছোট্ট চিরকুট।  চিরকুটটি ইংরেজিতে লেখা- যার বাংলা অর্থ অনেকটা এমন—

‘প্রিয় ড্রাইভার সাহেব, আজ প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছে ওদিকে আমি বাসা থেকে জ্যাকেট ছাড়াই বের হয়েছি। শীতে আমার প্রায় জমে যাওয়ার অবস্থা। আমি তোমার জ্যাকেটটি তোমার অজান্তেই নিয়ে গেলাম। আশা করি, বিষয়টা তুমি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে! জ্যাকেটের মূল্য হিসেবে একশ’ ডলার রেখে গেলাম। শুভরাত্রি।’

আমি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার জ্যাকেট চার বছরের পুরোনা, মূল্য ষাট ডলার। কী আর করা! গাড়িতে তেল ভরে হাড়কাঁপা শীতে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরলাম।

(চলবে…)

Leave a Reply

Your identity will not be published.